قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১০)

আলম এম.আলম এম.৪ অক্টোবর, ২০২৬
ঐশী বাণীমালা • পর্ব ১০ • ২৭১–৩০০ তম ঐশী অনুশাসন

‘قُلْ’ (বলুন) — সোয়াদ, আয-যুমার, ফুসসিলাত, আশ-শূরা ও আল-জাথিয়াহ (২৭১ থেকে ৩০০ তম ঐশী অনুশাসন)

দশম পর্বে সূরা সোয়াদ, আয-যুমার, গাফির, ফুসসিলাত, আশ-শূরা, আয-যুখরুফ এবং আল-জাথিয়াহর ২৭১ থেকে ৩০০ নম্বর ঐশী অনুশাসন সংকলিত হয়েছে। তাওহীদের বিশুদ্ধতম রূপ, ইখলাস, ক্ষমা ও শেষ বিচারের দিন পুনরুত্থানের অমোঘ সত্য এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মোচিত।

📋 পর্ব-১০-এর দ্রুত পাঠ সূচিপত্র (২৭১–৩০০)

মোট ৩০টি ঐশী নির্দেশনা
ক্রমিক সূরা ও আয়াত আরবি বাণী (قُلْ) বাংলা অর্থ
২৭১ সূরা সোয়াদ ৩৮:৬৫ قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مُنذِرٌۭ ۖ وَمَا مِنْ إِلَـٰهٍ إِلَّا ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ ٦٥ বল- আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী, সার্বভৌম অপ্রতিরোধ্য এক ও একক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।
২৭২ সূরা সোয়াদ ৩৮:৬৭ قُلْ هُوَ نَبَؤٌا۟ عَظِيمٌ ٦٧ বল, এটা এক ভয়ানক সংবাদ।
২৭৩ সূরা সোয়াদ ৩৮:৮৬ قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۢ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُتَكَلِّفِينَ ٨٦ বল- আমি এর (অর্থাৎ সত্য-সঠিক পথের দিকে ডাকার) জন্য তোমাদের কাছে পারিশ্রমিক চাই না, আর আমি কোন ধোঁকাবাজ নই।
২৭৪ সূরা আয-যুমার ৩৯:৮ ۞ وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَـٰنَ ضُرٌّۭ دَعَا رَبَّهُۥ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ... দুঃখ-মুসিবত যখন মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে তার প্রতিপালককে ডাকতে থাকে তাঁর প্রতি বড়ই একনিষ্ঠ হয়ে। অতঃপর তিনি যখ...
২৭৫ সূরা আয-যুমার ৩৯:৯ أَمَّنْ هُوَ قَـٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ سَاجِدًۭا وَقَآئِمًۭا يَحْذَرُ ٱلْـَٔاخِرَةَ وَي... যে রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে সেজদা ও দন্ডায়মান অবস্থায় বিনয় ও শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে, আর তার প...
২৭৬ সূরা আয-যুমার ৩৯:১০ قُلْ يَـٰعِبَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ ۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ فِى هَـ... বল, হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। এ দুনিয়ায় যারা ভাল কাজ করবে, তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আল্লাহর...
২৭৭ সূরা আয-যুমার ৩৯:১১ قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱللَّهَ مُخْلِصًۭا لَّهُ ٱلدِّينَ ١١ বল- আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে আল্লাহর ‘ইবাদাত করতে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।
২৭৮ সূরা আয-যুমার ৩৯:১৩ قُلْ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ١٣ বল- আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির ভয় করি।
২৭৯ সূরা আয-যুমার ৩৯:১৪ قُلِ ٱللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًۭا لَّهُۥ دِينِى ١٤ বল- আমি ‘ইবাদাত করি আল্লাহর বিশুদ্ধভাবে তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যের মাধ্যমে।
২৮০ সূরা আয-যুমার ৩৯:১৫ فَٱعْبُدُوا۟ مَا شِئْتُم مِّن دُونِهِۦ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْخَـٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَ... অতএব, তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যার ইচ্ছে ‘ইবাদাত কর (এতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না, ক্ষতি তোমাদেরই হবে)। বল- যারা ন...
২৮১ সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৮ (১ম ‘ক্বুল’) وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلْ أَ... তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে কে? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তোমরা কি চিন্তা কর...
২৮২ সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৮ (২য় ‘ক্বুল’) وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلْ أَ... তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে কে? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তোমরা কি চিন্তা কর...
২৮৩ সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৯ قُلْ يَـٰقَوْمِ ٱعْمَلُوا۟ عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّى عَـٰمِلٌۭ ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ٣٩ বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের পথ ও মত অনুযায়ী কাজ করে যাও, আমিও কাজ করে যাচ্ছি, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে
২৮৪ সূরা আয-যুমার ৩৯:৪৩ أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَ ۚ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا۟ لَا يَمْلِكُونَ شَي... তারা কি আল্লাহকে ছাড়া (অন্যদেরকে নিজেদের মুক্তির জন্য) সুপারিশকারী বানিয়ে নিয়েছে? বল- তারা কোন কিছুর মালিক না...
২৮৫ সূরা আয-যুমার ৩৯:৪৪ قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَـٰعَةُ جَمِيعًۭا ۖ لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ ثُمَّ إِ... বল- শাফা‘আত সম্পূর্ণ আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই, অতঃপর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
২৮৬ সূরা আয-যুমার ৩৯:৪৬ قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ عَـٰلِمَ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ أَنت... বল- হে আল্লাহ! আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, তুমি তোমার বান্দাহদের মাঝে মীমাংসা কর...
২৮৭ সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩ ۞ قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَ... বল- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ...
২৮৮ সূরা আয-যুমার ৩৯:৬৪ قُلْ أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَأْمُرُوٓنِّىٓ أَعْبُدُ أَيُّهَا ٱلْجَـٰهِلُونَ ٦٤ বল, ওহে অজ্ঞরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ‘ইবাদাত করার আদেশ করছ?
২৮৯ সূরা গাফির ৪০:৬৬ ۞ قُلْ إِنِّى نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَمَّا جَآءَنِى... বল, আমার প্রতিপালকের কাছ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, এমতাবস্থায় আমাকে তাদের ‘ইবাদাত করতে নিষেধ করা হ...
২৯০ সূরা ফুসসিলাত ৪১:৬ قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٌۭ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌ... বল, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। (পার্থক্য শুধু এই যে) আমার কাছে ওয়াহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ; কা...
২৯১ সূরা ফুসসিলাত ৪১:৯ ۞ قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَرْضَ فِى يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ ل... বল- তোমরা কি তাঁকে অস্বীকারই করছ যিনি যমীনকে সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে আর তাঁর সমকক্ষ বানাচ্ছ? তিনিই তো বিশ্বজগতের...
২৯২ সূরা ফুসসিলাত ৪১:১৩ فَإِنْ أَعْرَضُوا۟ فَقُلْ أَنذَرْتُكُمْ صَـٰعِقَةًۭ مِّثْلَ صَـٰعِقَةِ عَادٍۢ وَثَمُودَ ١٣ এরপরও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বল- আমি তোমাদেরকে অকস্মাৎ শাস্তির ভয় দেখাচ্ছি- ‘আদ ও সামূদের (উপর নেমে আসা...
২৯৩ সূরা ফুসসিলাত ৪১:৪৪ وَلَوْ جَعَلْنَـٰهُ قُرْءَانًا أَعْجَمِيًّۭا لَّقَالُوا۟ لَوْلَا فُصِّلَتْ ءَايَـٰتُهُۥٓ ۖ... আমি যদি একে অনারব ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন করতাম তাহলে তারা অবশ্যই বলত- এর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হল না...
২৯৪ সূরা ফুসসিলাত ৪১:৫২ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ثُمَّ كَفَرْتُم بِهِۦ مَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ... বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ এ (কুরআন) যদি আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসে থাকে, আর তোমরা সেটাকে অস্বীকার করতেই থাক, তাহলে স...
২৯৫ সূরা আশ-শূরা ৪২:১৫ فَلِذَٰلِكَ فَٱدْعُ ۖ وَٱسْتَقِمْ كَمَآ أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَهُمْ ۖ وَقُل... অবস্থার এই প্রেক্ষাপটে (হে নবী!) তাদেরকে আহবান কর (দ্বীনের প্রতি), আর তোমাকে যে হুকুম দেয়া হয়েছে তুমি তার প্রত...
২৯৬ সূরা আশ-শূরা ৪২:২৩ ذَٰلِكَ ٱلَّذِى يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰ... এটা হল তাই আল্লাহ যার সুসংবাদ দিয়েছেন তাঁর সে সব বান্দাহদের জন্য যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে। বল, এ কাজের জন্য...
২৯৭ সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:৮১ قُلْ إِن كَانَ لِلرَّحْمَـٰنِ وَلَدٌۭ فَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلْعَـٰبِدِينَ ٨١ বল- দয়াময়ের কোন সন্তান থাকলে আমিই তার সর্বপ্রথম ‘ইবাদাতকারী হতাম।
২৯৮ সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:৮৯ فَٱصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلَـٰمٌۭ ۚ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ٨٩ কাজেই তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও আর বল- (তোমাদের প্রতি) সালাম। শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (তাদের আচরণের পরিণত...
২৯৯ সূরা আল-জাথিয়াহ ৪৫:১৪ قُل لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَغْفِرُوا۟ لِلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ أَيَّامَ ٱللَّهِ لِيَجْزِى... মু’মিনদেরকে বল ঐ লোকদেরকে ক্ষমা করতে যারা আল্লাহর ‘আযাবের দিন আসার ব্যাপারে কোন আশংকাবোধ করে না। কেননা আল্লাহই...
৩০০ সূরা আল-জাথিয়াহ ৪৫:২৬ قُلِ ٱللَّهُ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ... বল- আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত করব...
২৭১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সোয়াদ ৩৮:৬৫

قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مُنذِرٌۭ ۖ وَمَا مِنْ إِلَـٰهٍ إِلَّا ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ ٦٥ ۝

“বল- আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী, সার্বভৌম অপ্রতিরোধ্য এক ও একক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।”
📌 তাদাব্বুর: তাওহীদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহিমা—একমাত্র আল্লাহই মহাপরাক্রমশালী ও একচ্ছত্র অধিপতি।
২৭২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সোয়াদ ৩৮:৬৭

قُلْ هُوَ نَبَؤٌا۟ عَظِيمٌ ٦٧ ۝

“বল, এটা এক ভয়ানক সংবাদ।”
📌 তাদাব্বুর: কুরআন ও আখেরাতের মহাসত্য কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি অস্তিত্বের এক পরম সংবাদ।
২৭৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সোয়াদ ৩৮:৮৬

قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۢ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُتَكَلِّفِينَ ٨٦ ۝

“বল- আমি এর (অর্থাৎ সত্য-সঠিক পথের দিকে ডাকার) জন্য তোমাদের কাছে পারিশ্রমিক চাই না, আর আমি কোন ধোঁকাবাজ নই।”
📌 তাদাব্বুর: কৃত্রিমতাহীন সহজ সরল সত্য: রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো ভণ্ডামি বা স্বার্থান্বেষী প্রদর্শনী করতেন না।
২৭৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৮

۞ وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَـٰنَ ضُرٌّۭ دَعَا رَبَّهُۥ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُۥ نِعْمَةًۭ مِّنْهُ نَسِىَ مَا كَانَ يَدْعُوٓا۟ إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًۭا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِۦ ۚ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا ۖ إِنَّكَ مِنْ أَصْحَـٰبِ ٱلنَّارِ ٨ ۝

“দুঃখ-মুসিবত যখন মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে তার প্রতিপালককে ডাকতে থাকে তাঁর প্রতি বড়ই একনিষ্ঠ হয়ে। অতঃপর তিনি যখন নিজ পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দিয়ে তাকে ধন্য করেন, তখন পূর্বে সে যেজন্য তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায় তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার জন্য। বলে দাও, কুফুরীর জীবন কিছুকাল ভোগ করে নাও, (অতঃপর) তুমি তো হবে জাহান্নামের অধিবাসী। (এ ব্যক্তি ভাল, না ঐ ব্যক্তি)”
📌 তাদাব্বুর: বিপদের সময় কাতর প্রার্থনা এবং স্বস্তি এলে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া অকৃতজ্ঞ মানুষের সাধারণ দুর্বলতা।
২৭৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৯

أَمَّنْ هُوَ قَـٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ سَاجِدًۭا وَقَآئِمًۭا يَحْذَرُ ٱلْـَٔاخِرَةَ وَيَرْجُوا۟ رَحْمَةَ رَبِّهِۦ ۗ قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ ٩ ۝

“যে রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে সেজদা ও দন্ডায়মান অবস্থায় বিনয় ও শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে, আর তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে? বল- যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান? বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।”
📌 তাদাব্বুর: রাত জেগে সেজদারত জ্ঞানী ও অহংকারী অজ্ঞ কখনোই সমান হতে পারে না; বিবেকবানরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
২৭৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:১০

قُلْ يَـٰعِبَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ ۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ فِى هَـٰذِهِ ٱلدُّنْيَا حَسَنَةٌۭ ۗ وَأَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةٌ ۗ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّـٰبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ١٠ ۝

“বল, হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। এ দুনিয়ায় যারা ভাল কাজ করবে, তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আল্লাহর যমীন প্রশস্ত (এক এলাকায় ‘ইবাদাত-বন্দেগী করা কঠিন হলে অন্যত্র চলে যাও)। আমি ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার অপরিমিতভাবে দিয়ে থাকি।”
📌 তাদাব্বুর: তাকওয়ার অমর আহ্বান: রবের সচেতন ভয় ও আনুগত্যই মুমিনের সার্বক্ষণিক দিশারি।
২৭৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:১১

قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱللَّهَ مُخْلِصًۭا لَّهُ ٱلدِّينَ ١١ ۝

“বল- আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে আল্লাহর ‘ইবাদাত করতে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।”
📌 তাদাব্বুর: ইখলাসের সর্বোচ্চ মানদণ্ড: লোকদেখানো সব মাধ্যম বর্জন করে একমাত্র আল্লাহর জন্য দ্বীনকে খাঁটি করা।
২৭৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:১৩

قُلْ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ١٣ ۝

“বল- আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির ভয় করি।”
📌 তাদাব্বুর: নবীর ব্যক্তিগত আল্লাহভীতি ও বিনম্রতা: অবাধ্যতার পরিণতির ব্যাপারে আত্মসচেতন সতর্কতা।
২৭৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:১৪

قُلِ ٱللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًۭا لَّهُۥ دِينِى ١٤ ۝

“বল- আমি ‘ইবাদাত করি আল্লাহর বিশুদ্ধভাবে তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যের মাধ্যমে।”
📌 তাদাব্বুর: তাওহিদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার: আমার সমস্ত আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা কেবল এক আল্লাহর জন্য নিবেদিত।
২৮০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:১৫

فَٱعْبُدُوا۟ مَا شِئْتُم مِّن دُونِهِۦ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْخَـٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْخُسْرَانُ ٱلْمُبِينُ ١٥ ۝

“অতএব, তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যার ইচ্ছে ‘ইবাদাত কর (এতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না, ক্ষতি তোমাদেরই হবে)। বল- যারা নিজেদেরকে আর নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ক্বিয়ামতের দিনে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। জেনে রেখ, এটাই হল স্পষ্ট ক্ষতি।”
📌 তাদাব্বুর: শিরক ও অবাধ্যতার চূড়ান্ত পরিণতি হলো কিয়ামতের দিনে নিজের অস্তিত্ব ও পরিবারের চিরন্তন ক্ষতি।
২৮১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৮ (১ম ‘ক্বুল’)

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلْ أَفَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَنِىَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَـٰشِفَـٰتُ ضُرِّهِۦٓ أَوْ أَرَادَنِى بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَـٰتُ رَحْمَتِهِۦ ۚ قُلْ حَسْبِىَ ٱللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ ٣٨ ۝

“তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে কে? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ যে, আল্লাহ আমার ক্ষতি করতে চাইলে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা কি সে ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে, তারা কি তাঁর অনুগ্রহ ঠেকাতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, নির্ভরকারীরা তাঁর উপরই নির্ভর করে।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা স্বীকার করার পরও কাল্পনিক মধ্যস্থতাকারী বা মূর্তির শরণাপন্ন হওয়া স্পষ্ট আত্মপ্রবঞ্চনা।
২৮২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৮ (২য় ‘ক্বুল’)

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلْ أَفَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَنِىَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَـٰشِفَـٰتُ ضُرِّهِۦٓ أَوْ أَرَادَنِى بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَـٰتُ رَحْمَتِهِۦ ۚ قُلْ حَسْبِىَ ٱللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ ٣٨ ۝

“তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে কে? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ যে, আল্লাহ আমার ক্ষতি করতে চাইলে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা কি সে ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে, তারা কি তাঁর অনুগ্রহ ঠেকাতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, নির্ভরকারীরা তাঁর উপরই নির্ভর করে।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা স্বীকার করার পরও কাল্পনিক মধ্যস্থতাকারী বা মূর্তির শরণাপন্ন হওয়া স্পষ্ট আত্মপ্রবঞ্চনা।
২৮৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৯

قُلْ يَـٰقَوْمِ ٱعْمَلُوا۟ عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّى عَـٰمِلٌۭ ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ٣٩ ۝

“বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের পথ ও মত অনুযায়ী কাজ করে যাও, আমিও কাজ করে যাচ্ছি, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে”
📌 তাদাব্বুর: সত্যের দাওয়াতে অবিচল নিষ্ঠা—বিরোধীদের বিরোধিতায় বিচলিত না হয়ে নিজ আদর্শ ও আমল অব্যাহত রাখা।
২৮৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৪৩

أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَ ۚ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا۟ لَا يَمْلِكُونَ شَيْـًۭٔا وَلَا يَعْقِلُونَ ٤٣ ۝

“তারা কি আল্লাহকে ছাড়া (অন্যদেরকে নিজেদের মুক্তির জন্য) সুপারিশকারী বানিয়ে নিয়েছে? বল- তারা কোন কিছুর মালিক না হওয়া সত্ত্বেও, আর তারা না বুঝলেও?”
📌 তাদাব্বুর: ভিত্তিহীন সুপারিশের কুসংস্কার খণ্ডন—ক্ষমতাহীন ও বোধহীন কোনো সত্তা আখিরাতে কারও মুক্তির কারণ হতে পারে না।
২৮৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৪৪

قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَـٰعَةُ جَمِيعًۭا ۖ لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ٤٤ ۝

“বল- শাফা‘আত সম্পূর্ণ আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই, অতঃপর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।”
📌 তাদাব্বুর: সুপারিশের নিরঙ্কুশ মালিকানা একমাত্র আল্লাহর—তাঁর পূর্বানুমতি ছাড়া কারও কথা বলার সুযোগ নেই।
২৮৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৪৬

قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ عَـٰلِمَ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِى مَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ٤٦ ۝

“বল- হে আল্লাহ! আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, তুমি তোমার বান্দাহদের মাঝে মীমাংসা করে দেবে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে.”
📌 তাদাব্বুর: দৃশ্য-অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত আল্লাহর দরবারে সর্বজনীন ন্যায়বিচারের পরম আত্মসমর্পণ।
২৮৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩

۞ قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣ ۝

“বল- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।”
📌 তাদাব্বুর: কুরআনের সর্বাপেক্ষা আশাজাগানিয়া আয়াত—যেকোনো অপরাধের পরও আন্তরিক অনুতাপ ও তাওবার দরজা উন্মুক্ত।
২৮৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুমার ৩৯:৬৪

قُلْ أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَأْمُرُوٓنِّىٓ أَعْبُدُ أَيُّهَا ٱلْجَـٰهِلُونَ ٦٤ ۝

“বল, ওহে অজ্ঞরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ‘ইবাদাত করার আদেশ করছ?”
📌 তাদাব্বুর: তাওহীদে আপসহীনতা—কোনো সামাজিক চাপ বা অজ্ঞতার দাবিতে আল্লাহর একক বন্দেগি থেকে বিচ্যুত না হওয়া।
২৮৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা গাফির ৪০:৬৬

۞ قُلْ إِنِّى نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَمَّا جَآءَنِىَ ٱلْبَيِّنَـٰتُ مِن رَّبِّى وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٦٦ ۝

“বল, আমার প্রতিপালকের কাছ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, এমতাবস্থায় আমাকে তাদের ‘ইবাদাত করতে নিষেধ করা হয়েছে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা আহবান কর। আর আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করার জন্য।”
📌 তাদাব্বুর: সুস্পষ্ট দলিল পাওয়ার পর যাবতীয় মিথ্যা উপাস্য বর্জন করে বিশ্বজগতের রবের সমীপে পূর্ণ আত্মসমর্পণই আসল দ্বীন।
২৯০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ফুসসিলাত ৪১:৬

قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٌۭ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ فَٱسْتَقِيمُوٓا۟ إِلَيْهِ وَٱسْتَغْفِرُوهُ ۗ وَوَيْلٌۭ لِّلْمُشْرِكِينَ ٦ ۝

“বল, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। (পার্থক্য শুধু এই যে) আমার কাছে ওয়াহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ; কাজেই তোমরা তাঁরই সরল সঠিক পথে চল, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। ধ্বংস তাদের জন্য যারা আল্লাহর সাথে অন্যদেরকে শরীক গণ্য করে।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহ একমাত্র উপাস্য; তাঁর দিকেই সোজা পথে এগিয়ে যাওয়া ও প্রতিনিয়ত ইস্তিগফারের মাধ্যমে পাপমোচন চাওয়া।
২৯১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ফুসসিলাত ৪১:৯

۞ قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَرْضَ فِى يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُۥٓ أَندَادًۭا ۚ ذَٰلِكَ رَبُّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٩ ۝

“বল- তোমরা কি তাঁকে অস্বীকারই করছ যিনি যমীনকে সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে আর তাঁর সমকক্ষ বানাচ্ছ? তিনিই তো বিশ্বজগতের রব্ব।”
📌 তাদাব্বুর: পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব ও মহাজাগতিক ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে অহংকারী অস্বীকারকারীদের আত্মসমালোচনার ডাক।
২৯২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ফুসসিলাত ৪১:১৩

فَإِنْ أَعْرَضُوا۟ فَقُلْ أَنذَرْتُكُمْ صَـٰعِقَةًۭ مِّثْلَ صَـٰعِقَةِ عَادٍۢ وَثَمُودَ ١٣ ۝

“এরপরও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বল- আমি তোমাদেরকে অকস্মাৎ শাস্তির ভয় দেখাচ্ছি- ‘আদ ও সামূদের (উপর নেমে আসা) অকস্মাৎ-শাস্তির মত।”
📌 তাদাব্বুর: সত্যের স্পষ্ট বার্তার পরও হঠকারিতা বজায় রাখলে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিদের মতো অকস্মাৎ গজবের হুঁশিয়ারি।
২৯৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ফুসসিলাত ৪১:৪৪

وَلَوْ جَعَلْنَـٰهُ قُرْءَانًا أَعْجَمِيًّۭا لَّقَالُوا۟ لَوْلَا فُصِّلَتْ ءَايَـٰتُهُۥٓ ۖ ءَا۬عْجَمِىٌّۭ وَعَرَبِىٌّۭ ۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ هُدًۭى وَشِفَآءٌۭ ۖ وَٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرٌۭ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍۭ بَعِيدٍۢ ٤٤ ۝

“আমি যদি একে অনারব ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন করতাম তাহলে তারা অবশ্যই বলত- এর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হল না কেন? আশ্চর্য ব্যাপার! কিতাব হল অনারব দেশীয় আর শ্রোতারা হল আরবীভাষী। বল- যারা ঈমান আনে তাদের জন্য এ কুরআন সঠিক পথের দিশারী ও আরোগ্য (লাভের উপায়)। যারা ঈমান আনে না তাদের কানে আছে বধিরতা, আর এ কুরআন তাদের জন্য অন্ধত্ব। (যেন) বহু দূর থেকে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে।”
📌 তাদাব্বুর: কুরআন কেবল ধর্মীয় কিতাব নয়, বরং বিশ্বাসীদের আত্মিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি ও জীবনের সর্বোত্তম নির্দেশিকা।
২৯৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ফুসসিলাত ৪১:৫২

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ثُمَّ كَفَرْتُم بِهِۦ مَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ هُوَ فِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍۢ ٥٢ ۝

“বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ এ (কুরআন) যদি আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসে থাকে, আর তোমরা সেটাকে অস্বীকার করতেই থাক, তাহলে সে ব্যক্তি ছাড়া অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে বিরোধিতায় বহু দূরে চলে গেছে?”
📌 তাদাব্বুর: দূরবর্তী ভ্রষ্টতার সতর্কতা—ঐশী সত্যকে একগুঁয়েমি করে প্রত্যাখ্যানের চেয়ে আত্মঘাতী আর কিছু নেই।
২৯৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আশ-শূরা ৪২:১৫

فَلِذَٰلِكَ فَٱدْعُ ۖ وَٱسْتَقِمْ كَمَآ أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَهُمْ ۖ وَقُلْ ءَامَنتُ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِن كِتَـٰبٍۢ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ ٱللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَآ أَعْمَـٰلُنَا وَلَكُمْ أَعْمَـٰلُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ ٱللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ ٱلْمَصِيرُ ١٥ ۝

“অবস্থার এই প্রেক্ষাপটে (হে নবী!) তাদেরকে আহবান কর (দ্বীনের প্রতি), আর তোমাকে যে হুকুম দেয়া হয়েছে তুমি তার প্রতি সুদৃঢ় থাক, আর তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না। আর বল, আল্লাহ যে কিতাবই অবতীর্ণ করেছেন আমি তার প্রতি ঈমান এনেছি। তোমাদের মাঝে ইনসাফ করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরও প্রতিপালক, তোমাদেরও প্রতিপালক। আমাদের কাজের প্রতিফল আমরা ভোগ করব। আর তোমাদের কাজের প্রতিফল তোমরা ভোগ করবে। আমাদের আর তোমাদের মাঝে কোন ঝগড়া নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে (একদিন) একত্রিত করবেন, আর তাঁর কাছেই (সকলকে) ফিরে যেতে হবে।”
📌 তাদাব্বুর: ঐশী কিতাবের প্রতি অবিচল ঈমান এবং সমাজে নিরপেক্ষ ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দ্বিমুখী নির্দেশ।
২৯৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আশ-শূরা ৪২:২৩

ذَٰلِكَ ٱلَّذِى يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ ۗ قُل لَّآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا ٱلْمَوَدَّةَ فِى ٱلْقُرْبَىٰ ۗ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةًۭ نَّزِدْ لَهُۥ فِيهَا حُسْنًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ شَكُورٌ ٢٣ ۝

“এটা হল তাই আল্লাহ যার সুসংবাদ দিয়েছেন তাঁর সে সব বান্দাহদের জন্য যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে। বল, এ কাজের জন্য আত্মীয়তার ভালবাসা ছাড়া তোমাদের কাছে কিছুই চাই না। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্য তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, ভাল কাজের বড়ই মর্যাদাদানকারী।”
📌 তাদাব্বুর: নিঃস্বার্থ দাওয়াত ও আন্তরিক প্রেম—নবী পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার গুরুত্ব।
২৯৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:৮১

قُلْ إِن كَانَ لِلرَّحْمَـٰنِ وَلَدٌۭ فَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلْعَـٰبِدِينَ ٨١ ۝

“বল- দয়াময়ের কোন সন্তান থাকলে আমিই তার সর্বপ্রথম ‘ইবাদাতকারী হতাম।”
📌 তাদাব্বুর: যৌক্তিক তর্কের মাধ্যমে বহুত্ববাদ ও সন্তান গ্রহণের ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন—আল্লাহ সন্তানসন্ততির মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত।
২৯৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:৮৯

فَٱصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلَـٰمٌۭ ۚ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ٨٩ ۝

“কাজেই তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও আর বল- (তোমাদের প্রতি) সালাম। শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (তাদের আচরণের পরিণতি কী)।”
📌 তাদাব্বুর: অজ্ঞ ও বিদ্বেষীদের সাথে অর্থহীন তর্কে না জড়িয়ে মর্যাদা ও শান্তির সাথে এড়িয়ে চলার অনুপম শিষ্টাচার।
২৯৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জাথিয়াহ ৪৫:১৪

قُل لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَغْفِرُوا۟ لِلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ أَيَّامَ ٱللَّهِ لِيَجْزِىَ قَوْمًۢا بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ١٤ ۝

“মু’মিনদেরকে বল ঐ লোকদেরকে ক্ষমা করতে যারা আল্লাহর ‘আযাবের দিন আসার ব্যাপারে কোন আশংকাবোধ করে না। কেননা আল্লাহই (ভাল বা মন্দ) প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্ম অনুসারে প্রতিফল দিবেন।”
📌 তাদাব্বুর: মুমিনের ক্ষমার মহত্ত্ব—ব্যক্তিগত ক্ষোভ দমন করে চূড়ান্ত ফায়সালা রবের আদালতের ওপর সমর্পণ করা।
৩০০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জাথিয়াহ ৪৫:২৬

قُلِ ٱللَّهُ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٢٦ ۝

“বল- আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।”
📌 তাদাব্বুর: জীবন, মৃত্যু ও হাশরের একক অধিপতি আল্লাহ—অমোঘ পুনরুত্থানের প্রতি উদাসীনতাই মানুষের বড় অজ্ঞতা।
✨

পর্ব-১০ এর সমাপ্তি ও পর্যালোচনা

২৭১ থেকে ৩০০ নম্বর বাণীতে অন্তরের একনিষ্ঠ ইবাদত, ক্ষমাশীল আচরণ এবং জীবনের আসল লক্ষ্য নিয়ে গভীর আত্মজিজ্ঞাসা তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তী সমাপনী পর্বে অবশিষ্ট ৩২টি আয়াতের মাধ্যমে ৩৩২টি বাণীর মহাসমাপ্তি ঘটবে।

পরবর্তী পর্বে কুরআনের অবশিষ্ট ‘ক্বুল’ বাণীসমূহ ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।