قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১)

আলম এম.আলম এম.৪ অক্টোবর, ২০২৬
ঐশী বাণীমালা • পর্ব ১ • ১–৩০ তম ঐশী অনুশাসন

‘قُلْ’ (বলুন) — সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান (১ থেকে ৩০ তম ঐশী অনুশাসন)

মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর উম্মত বা পথভ্রষ্টদের উদ্দেশ্যে কোনো সত্য প্রকাশ বা নির্দেশ করতে চেয়েছেন, তখনই এসেছে এই অমোঘ আদেশ—‘قُلْ’ (বলুন)। এই প্রথম পর্বে সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরানের প্রথম ৩০টি ঐশী অনুশাসন সংকলিত হয়েছে।

📋 পর্ব-১-এর দ্রুত পাঠ সূচিপত্র (১–৩০)

মোট ৩০টি ঐশী নির্দেশনা
ক্রমিক সূরা ও আয়াত আরবি বাণী (قُلْ) বাংলা অর্থ
১ সূরা আল-বাকারা ২:৮০ وَقَالُوا۟ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامًۭا مَّعْدُودَةًۭ ۚ قُلْ أَتَّخَذْتُمْ ع... তারা বলে, ‘গুটি কয়েক দিন ছাড়া আগুন কক্ষনো আমাদেরকে স্পর্শ করবে না’। বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর নিকট হতে প্রতিশ্রুতি...
২ সূরা আল-বাকারা ২:৯১ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَ... আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে ঈমান আন’; তারা বলে, ‘আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে...
৩ সূরা আল-বাকারা ২:৯৩ وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَـٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَـٰكُم... স্মরণ কর, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তূর পর্বতকে তোমাদের ঊর্ধ্বে তুলেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘যা দিলাম তা দৃঢ়রূ...
৪ সূরা আল-বাকারা ২:৯৪ قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلْـَٔاخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنَّاس... বল, ‘যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, য...
৫ সূরা আল-বাকারা ২:৯৭ قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ ٱللَّ... তুমি ঘোষণা করো—'যে কেউ জিবরীলের (আল্লাহর পরম আদেশ ও ওহী ট্র্যান্সমিট করার প্রধান তথ্য-বাহক ফ্রিকোয়েন্সি) প্রতি...
৬ সূরা আল-বাকারা ২:১১১ وَقَالُوا۟ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَان... তারা বলে, ইয়াহূদী এবং নাসারাগণ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, ওটা তাদের আকাঙ্ক্ষা মাত্র। বল, ‘যদি তোম...
৭ সূরা আল-বাকারা ২:১২০ وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَـٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إ... ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো...
৮ সূরা আল-বাকারা ২:১৩৫ وَقَالُوا۟ كُونُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ تَهْتَدُوا۟ ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِـۧمَ ح... ওরা বলে, ‘তোমরা ইয়াহূদী বা নাসারা হয়ে যাও তাহলে সঠিক পথ পাবে’। বল, ‘বরং একনিষ্ঠ হয়ে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ...
৯ সূরা আল-বাকারা ২:১৩৯ قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِى ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَآ أَعْمَـٰلُنَا وَلَ... বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর সম্বন্ধে আমাদের সাথে ঝগড়া করছ? অথচ তিনি আমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমা...
১০ সূরা আল-বাকারা ২:১৪০ أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَٰهِـۧمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاط... তোমরা কি বলছ, ইবরাহীম ও ইসমাঈল এবং ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তার বংশধর সকলেই ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ছিল’? বল,‘ তোমরাই ব...
১১ সূরা আল-বাকারা ২:১৪২ ۞ سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ ٱلَّتِى كَانُوا۟... শীঘ্রই এ নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের সেই ক্বিবলা হতে যা তারা অনুসরণ করে আসছিল। বল, পূর্ব এব...
১২ সূরা আল-বাকারা ২:১৮৯ ۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِىَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ... লোকেরা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বল, তা মানুষের ও হাজ্জের জন্য সময় নির্ধারক। তোমরা যে গৃহের পেছন...
১৩ সূরা আল-বাকারা ২:২১৫ يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَآ أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍۢ فَلِلْوَٰلِدَيْنِ وَ... তোমাকে লোকে জিজ্ঞেস করছে, তারা কী ব্যয় করবে? বলে দাও, সৎকাজে যা-ই ব্যয় কর, তা তোমাদের মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয়,...
১৪ সূরা আল-বাকারা ২:২১৭ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ قِتَالٍۢ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌۭ فِيهِ كَبِيرٌۭ ۖ و... পবিত্র মাসে লড়াই করা সম্বন্ধে তোমাকে তারা জিজ্ঞেস করছে। বল, এতে যুদ্ধ করা ভয়ঙ্কর গুনাহ। পক্ষান্তরে আল্লাহর পথ...
১৫ সূরা আল-বাকারা ২:২১৯ (১ম ‘ক্বুল’) ۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌۭ كَبِيرٌۭ وَمَنَـٰفِ... তোমাকে লোকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘ঐ দু’টোতে আছে ভয়ঙ্কর গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু এ...
১৬ সূরা আল-বাকারা ২:২১৯ (২য় ‘ক্বুল’) ۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌۭ كَبِيرٌۭ وَمَنَـٰفِ... তোমাকে লোকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘ঐ দু’টোতে আছে ভয়ঙ্কর গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু এ...
১৭ সূরা আল-বাকারা ২:২২০ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْيَتَـٰمَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌۭ لَّ... দুনিয়া এবং আখিরাত সম্বন্ধে। আরও তারা তোমাকে ইয়াতীমদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে; বল, ‘তাদের উপকার করা উত্তম’ এবং য...
১৮ সূরা আল-বাকারা ২:২২২ وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًۭى فَٱعْتَزِلُوا۟ ٱلنِّسَآءَ فِى ٱلْمَحِ... লোকেরা তোমাকে ঋতু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘তা অশুচি’। কাজেই ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাক এবং যে পর্যন্...
১৯ সূরা আলে ইমরান ৩:১২ قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ ۚ وَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ١٢ যারা কুফরী করে তাদেরকে বলে দাও, ‘তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে আর তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকানো হবে, ওটা কতই না...
২০ সূরা আলে ইমরান ৩:১৫ ۞ قُلْ أَؤُنَبِّئُكُم بِخَيْرٍۢ مِّن ذَٰلِكُمْ ۚ لِلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ عِندَ رَبِّهِمْ جَن... বল, আমি কি তোমাদেরকে এ সব হতেও অতি উত্তম কোন কিছুর সংবাদ দেব? যারা মুত্তাকী তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট...
২১ সূরা আলে ইমরান ৩:২০ (১ম ‘ক্বুল’) فَإِنْ حَآجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِىَ لِلَّهِ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِ ۗ وَقُل لِّلَّذِينَ... অতঃপর যদি (আহলে কিতাব) তোমার সাথে তর্ক করে তবে বলে দাও, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি আর আমার অনুসারীগণও...
২২ সূরা আলে ইমরান ৩:২০ (২য় ‘ক্বুল’) فَإِنْ حَآجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِىَ لِلَّهِ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِ ۗ وَقُل لِّلَّذِينَ... অতঃপর যদি (আহলে কিতাব) তোমার সাথে তর্ক করে তবে বলে দাও, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি আর আমার অনুসারীগণও...
২৩ সূরা আলে ইমরান ৩:২৬ قُلِ ٱللَّهُمَّ مَـٰلِكَ ٱلْمُلْكِ تُؤْتِى ٱلْمُلْكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلْمُلْكَ مِمّ... বল, ‘হে আল্লাহ! তুমি সমুদয় রাজ্যের মালিক, যাকে ইচ্ছে রাজ্য দান কর আর যার থেকে ইচ্ছে রাজ্য কেড়ে নাও এবং যাকে ইচ...
২৪ সূরা আলে ইমরান ৩:২৯ قُلْ إِن تُخْفُوا۟ مَا فِى صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ ٱللَّهُ ۗ وَيَعْلَمُ مَا... বল, ‘তোমরা তোমাদের অন্তরের বিষয়কে গোপন কর অথবা প্রকাশ কর, আল্লাহ তা জানেন, আর তিনি জানেন যা কিছু আকাশসমূহে এবং...
২৫ সূরা আলে ইমরান ৩:৩১ قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ... বলে দাও, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা...
২৬ সূরা আলে ইমরান ৩:৩২ قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْكَ... বল, ‘তোমরা আল্লাহর ও রসূলের আজ্ঞাবহ হও’। অতঃপর যদি তারা না মানে, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।
২৭ সূরা আলে ইমরান ৩:৬১ فَمَنْ حَآجَّكَ فِيهِ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا۟ نَدْعُ أ... অতঃপর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক করে, তাকে বলো, ‘এসো, আমরা ডেকে নিই আমাদের...
২৮ সূরা আলে ইমরান ৩:৬৪ قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ كَلِمَةٍۢ سَوَآءٍۭ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ... বলো, ‘হে কিতাবধারীগণ! এসো এমন এক কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান—যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করব না, ত...
২৯ সূরা আলে ইমরান ৩:৭৩ (১ম ‘ক্বুল’) وَلَا تُؤْمِنُوٓا۟ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ ٱلْهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُ... ‘এবং তোমাদের দ্বীনের অনুসারী ছাড়া আর কাউকেও বিশ্বাস করো না। তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহর (নির্দেশিত) পথই একমাত্র প...
৩০ সূরা আলে ইমরান ৩:৭৩ (২য় ‘ক্বুল’) وَلَا تُؤْمِنُوٓا۟ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ ٱلْهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُ... ‘এবং তোমাদের দ্বীনের অনুসারী ছাড়া আর কাউকেও বিশ্বাস করো না। তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহর (নির্দেশিত) পথই একমাত্র প...
১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:৮০

وَقَالُوا۟ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامًۭا مَّعْدُودَةًۭ ۚ قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ ٱللَّهِ عَهْدًۭا فَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ عَهْدَهُۥٓ ۖ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٨٠ ۝

“তারা বলে, ‘গুটি কয়েক দিন ছাড়া আগুন কক্ষনো আমাদেরকে স্পর্শ করবে না’। বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছো যে প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ভঙ্গ করবেন না? কিংবা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না’।”
📌 তাদাব্বুর: পরকালীন শাস্তির বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাসের বিপরীতে জবাবদিহিতা ও অকাট্য প্রমাণের দাবি।
২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:৯১

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَآءَهُۥ وَهُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَهُمْ ۗ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنۢبِيَآءَ ٱللَّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٩١ ۝

“আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে ঈমান আন’; তারা বলে, ‘আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আমরা বিশ্বাস করি’। অথচ পরবর্তী কিতাবকে (কুরআনকে) তারা প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তা সত্য এবং যা তাদের নিকট আছে তার সমর্থক। বল, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে তবে কেন তোমরা পূর্বে নাবীদেরকে হত্যা করেছিলে’?”
📌 তাদাব্বুর: মৌখিক ঈমানের দাবির বিপরীতে অতীত ইতিহাসের অপরাধ ও স্ববিরোধিতার জবাবদিহি।
৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:৯৩

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَـٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَـٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱسْمَعُوا۟ ۖ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ ۚ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُم بِهِۦٓ إِيمَـٰنُكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٩٣ ۝

“স্মরণ কর, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তূর পর্বতকে তোমাদের ঊর্ধ্বে তুলেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘যা দিলাম তা দৃঢ়রূপে ধারণ কর এবং শ্রবণ কর’। তারা বলেছিল, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম। কুফুরীর কারণে তাদের অন্তরে গো-বৎস-প্রীতি শিকড় গেড়ে বসেছিল। বল, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তবে তোমাদের বিশ্বাস যার নির্দেশ দেয়, তা কতই না নিকৃষ্ট’!”
📌 তাদাব্বুর: ভ্রান্ত বিশ্বাস ও গোঁড়ামির তীব্র সমালোচনা—যে বিশ্বাস অন্যায় ও অবাধ্যতার দিকে পরিচালিত করে তা খাঁটি ঈমান নয়।
৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:৯৪

قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلْـَٔاخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٩٤ ۝

“বল, ‘যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক’।”
📌 তাদাব্বুর: একচেটিয়া জান্নাত দাবির অসারতা প্রমাণ—সত্যবাদী হলে মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কথা নয়।
৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:৯৭

قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ٩٧ ۝

“তুমি ঘোষণা করো—'যে কেউ জিবরীলের (আল্লাহর পরম আদেশ ও ওহী ট্র্যান্সমিট করার প্রধান তথ্য-বাহক ফ্রিকোয়েন্সি) প্রতি শত্রুতা বা সিস্টেমিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করবে, সে যেন জেনে রাখে—নিশ্চয়ই সে আল্লাহর অনুমোদনে এই পরম কোড তোমার হৃদয়ে ডাউনলিঙ্ক করেছে; যা পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের মূল সমীকরণকে সত্যায়ন করে এবং বিশ্বাসীদের জন্য জীবনপথ ও সাফল্যের সুসংবাদ।”
📌 তাদাব্বুর: ফেরেশতাকুলের অন্যতম জিবরীল (আ.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ প্রকৃতপক্ষে ওহী ও আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ।
৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১১১

وَقَالُوا۟ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ ۗ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ١١١ ۝

“তারা বলে, ইয়াহূদী এবং নাসারাগণ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, ওটা তাদের আকাঙ্ক্ষা মাত্র। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে নিজেদের দলীল পেশ কর’।”
📌 তাদাব্বুর: সত্যতা ও মুক্তির দাবিতে মৌখিক অহমিকা নয়, বরং সুস্পষ্ট প্রমাণ ও দলিল পেশ করাই বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড।
৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১২০

وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَـٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلْهُدَىٰ ۗ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم بَعْدَ ٱلَّذِى جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا نَصِيرٍ ١٢٠ ۝

“ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি যদি জ্ঞান আসার পরেও এদের ইচ্ছে অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না’।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহর হেদায়েতই একমাত্র চিরন্তন পথপ্রদর্শন; সৃষ্টির সন্তুষ্টির পেছনে ছুটে স্রষ্টার পথ বিসর্জন দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১৩৫

وَقَالُوا۟ كُونُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ تَهْتَدُوا۟ ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِـۧمَ حَنِيفًۭا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٣٥ ۝

“ওরা বলে, ‘তোমরা ইয়াহূদী বা নাসারা হয়ে যাও তাহলে সঠিক পথ পাবে’। বল, ‘বরং একনিষ্ঠ হয়ে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্গত ছিলেন না’।”
📌 তাদাব্বুর: সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ইব্রাহীম (আ.)-এর আদি, খাঁটি ও নিষ্কলুষ একত্ববাদের পথই চিরন্তন মুক্তির সোপান।
৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১৩৯

قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِى ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَآ أَعْمَـٰلُنَا وَلَكُمْ أَعْمَـٰلُكُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُخْلِصُونَ ١٣٩ ۝

“বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর সম্বন্ধে আমাদের সাথে ঝগড়া করছ? অথচ তিনি আমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমাদের জন্য আমাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ।’”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহর রবুবিয়্যাত সর্বজনীন—অনর্থক ধর্মীয় বিতর্কের চেয়ে আল্লাহর প্রতি খাঁটি নিষ্ঠা এবং সৎ আমলই মূল বিষয়।
১০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১৪০

أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَٰهِـۧمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطَ كَانُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ ۗ قُلْ ءَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ ٱللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَـٰدَةً عِندَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ١٤٠ ۝

“তোমরা কি বলছ, ইবরাহীম ও ইসমাঈল এবং ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তার বংশধর সকলেই ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ছিল’? বল,‘ তোমরাই বেশী জান নাকি আল্লাহ’? ঐ ব্যক্তি হতে বড় যালিম আর কে হবে, যে আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সাক্ষ্যকে গোপন করে? তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে গাফিল নন।”
📌 তাদাব্বুর: ইতিহাসের বিকৃতি ও মনগড়া ব্যাখ্যার মুখে আল্লাহর সর্বজ্ঞাত জ্ঞানের পরম শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা।
১১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১৪২

۞ سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ ٱلَّتِى كَانُوا۟ عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ١٤٢ ۝

“শীঘ্রই এ নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের সেই ক্বিবলা হতে যা তারা অনুসরণ করে আসছিল। বল, পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছে সরল পথ প্রদর্শন করেন।”
📌 তাদাব্বুর: কোনো দিক বা স্থান নিজ গুণে পবিত্র নয়; আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং নিঃশর্ত আনুগত্যই ইবাদতের প্রাণ।
১২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:১৮৯

۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِىَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ ٱلْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَـٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَٰبِهَا ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ١٨٩ ۝

“লোকেরা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বল, তা মানুষের ও হাজ্জের জন্য সময় নির্ধারক। তোমরা যে গৃহের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে কোন পুণ্য নেই, বরং পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে, কাজেই তোমরা (সদর) দরজাগুলো দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর এবং আল্লাহ্কে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”
📌 তাদাব্বুর: মহাজাগতিক সৃষ্টির বাস্তব ও কল্যাণকর উপযোগিতা—সময় ও ইবাদতের ক্যালেন্ডার হিসেবে চাঁদের গতিবিধির গুরুত্ব।
১৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:২১৫

يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَآ أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍۢ فَلِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌۭ ٢١٥ ۝

“তোমাকে লোকে জিজ্ঞেস করছে, তারা কী ব্যয় করবে? বলে দাও, সৎকাজে যা-ই ব্যয় কর, তা তোমাদের মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম ও অভাবগ্রস্ত মুসাফিরদের প্রাপ্য। তোমরা যা কিছু সৎ কাজ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত।”
📌 তাদাব্বুর: দানের অগ্রাধিকার তালিকা—পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের হক আদায়ের মাধ্যমেই সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
১৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:২১৭

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ قِتَالٍۢ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌۭ فِيهِ كَبِيرٌۭ ۖ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَكُفْرٌۢ بِهِۦ وَٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِۦ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ ٱللَّهِ ۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ ٱلْقَتْلِ ۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَـٰتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ ٱسْتَطَـٰعُوا۟ ۚ وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌۭ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَـٰلُهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ٢١٧ ۝

“পবিত্র মাসে লড়াই করা সম্বন্ধে তোমাকে তারা জিজ্ঞেস করছে। বল, এতে যুদ্ধ করা ভয়ঙ্কর গুনাহ। পক্ষান্তরে আল্লাহর পথ হতে বাধা দান, আল্লাহর সঙ্গে কুফুরী, কা‘বা গৃহে যেতে বাধা দেয়া এবং তাত্থেকে তার বাসিন্দাদেরকে বের করে দেয়া আল্লাহর নিকট তার চেয়ে অধিক অন্যায়। ফিতনা হত্যা হতেও গুরুতর অন্যায়। যদি তাদের সাধ্যে কুলায় তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন হতে ফিরিয়ে না দেয় এবং তোমাদের যে কেউ নিজের দ্বীন হতে ফিরে যায়, অতঃপর সেই ব্যক্তি কাফির অবস্থায় মারা যায়, তবে এমন লোকের কর্ম দুনিয়াতে এবং আখেরাতে ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর এরা অগ্নিবাসী, চিরকালই তাতে থাকবে।”
📌 তাদাব্বুর: পবিত্র মাসের মর্যাদা যেমন ভারী, তেমনি সত্যের পথ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়া এবং নির্যাতন চালানো তার চেয়েও বড় অপরাধ।
১৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:২১৯ (১ম ‘ক্বুল’)

۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌۭ كَبِيرٌۭ وَمَنَـٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ ٱلْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ٢١٩ ۝

“তোমাকে লোকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘ঐ দু’টোতে আছে ভয়ঙ্কর গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু এ দু’টোর পাপ এ দু’টোর উপকার অপেক্ষা অধিক’। তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কী তারা ব্যয় করবে? বল, ‘যা উদ্বৃত্ত’। এভাবে আল্লাহ তোমাদের প্রতি আদেশাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।”
📌 তাদাব্বুর: সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে বিবেকবোধের জাগরণ—পার্থিব ক্ষণস্থায়ী লাভের চেয়ে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেশি।
১৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:২১৯ (২য় ‘ক্বুল’)

۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌۭ كَبِيرٌۭ وَمَنَـٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ ٱلْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ٢١٩ ۝

“তোমাকে লোকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘ঐ দু’টোতে আছে ভয়ঙ্কর গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু এ দু’টোর পাপ এ দু’টোর উপকার অপেক্ষা অধিক’। তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কী তারা ব্যয় করবে? বল, ‘যা উদ্বৃত্ত’। এভাবে আল্লাহ তোমাদের প্রতি আদেশাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।”
📌 তাদাব্বুর: সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে বিবেকবোধের জাগরণ—পার্থিব ক্ষণস্থায়ী লাভের চেয়ে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেশি।
১৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:২২০

فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْيَتَـٰمَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌۭ لَّهُمْ خَيْرٌۭ ۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَٰنُكُمْ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ ٱلْمُفْسِدَ مِنَ ٱلْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ٢٢٠ ۝

“দুনিয়া এবং আখিরাত সম্বন্ধে। আরও তারা তোমাকে ইয়াতীমদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে; বল, ‘তাদের উপকার করা উত্তম’ এবং যদি তাদের সঙ্গে তোমরা একত্রে থাক, তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই। বস্তুতঃ আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী আর কে কল্যাণকামী এবং আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন, নিশ্চয়ই এ বিষয়ে তোমাদেরকে কঠোরতার মধ্যে নিক্ষেপ করতেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।”
📌 তাদাব্বুর: পিতৃহীন অসহায় এতিমদের অধিকার সংরক্ষণ—তাদের সম্পদ আত্মসাৎ না করে আন্তরিক ভাই হিসেবে কল্যাণের দায়িত্ব নেওয়া।
১৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-বাকারা ২:২২২

وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًۭى فَٱعْتَزِلُوا۟ ٱلنِّسَآءَ فِى ٱلْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلْمُتَطَهِّرِينَ ٢٢٢ ۝

“লোকেরা তোমাকে ঋতু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘তা অশুচি’। কাজেই ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাক এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। তারপর যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের সঙ্গে সহবাস কর, যেভাবে আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাহ্কারীদেরকে ভালবাসেন আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরকেও ভালবাসেন।”
📌 তাদাব্বুর: শারীরিক সুস্থতা, পবিত্রতা ও পারিবারিক জীবনে পারস্পরিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুস্পষ্ট বিধান।
১৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:১২

قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ ۚ وَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ١٢ ۝

“যারা কুফরী করে তাদেরকে বলে দাও, ‘তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে আর তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকানো হবে, ওটা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থান’!”
📌 তাদাব্বুর: সত্যের চূড়ান্ত বিজয়ের ঐতিহাসিক ভবিষ্যৎবাণী—অহংকারী শক্তির আপাত দাপট শীঘ্রই পরাভূত হতে বাধ্য।
২০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:১৫

۞ قُلْ أَؤُنَبِّئُكُم بِخَيْرٍۢ مِّن ذَٰلِكُمْ ۚ لِلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّـٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَٰجٌۭ مُّطَهَّرَةٌۭ وَرِضْوَٰنٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِٱلْعِبَادِ ١٥ ۝

“বল, আমি কি তোমাদেরকে এ সব হতেও অতি উত্তম কোন কিছুর সংবাদ দেব? যারা মুত্তাকী তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট এমন বাগান রয়েছে, যার নিম্নে নদী প্রবাহিত, তারা তাতে চিরকাল থাকবে আর রয়েছে পবিত্র সঙ্গী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি, বস্তুতঃ আল্লাহ বান্দাগণের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।”
📌 তাদাব্বুর: ক্ষণস্থায়ী পার্থিব মোহের চেয়ে খোদাভীরুদের জন্য সংরক্ষিত চিরস্থায়ী জান্নাত ও রবের সন্তুষ্টিই শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
২১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:২০ (১ম ‘ক্বুল’)

فَإِنْ حَآجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِىَ لِلَّهِ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِ ۗ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْأُمِّيِّـۧنَ ءَأَسْلَمْتُمْ ۚ فَإِنْ أَسْلَمُوا۟ فَقَدِ ٱهْتَدَوا۟ ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ ٱلْبَلَـٰغُ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِٱلْعِبَادِ ٢٠ ۝

“অতঃপর যদি (আহলে কিতাব) তোমার সাথে তর্ক করে তবে বলে দাও, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি আর আমার অনুসারীগণও আত্মসমর্পণ করেছে এবং আহলে কিতাব ও উম্মীগণকে বল, ‘তোমরা কি আত্মসমর্পণ করেছ’? অতঃপর যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে নিশ্চয়ই তারা পথ পাবে আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব শুধু প্রচার করা। আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।”
📌 তাদাব্বুর: বিতর্ক পরিহার করে আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মনিবেদন—যুক্তি প্রদর্শনের পর আন্তরিক সমর্পণই হেদায়াত।
২২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:২০ (২য় ‘ক্বুল’)

فَإِنْ حَآجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِىَ لِلَّهِ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِ ۗ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْأُمِّيِّـۧنَ ءَأَسْلَمْتُمْ ۚ فَإِنْ أَسْلَمُوا۟ فَقَدِ ٱهْتَدَوا۟ ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ ٱلْبَلَـٰغُ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِٱلْعِبَادِ ٢٠ ۝

“অতঃপর যদি (আহলে কিতাব) তোমার সাথে তর্ক করে তবে বলে দাও, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি আর আমার অনুসারীগণও আত্মসমর্পণ করেছে এবং আহলে কিতাব ও উম্মীগণকে বল, ‘তোমরা কি আত্মসমর্পণ করেছ’? অতঃপর যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে নিশ্চয়ই তারা পথ পাবে আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব শুধু প্রচার করা। আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।”
📌 তাদাব্বুর: বিতর্ক পরিহার করে আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মনিবেদন—যুক্তি প্রদর্শনের পর আন্তরিক সমর্পণই হেদায়াত।
২৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:২৬

قُلِ ٱللَّهُمَّ مَـٰلِكَ ٱلْمُلْكِ تُؤْتِى ٱلْمُلْكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلْمُلْكَ مِمَّن تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَآءُ ۖ بِيَدِكَ ٱلْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٢٦ ۝

“বল, ‘হে আল্লাহ! তুমি সমুদয় রাজ্যের মালিক, যাকে ইচ্ছে রাজ্য দান কর আর যার থেকে ইচ্ছে রাজ্য কেড়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছে সম্মানিত কর আর যাকে ইচ্ছে অপদস্থ কর, তোমারই হাতে সব রকম কল্যাণ, নিশ্চয়ই তুমি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান’।”
📌 তাদাব্বুর: ক্ষমতার একক মালিকানা আল্লাহর—সম্মান, প্রতাপ ও শাসনক্ষমতা একমাত্র তাঁরই ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
২৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:২৯

قُلْ إِن تُخْفُوا۟ مَا فِى صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ ٱللَّهُ ۗ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٢٩ ۝

“বল, ‘তোমরা তোমাদের অন্তরের বিষয়কে গোপন কর অথবা প্রকাশ কর, আল্লাহ তা জানেন, আর তিনি জানেন যা কিছু আকাশসমূহে এবং ভূভাগে আছে; আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান’।”
📌 তাদাব্বুর: অন্তরের গহীনে লুকানো নিয়ত ও ভাবনার ওপর আল্লাহর সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পরম জ্ঞান।
২৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:৩১

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٣١ ۝

“বলে দাও, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা করবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহর ভালোবাসার একমাত্র বাস্তব মাপকাঠি—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শের একনিষ্ঠ অনুগমন।
২৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:৩২

قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْكَـٰفِرِينَ ٣٢ ۝

“বল, ‘তোমরা আল্লাহর ও রসূলের আজ্ঞাবহ হও’। অতঃপর যদি তারা না মানে, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।”
📌 তাদাব্বুর: আনুগত্যের অনিবার্য বাধ্যবাধকতা—আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা কুফরি ও অভিশপ্ত পরিণামের কারণ।
২৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:৬১

فَمَنْ حَآجَّكَ فِيهِ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا۟ نَدْعُ أَبْنَآءَنَا وَأَبْنَآءَكُمْ وَنِسَآءَنَا وَنِسَآءَكُمْ وَأَنفُسَنَا وَأَنفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَل لَّعْنَتَ ٱللَّهِ عَلَى ٱلْكَـٰذِبِينَ ٦١ ۝

“অতঃপর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক করে, তাকে বলো, ‘এসো, আমরা ডেকে নিই আমাদের সন্তানদের ও তোমাদের সন্তানদের, আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের; তারপর আমরা বিনীত প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ) বর্ষণ করি’।”
📌 তাদাব্বুর: সত্যের পক্ষে অবিচল অবস্থান এবং হঠকারী বিরোধিতার মুখে পরম রবের সমীপে যৌথ আত্মনিবেদন (মুবাহালা)।
২৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:৬৪

قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ كَلِمَةٍۢ سَوَآءٍۭ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا ٱللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِۦ شَيْـًۭٔا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًۭا مِّن دُونِ ٱللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَقُولُوا۟ ٱشْهَدُوا۟ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ٦٤ ۝

“বলো, ‘হে কিতাবধারীগণ! এসো এমন এক কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান—যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না’। তারপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম (আল্লাহর অনুগত)’।”
📌 তাদাব্বুর: ধর্মীয় সংলাপের অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম—এক আল্লাহর বন্দেগি ও মানুষ কর্তৃক মানুষের প্রভুত্ব বর্জন।
২৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:৭৩ (১ম ‘ক্বুল’)

وَلَا تُؤْمِنُوٓا۟ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ ٱلْهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُؤْتَىٰٓ أَحَدٌۭ مِّثْلَ مَآ أُوتِيتُمْ أَوْ يُحَآجُّوكُمْ عِندَ رَبِّكُمْ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْفَضْلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ٧٣ ۝

“‘এবং তোমাদের দ্বীনের অনুসারী ছাড়া আর কাউকেও বিশ্বাস করো না। তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহর (নির্দেশিত) পথই একমাত্র পথ; (এবং এটা আল্লাহর নীতি যে) একদিন তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছিল তা-ই অন্য কাউকে দেয়া হবে অথবা অন্য লোকেরা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে পেশ করার জন্য মযবুত প্রমাণ পেয়ে যাবে। বল, ‘কল্যাণ আল্লাহরই হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছে তা দান করেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যশালী ও সর্বজ্ঞ’।”
📌 তাদাব্বুর: হেদায়াত কোনো নির্দিষ্ট গোত্রের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়—আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সত্যের আলো দান করেন।
৩০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আলে ইমরান ৩:৭৩ (২য় ‘ক্বুল’)

وَلَا تُؤْمِنُوٓا۟ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ ٱلْهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُؤْتَىٰٓ أَحَدٌۭ مِّثْلَ مَآ أُوتِيتُمْ أَوْ يُحَآجُّوكُمْ عِندَ رَبِّكُمْ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْفَضْلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ٧٣ ۝

“‘এবং তোমাদের দ্বীনের অনুসারী ছাড়া আর কাউকেও বিশ্বাস করো না। তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহর (নির্দেশিত) পথই একমাত্র পথ; (এবং এটা আল্লাহর নীতি যে) একদিন তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছিল তা-ই অন্য কাউকে দেয়া হবে অথবা অন্য লোকেরা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে পেশ করার জন্য মযবুত প্রমাণ পেয়ে যাবে। বল, ‘কল্যাণ আল্লাহরই হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছে তা দান করেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যশালী ও সর্বজ্ঞ’।”
📌 তাদাব্বুর: হেদায়াত কোনো নির্দিষ্ট গোত্রের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়—আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সত্যের আলো দান করেন।
✨

পর্ব-১ এর সমাপ্তি ও পর্যালোচনা

সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরানের প্রাথমিক ৩০টি আয়াতে তাওহীদের ভিত্তি, কিবলা পরিবর্তন, ইবাদতের মূল স্পিরিট ও আহলে কিতাবদের সাথে সত্যের সংলাপ সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

পরবর্তী পর্বে কুরআনের অবশিষ্ট ‘ক্বুল’ বাণীসমূহ ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ

এই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গভীর আলোচনা ও কুরআনভিত্তিক অনুসন্ধান

সকল প্রবন্ধ দেখুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-২)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ৩১ থেকে ৬০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ ও আল-আনআমের ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১১ — মহাসমাপ্তি)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ৩০১ থেকে ৩৩২ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা আল-আহকাফ থেকে চার-কুল (কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক, নাস) হয়ে সমাপনী ৩২টি চূড়ান্ত ঐশী নির্দেশের মাধ্যমে ৩৩২টি বাণীর মহা-সংকলনের ঐতিহাসিক সমাপ্তি। আলম এম.-এর বিশেষ ফিচার্ড গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১০)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ২৭১ থেকে ৩০০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা সোয়াদ, আয-যুমার, গাফির, ফুসসিলাত, আশ-শূরা, আয-যুখরুফ ও আল-জাথিয়াহর ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৯)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ২৪১ থেকে ২৭০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা আল-আনকাবূত, আর-রূম, লোকমান, আস-সাজদাহ, আল-আহযাব, সাবা, ফাত্বির, ইয়াসীন ও আস-সাফফাতের ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৮)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ২১১ থেকে ২৪০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা আল-মুমিনূন, আন-নূর, আল-ফুরকান, আশ-শুয়ারা, আন-নামল, আল-কাসাস থেকে আল-আনকাবূত পর্যন্ত ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন