قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১১ — মহাসমাপ্তি)

আলম এম.আলম এম.৪ অক্টোবর, ২০২৬
ঐশী বাণীমালা • পর্ব ১১ (মহাসমাপ্তি) • ৩০১–৩৩২ তম ঐশী অনুশাসন

‘قُلْ’ (বলুন) — আল-আহকাফ থেকে চার-কুল (৩০১ থেকে ৩৩২ তম ঐশী অনুশাসন — মহাসমাপ্তি)

মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর উম্মত বা পথভ্রষ্টদের উদ্দেশ্যে কোনো সত্য প্রকাশ বা নির্দেশ করতে চেয়েছেন, তখনই এসেছে এই অমোঘ আদেশ—‘قُلْ’ (বলুন)। এই একাদশ ও সমাপনী পর্বে সূরা আল-আহকাফ, আল-ফাতহ, আল-হুজুরাত, আত-তূর, আল-ওয়াকিয়াহ, আল-জুমুআহ, আত-তাগাবুন, আল-মুলক, আল-জ্বিন, আন-নাযিয়াত এবং চার-কুল (কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস) পর্যন্ত ৩২টি চূড়ান্ত ঐশী নির্দেশের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের মোট ৩৩২টি ‘কুল’ বাণীর ঐতিহাসিক মহা-সংকলন পূর্ণতা পেল।

📋 পর্ব-১১-এর দ্রুত পাঠ সূচিপত্র (৩০১–৩৩২)

মোট ৩২টি ঐশী নির্দেশনা
ক্রমিক সূরা ও আয়াত আরবি বাণী (قُلْ) বাংলা অর্থ
৩০১ সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৪ قُلْ أَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ... বল- তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, তাদের বিষয়ে চিন্তা করে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা যমীনে কী সৃষ্টি করেছ...
৩০২ সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৮ أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۖ قُلْ إِنِ ٱفْتَرَيْتُهُۥ فَلَا تَمْلِكُونَ لِى مِنَ ٱللَّهِ... তারা কি বলতে চায় যে, রসূল নিজেই তা রচনা করেছে? বল, তা যদি আমি রচনা করে থাকি তাহলে তোমরা আল্লাহর শাস্তি হতে আমা...
৩০৩ সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৯ قُلْ مَا كُنتُ بِدْعًۭا مِّنَ ٱلرُّسُلِ وَمَآ أَدْرِى مَا يُفْعَلُ بِى وَلَا بِكُمْ ۖ إِن... বল, আমি রসূলদের মধ্যে নতুন নই, আর আমি এও জানি না যে, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে আর তোমাদের সঙ্গেইবা কেমন (ব...
৩০৪ সূরা আল-আহকাফ ৪৬:১০ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَكَفَرْتُم بِهِۦ وَشَهِدَ شَاهِدٌۭ مِّنۢ ب... বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি এ (কুরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে আর তা তোমরা প্রত্যাখ্যান কর অথচ এ ধরনের কালাম...
৩০৫ সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১১ سَيَقُولُ لَكَ ٱلْمُخَلَّفُونَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَآ أَمْوَٰلُنَا وَأَهْلُونَا فَ... (যুদ্ধ থেকে) পিছ-পড়া বেদুঈনরা তোমাকে বলবে- আমাদের মালধন আর আমাদের পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল, কাজেই...
৩০৬ সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১৫ سَيَقُولُ ٱلْمُخَلَّفُونَ إِذَا ٱنطَلَقْتُمْ إِلَىٰ مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتّ... তোমরা যখন গানীমাতের মাল সংগ্রহ করার জন্য যেতে থাকবে তখন পিছনে থেকে যাওয়া লোকগুলো বলবে- ‘আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গ...
৩০৭ সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১৬ قُل لِّلْمُخَلَّفِينَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَىٰ قَوْمٍ أُو۟لِى بَأْسٍۢ شَدِيدٍ... বেদুঈনদের যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বল- ‘তোমাদেরকে যুদ্ধ করতে ডাকা হবে খুবই শক্তিশালী এক জাতির বিরুদ্ধে,...
৩০৮ সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৪ ۞ قَالَتِ ٱلْأَعْرَابُ ءَامَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا۟ وَلَـٰكِن قُولُوٓا۟ أَسْلَمْنَا و... বেদুঈনরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। বল- ‘তোমরা ঈমান আননি, বরং তোমরা বল, ‘আমরা (মৌখিক) আনুগত্য স্বীকার করেছি’, এখন...
৩০৯ সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৬ قُلْ أَتُعَلِّمُونَ ٱللَّهَ بِدِينِكُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِ... বল, ‘তোমরা কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহকে অবগত করতে চাও’? আল্লাহ তো জানেন যা আছে আসমানে আর যা আছে যমীনে। আ...
৩১০ সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৭ يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا۟ ۖ قُل لَّا تَمُنُّوا۟ عَلَىَّ إِسْلَـٰمَكُم ۖ بَلِ ٱل... এই লোকেরা মনে করে যে, তারা ইসলাম কবূল ক’রে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদেরকে বলে দাও, ‘তোমরা তোমাদের ইসলাম কব...
৩১১ সূরা আত-তূর ৫২:৩১ قُلْ تَرَبَّصُوا۟ فَإِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُتَرَبِّصِينَ ٣١ ওদেরকে বল- তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। (অতঃপর উভয় পক্ষই দেখতে পাবে কার কী পরিণতি হয়)।
৩১২ সূরা আল-ওয়াকিয়াহ ৫৬:৪৯ قُلْ إِنَّ ٱلْأَوَّلِينَ وَٱلْـَٔاخِرِينَ ٤٩ বলুন, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকেই এক নির্ধারিত দিবসের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই সমবেত করা হবে’ (সূরা আল-ওয়...
৩১৩ সূরা আল-জুমুআহ ৬২:৬ قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ هَادُوٓا۟ إِن زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ أَوْلِيَآءُ لِلَّهِ مِن د... বল- ‘হে ইয়াহূদী হয়ে যাওয়া লোকেরা! তোমরা যদি মনে কর যে, অন্য সব লোককে বাদ দিয়ে কেবল তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, তাহলে...
৩১৪ সূরা আল-জুমুআহ ৬২:৮ قُلْ إِنَّ ٱلْمَوْتَ ٱلَّذِى تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُۥ مُلَـٰقِيكُمْ ۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ... বল- ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাচ্ছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানে...
৩১৫ সূরা আল-জুমুআহ ৬২:১১ وَإِذَا رَأَوْا۟ تِجَـٰرَةً أَوْ لَهْوًا ٱنفَضُّوٓا۟ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِمًۭا ۚ قُ... তারা যখন ব্যবসায় অথবা ক্রীড়া কৌতুক দেখে তখন তারা সেদিকে ছুটে যায় আর তোমাকে রেখে যায় দাঁড়ানো অবস্থায়। বল- ‘আল্ল...
৩১৬ সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:৭ زَعَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَن لَّن يُبْعَثُوا۟ ۚ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّى لَتُبْعَثُنَّ ثُمّ... কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কক্ষনো আবার জীবিত করে উঠানো হবে না। বল, নিশ্চয়ই (উঠানো) হবে, আমার প্রতিপালকের শপ...
৩১৭ সূরা আল-মুলক ৬৭:২৩ قُلْ هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ... বলে দাও, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদেরকে দিয়েছেন শোনার ও দেখার শক্তি আর অন্তঃকরণ; তোমরা শোকর আদায়...
৩১৮ সূরা আল-মুলক ৬৭:২৪ قُلْ هُوَ ٱلَّذِى ذَرَأَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٢٤ বলে দাও, ‘তিনিই তোমাদেরকে যমীনে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
৩১৯ সূরা আল-মুলক ৬৭:২৬ قُلْ إِنَّمَا ٱلْعِلْمُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٢٦ বল, ‘সে জ্ঞান তো কেবল আল্লাহর কাছেই আছে, আমি শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
৩২০ সূরা আল-মুলক ৬৭:২৮ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِىَ ٱللَّهُ وَمَن مَّعِىَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ ٱلْ... বল, ‘‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি আমাকে আর আমার সঙ্গী সাথীদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের উপর দয়া করেন (তাত...
৩২১ সূরা আল-মুলক ৬৭:২৯ قُلْ هُوَ ٱلرَّحْمَـٰنُ ءَامَنَّا بِهِۦ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُو... বল, ‘তিনিই দয়াময়, আমরা তাঁর উপরেই ঈমান রাখি, আর তাঁর উপরেই নির্ভর করি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কে সুস্পষ্ট গু...
৩২২ সূরা আল-মুলক ৬৭:৩০ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَآؤُكُمْ غَوْرًۭا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَآءٍۢ مَّعِينٍۭ ٣٠ বল, ‘‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের তলদেশে চলে যায়, তাহলে তোমাদেরকে কে এনে দেবে প্রবহমান পানি?’’
৩২৩ সূরা আল-জ্বিন ৭২:১ قُلْ أُوحِىَ إِلَىَّ أَنَّهُ ٱسْتَمَعَ نَفَرٌۭ مِّنَ ٱلْجِنِّ فَقَالُوٓا۟ إِنَّا سَمِعْنَا... বল, ‘‘আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর তারা বলেছে ‘আমরা এক অতি...
৩২৪ সূরা আল-জ্বিন ৭২:২০ قُلْ إِنَّمَآ أَدْعُوا۟ رَبِّى وَلَآ أُشْرِكُ بِهِۦٓ أَحَدًۭا ٢٠ বল: আমি শুধু আমার প্রতিপালককেই ডাকি, আর অন্য কাউকে তাঁর অংশীদার গণ্য করি না।
৩২৫ সূরা আল-জ্বিন ৭২:২১ قُلْ إِنِّى لَآ أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّۭا وَلَا رَشَدًۭا ٢١ বল- ‘আমি তোমাদের কোন ক্ষতি বা কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখি না।
৩২৬ সূরা আল-জ্বিন ৭২:২২ قُلْ إِنِّى لَن يُجِيرَنِى مِنَ ٱللَّهِ أَحَدٌۭ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِۦ مُلْتَحَدًا ٢٢ বল- আল্লাহর (শাস্তি) থেকে কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারবে না (যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই) এবং তাঁর আশ্রয় ছাড়া আমি কোন আ...
৩২৭ সূরা আল-জ্বিন ৭২:২৫ قُلْ إِنْ أَدْرِىٓ أَقَرِيبٌۭ مَّا تُوعَدُونَ أَمْ يَجْعَلُ لَهُۥ رَبِّىٓ أَمَدًا ٢٥ বল- ‘আমি জানি না তোমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা কি নিকটবর্তী, না তার জন্য আমার প্রতিপালক কোন দীর্ঘ মে...
৩২৮ সূরা আন-নাযিয়াত ৭৯:১৮ فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ ١٨ তাকে জিজ্ঞেস কর, ‘তুমি কি পবিত্রতা অবলম্বন করতে ইচ্ছুক?
৩২৯ সূরা আল-কাফিরুন ১০৯:১ قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْكَـٰفِرُونَ ١ বলুন, ‘হে কাফের সম্প্রদায়! আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের ইবাদত তোমরা করো; এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবা...
৩৩০ সূরা আল-ইখলাস ১১২:১ قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ বলুন, ‘তিনিই আল্লাহ, একক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (সকলের আশ্রয়স্থল)। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কে...
৩৩১ সূরা আল-ফালাক ১১৩:১ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١ বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার রবের—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে; এবং ঘোর অন্ধকারের অনিষ্ট হতে য...
৩৩২ সূরা আন-নাস ১১৪:১ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের একমাত্র উপাস্যের—আত্মগোপনকারী কু...
৩০১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৪

قُلْ أَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌۭ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ ۖ ٱئْتُونِى بِكِتَـٰبٍۢ مِّن قَبْلِ هَـٰذَآ أَوْ أَثَـٰرَةٍۢ مِّنْ عِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٤ ۝

“বল- তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, তাদের বিষয়ে চিন্তা করে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা যমীনে কী সৃষ্টি করেছে অথবা আকাশমন্ডলে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি? এর আগের কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”
📌 তাদাব্বুর: যুক্তিবাদী চিন্তার আহ্বান—বিনা দলিলের অন্ধবিশ্বাস ও শিরক কখনো সত্য হতে পারে না।
৩০২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৮

أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۖ قُلْ إِنِ ٱفْتَرَيْتُهُۥ فَلَا تَمْلِكُونَ لِى مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَا تُفِيضُونَ فِيهِ ۖ كَفَىٰ بِهِۦ شَهِيدًۢا بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ ۖ وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٨ ۝

“তারা কি বলতে চায় যে, রসূল নিজেই তা রচনা করেছে? বল, তা যদি আমি রচনা করে থাকি তাহলে তোমরা আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে কিছুতেই বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন যে বিষয়ে তোমরা মত্ত আছ। আমার আর তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট, আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।”
📌 তাদাব্বুর: ওহীর সত্যতার ওপর সবচেয়ে বড় সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ; মিথ্যা অপবাদের মুখে রবের ন্যায়বিচারই চূড়ান্ত আশ্রয়।
৩০৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৯

قُلْ مَا كُنتُ بِدْعًۭا مِّنَ ٱلرُّسُلِ وَمَآ أَدْرِى مَا يُفْعَلُ بِى وَلَا بِكُمْ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ وَمَآ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٩ ۝

“বল, আমি রসূলদের মধ্যে নতুন নই, আর আমি এও জানি না যে, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে আর তোমাদের সঙ্গেইবা কেমন (ব্যবহার করা হবে), আমি কেবল তাই মেনে চলি যা আমার প্রতি ওয়াহী করা হয়। আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।”
📌 তাদাব্বুর: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিনম্র সত্যবাদিতা—তিনি গায়েবের দাবিদার নন, বরং ওহীর আমানতদার ও নির্ভুল পথপ্রদর্শক।
৩০৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহকাফ ৪৬:১০

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَكَفَرْتُم بِهِۦ وَشَهِدَ شَاهِدٌۭ مِّنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ مِثْلِهِۦ فَـَٔامَنَ وَٱسْتَكْبَرْتُمْ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ١٠ ۝

“বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি এ (কুরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে আর তা তোমরা প্রত্যাখ্যান কর অথচ এ ধরনের কালাম সম্পর্কে বানী ইসরাঈলের একজন [‘আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাযি.)] সাক্ষ্যও দিয়েছে। সে ঈমান আনল আর তোমরা অহঙ্কার করলে? আল্লাহ যালিম লোকদেরকে সঠিক পথ দেখান না।”
📌 তাদাব্বুর: সত্য প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ অহংকার—স্পষ্ট সাক্ষ্য ও প্রমাণের পরেও ঔদ্ধত্য মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৩০৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১১

سَيَقُولُ لَكَ ٱلْمُخَلَّفُونَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَآ أَمْوَٰلُنَا وَأَهْلُونَا فَٱسْتَغْفِرْ لَنَا ۚ يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِى قُلُوبِهِمْ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًۢا ۚ بَلْ كَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۢا ١١ ۝

“(যুদ্ধ থেকে) পিছ-পড়া বেদুঈনরা তোমাকে বলবে- আমাদের মালধন আর আমাদের পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল, কাজেই (হে নবী) আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। (তাদেরকে) বল, আল্লাহ তোমাদের কোন ক্ষতি বা কোন কল্যাণ করার ইচ্ছে করলে তাঁর বিপক্ষে তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা কার আছে? (কারো কোন ওকালতির দরকার নেই) বরং তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহই খবর রাখেন।”
📌 তাদাব্বুর: অজুহাত দিয়ে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব—লাভ-ক্ষতির প্রকৃত অধিপতি আল্লাহ, অন্তরের কপটতা তাঁর কাছে সুস্পষ্ট।
৩০৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১৫

سَيَقُولُ ٱلْمُخَلَّفُونَ إِذَا ٱنطَلَقْتُمْ إِلَىٰ مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ ۖ يُرِيدُونَ أَن يُبَدِّلُوا۟ كَلَـٰمَ ٱللَّهِ ۚ قُل لَّن تَتَّبِعُونَا كَذَٰلِكُمْ قَالَ ٱللَّهُ مِن قَبْلُ ۖ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا ۚ بَلْ كَانُوا۟ لَا يَفْقَهُونَ إِلَّا قَلِيلًۭا ١٥ ۝

“তোমরা যখন গানীমাতের মাল সংগ্রহ করার জন্য যেতে থাকবে তখন পিছনে থেকে যাওয়া লোকগুলো বলবে- ‘আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর ফরমানকে বদলে দিতে চায়। বল ‘তোমরা কিছুতেই আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না, (খাইবার অভিযানে অংশগ্রহণ এবং সেখানে পাওয়া গানীমাত কেবল তাদের জন্য যারা ইতোপূর্বে হুদাইবিয়ার সফর ও বাই‘আতে রিয্ওয়ানে অংশ নিয়েছে) এমন কথা আল্লাহ পূর্বেই বলে দিয়েছেন। তখন তারা বলবে- ‘তোমরা বরং আমাদের প্রতি হিংসা পোষণ করছ।’ (এটা যে আল্লাহর হুকুম তা তারা বুঝছে না) বরং তারা খুব কমই বুঝে।”
📌 তাদাব্বুর: সুবিধাবাদী চরিত্রের মুখোশ উন্মোচন—কষ্টের দিনে অনুপস্থিত থেকে কেবল প্রাপ্তির মুহূর্তে ভাগ বসানো মুমিনের রীতি নয়।
৩০৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১৬

قُل لِّلْمُخَلَّفِينَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَىٰ قَوْمٍ أُو۟لِى بَأْسٍۢ شَدِيدٍۢ تُقَـٰتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ ۖ فَإِن تُطِيعُوا۟ يُؤْتِكُمُ ٱللَّهُ أَجْرًا حَسَنًۭا ۖ وَإِن تَتَوَلَّوْا۟ كَمَا تَوَلَّيْتُم مِّن قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًۭا ١٦ ۝

“বেদুঈনদের যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বল- ‘তোমাদেরকে যুদ্ধ করতে ডাকা হবে খুবই শক্তিশালী এক জাতির বিরুদ্ধে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। তোমরা যদি তখন তা মান্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পিঠ ফিরিয়ে নাও যেমন তোমরা আগে পিঠ ফিরিয়ে নিয়েছিলে, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি দিবেন।”
📌 তাদাব্বুর: ভুলের প্রায়শ্চিত্ত ও আনুগত্যের নতুন সুযোগ—ঈমানের পরীক্ষা কথার ফুলঝুরিতে নয়, কঠিন পরিস্থিতির দৃঢ়তায়।
৩০৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৪

۞ قَالَتِ ٱلْأَعْرَابُ ءَامَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا۟ وَلَـٰكِن قُولُوٓا۟ أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ ٱلْإِيمَـٰنُ فِى قُلُوبِكُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَـٰلِكُمْ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١٤ ۝

“বেদুঈনরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। বল- ‘তোমরা ঈমান আননি, বরং তোমরা বল, ‘আমরা (মৌখিক) আনুগত্য স্বীকার করেছি’, এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। তোমরা যদি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মান্য কর তাহলে তোমাদের কৃতকর্মের কিছুই কমতি করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
📌 তাদাব্বুর: বাহ্যিক ইসলাম ও আন্তরিক ঈমানের গভীর ফারাক—ঈমান অন্তরের শেকড়ে প্রোথিত হতে হয়।
৩০৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৬

قُلْ أَتُعَلِّمُونَ ٱللَّهَ بِدِينِكُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ١٦ ۝

“বল, ‘তোমরা কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহকে অবগত করতে চাও’? আল্লাহ তো জানেন যা আছে আসমানে আর যা আছে যমীনে। আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।”
📌 তাদাব্বুর: মহাজ্ঞানী রবের সম্মুখে কোনো কিছু জাহির করা অবান্তর—তিনি অন্তরের গভীরতম সুপ্ত ভাবও জানেন।
৩১০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৭

يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا۟ ۖ قُل لَّا تَمُنُّوا۟ عَلَىَّ إِسْلَـٰمَكُم ۖ بَلِ ٱللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَىٰكُمْ لِلْإِيمَـٰنِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ١٧ ۝

“এই লোকেরা মনে করে যে, তারা ইসলাম কবূল ক’রে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদেরকে বলে দাও, ‘তোমরা তোমাদের ইসলাম কবূলের দ্বারা আমার প্রতি কোন অনুগ্রহ করনি বরং আল্লাহ্ই তোমাদেরকে ঈমানের পথে পরিচালিত ক’রে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তোমরা যদি (তোমাদের ঈমান আনার দাবীতে) সত্যবাদী হয়েই থাক।”
📌 তাদাব্বুর: হেদায়েত আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত—দ্বীন পালন করে অহংকার বা অনুগ্রহ প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই।
৩১১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আত-তূর ৫২:৩১

قُلْ تَرَبَّصُوا۟ فَإِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُتَرَبِّصِينَ ٣١ ۝

“ওদেরকে বল- তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। (অতঃপর উভয় পক্ষই দেখতে পাবে কার কী পরিণতি হয়)।”
📌 তাদাব্বুর: সত্যের বিজয়ে অটল নিশ্চয়তা—মিথ্যার পতন এবং সত্যের জয়যাত্রা সময়ের চূড়ান্ত বিধানে অবধারিত।
৩১২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ওয়াকিয়াহ ৫৬:৪৯

قُلْ إِنَّ ٱلْأَوَّلِينَ وَٱلْـَٔاخِرِينَ ٤٩ ۝

“বলুন, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকেই এক নির্ধারিত দিবসের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই সমবেত করা হবে’ (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ ৫৬:৪৯–৫০)।”
📌 তাদাব্বুর: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একটি নির্দিষ্ট দিনে নিশ্চিতভাবে একত্রিত করা হবে—এটাই পুনরুত্থানের অমোঘ ঘোষণা।
৩১৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জুমুআহ ৬২:৬

قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ هَادُوٓا۟ إِن زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ أَوْلِيَآءُ لِلَّهِ مِن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٦ ۝

“বল- ‘হে ইয়াহূদী হয়ে যাওয়া লোকেরা! তোমরা যদি মনে কর যে, অন্য সব লোককে বাদ দিয়ে কেবল তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।”
📌 তাদাব্বুর: ভণ্ড শ্রেষ্ঠত্ববাদের চ্যালেঞ্জ—মৃত্যুর ভয়ই প্রমাণ করে কে আখেরাতের ব্যাপারে অপ্রস্তুত ও অপরাধী।
৩১৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জুমুআহ ৬২:৮

قُلْ إِنَّ ٱلْمَوْتَ ٱلَّذِى تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُۥ مُلَـٰقِيكُمْ ۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَـٰلِمِ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٨ ۝

“বল- ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাচ্ছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী (আল্লাহ)’র নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে; অতঃপর তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে।”
📌 তাদাব্বুর: মৃত্যু অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতা—পলায়ন অসম্ভব, একমাত্র মুক্তির উপায় সৎ আমল ও রবের সান্নিধ্যের প্রস্তুতি।
৩১৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জুমুআহ ৬২:১১

وَإِذَا رَأَوْا۟ تِجَـٰرَةً أَوْ لَهْوًا ٱنفَضُّوٓا۟ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِمًۭا ۚ قُلْ مَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ مِّنَ ٱللَّهْوِ وَمِنَ ٱلتِّجَـٰرَةِ ۚ وَٱللَّهُ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ١١ ۝

“তারা যখন ব্যবসায় অথবা ক্রীড়া কৌতুক দেখে তখন তারা সেদিকে ছুটে যায় আর তোমাকে রেখে যায় দাঁড়ানো অবস্থায়। বল- ‘আল্লাহর কাছে যা আছে তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসার চেয়ে উত্তম।’ আর আল্লাহ সর্বাপেক্ষা উত্তম রিযকদাতা।”
📌 তাদাব্বুর: ইবাদত বনাম পার্থিব মোহ—রিযিকের মূল মালিক আল্লাহ, তাঁর সন্তুষ্টির ভেতরেই নিহিত অনন্ত সমৃদ্ধি।
৩১৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:৭

زَعَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَن لَّن يُبْعَثُوا۟ ۚ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّى لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ ۚ وَذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ ٧ ۝

“কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কক্ষনো আবার জীবিত করে উঠানো হবে না। বল, নিশ্চয়ই (উঠানো) হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে, অতঃপর তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হবে তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করেছ। এ কাজ (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।”
📌 তাদাব্বুর: রবের নামে শপথ করে হাশরের ঘোষণা—মানুষের সকল কৃতকর্মের নিখুঁত হিসাব গ্রহণের জন্য পুনরুত্থান অবধারিত।
৩১৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুলক ৬৭:২৩

قُلْ هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۖ قَلِيلًۭا مَّا تَشْكُرُونَ ٢٣ ۝

“বলে দাও, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদেরকে দিয়েছেন শোনার ও দেখার শক্তি আর অন্তঃকরণ; তোমরা শোকর আদায় খুব অল্পই করে থাক।’”
📌 তাদাব্বুর: শ্রবণ, দৃষ্টি ও অন্তরের মহা নিয়ামত—এগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই বান্দার শুকরিয়া আদায় হয়।
৩১৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুলক ৬৭:২৪

قُلْ هُوَ ٱلَّذِى ذَرَأَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٢٤ ۝

“বলে দাও, ‘তিনিই তোমাদেরকে যমীনে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।”
📌 তাদাব্বুর: পার্থিব জীবনের বিস্তৃতি ও আখেরাতের মহাসমাবেশ—স্রষ্টার সৃষ্টিতে ছড়িয়ে পড়ার পর পুনরায় তাঁর কাছেই একত্রীকরণ।
৩১৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুলক ৬৭:২৬

قُلْ إِنَّمَا ٱلْعِلْمُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٢٦ ۝

“বল, ‘সে জ্ঞান তো কেবল আল্লাহর কাছেই আছে, আমি শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।”
📌 তাদাব্বুর: কেয়ামতের সময়কাল রবের একান্ত রহস্য—সময় নিয়ে বিতর্ক না করে পরিণতির জন্য আত্মপ্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমত্তা।
৩২০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুলক ৬৭:২৮

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِىَ ٱللَّهُ وَمَن مَّعِىَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ ٱلْكَـٰفِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ٢٨ ۝

“বল, ‘‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি আমাকে আর আমার সঙ্গী সাথীদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের উপর দয়া করেন (তাতে তোমাদের লাভটা কী?) মর্মান্তিক শাস্তি থেকে কাফিদেরকে বাঁচাবে কে?”
📌 তাদাব্বুর: মুমিনদের বিনাশ কামনা করা অর্থহীন—অবিশ্বাসীদের উচিত নিজেদের আসন্ন গজব থেকে বাঁচার পথ খোঁজা।
৩২১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুলক ৬৭:২৯

قُلْ هُوَ ٱلرَّحْمَـٰنُ ءَامَنَّا بِهِۦ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٢٩ ۝

“বল, ‘তিনিই দয়াময়, আমরা তাঁর উপরেই ঈমান রাখি, আর তাঁর উপরেই নির্ভর করি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কে সুস্পষ্ট গুমরাহীতে আছে (আমরা না তোমরা)।’”
📌 তাদাব্বুর: ঈমান ও তাওয়াক্কুলের শক্তি—দয়াময় আল্লাহর ওপর অগাধ আস্থাই জীবনের সকল সংকটে মুমিনের পরম আশ্রয়।
৩২২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুলক ৬৭:৩০

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَآؤُكُمْ غَوْرًۭا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَآءٍۢ مَّعِينٍۭ ٣٠ ۝

“বল, ‘‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের তলদেশে চলে যায়, তাহলে তোমাদেরকে কে এনে দেবে প্রবহমান পানি?’’”
📌 তাদাব্বুর: পানির মত জীবনধারণের মৌলিক উপাদানে রবের প্রভুত্ব—একটি সাধারণ নিয়ামত বন্ধ হলেই মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে।
৩২৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জ্বিন ৭২:১

قُلْ أُوحِىَ إِلَىَّ أَنَّهُ ٱسْتَمَعَ نَفَرٌۭ مِّنَ ٱلْجِنِّ فَقَالُوٓا۟ إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًۭا ١ ۝

“বল, ‘‘আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর তারা বলেছে ‘আমরা এক অতি আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি”
📌 তাদাব্বুর: কুরআনের সার্বজনীন প্রভাব—মানুষ ছাড়িয়ে অদৃশ্য জ্বিন জাতিকেও সত্যের এই কালাম আলোড়িত ও মোহিত করে।
৩২৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জ্বিন ৭২:২০

قُلْ إِنَّمَآ أَدْعُوا۟ رَبِّى وَلَآ أُشْرِكُ بِهِۦٓ أَحَدًۭا ٢٠ ۝

“বল: আমি শুধু আমার প্রতিপালককেই ডাকি, আর অন্য কাউকে তাঁর অংশীদার গণ্য করি না।”
📌 তাদাব্বুর: তাওহীদের চূড়ান্ত ঘোষণা—প্রার্থনা ও দোয়ার একমাত্র হকদার নিখিল জাহানের একক রব আল্লাহ।
৩২৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জ্বিন ৭২:২১

قُلْ إِنِّى لَآ أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّۭا وَلَا رَشَدًۭا ٢١ ۝

“বল- ‘আমি তোমাদের কোন ক্ষতি বা কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখি না।”
📌 তাদাব্বুর: নবুওয়তের শীর্ষ মর্যাদায় থেকেও সম্পূর্ণ বিনম্র দাসত্ব—কল্যাণ ও অকল্যাণের একক নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তায়ালা।
৩২৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জ্বিন ৭২:২২

قُلْ إِنِّى لَن يُجِيرَنِى مِنَ ٱللَّهِ أَحَدٌۭ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِۦ مُلْتَحَدًا ٢٢ ۝

“বল- আল্লাহর (শাস্তি) থেকে কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারবে না (যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই) এবং তাঁর আশ্রয় ছাড়া আমি কোন আশ্রয়ও পাব না।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহর ওপর পরম নির্ভরতা—সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলও তাঁর রবের রহমত ও ক্ষমার চিরন্তন মুখাপেক্ষী।
৩২৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-জ্বিন ৭২:২৫

قُلْ إِنْ أَدْرِىٓ أَقَرِيبٌۭ مَّا تُوعَدُونَ أَمْ يَجْعَلُ لَهُۥ رَبِّىٓ أَمَدًا ٢٥ ۝

“বল- ‘আমি জানি না তোমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা কি নিকটবর্তী, না তার জন্য আমার প্রতিপালক কোন দীর্ঘ মেয়াদ নির্দিষ্ট করবেন।’”
📌 তাদাব্বুর: গায়েবের নিরঙ্কুশ জ্ঞান আল্লাহর হাতে—রাসূলের দায়িত্ব সত্যকে পৌঁছে দেওয়া, শাস্তির সময় নির্ধারণ নয়।
৩২৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নাযিয়াত ৭৯:১৮

فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ ١٨ ۝

“তাকে জিজ্ঞেস কর, ‘তুমি কি পবিত্রতা অবলম্বন করতে ইচ্ছুক?”
📌 তাদাব্বুর: অহংকারী জালেমকেও প্রথমে কোমল ও কল্যাণকামী ভাষায় আত্মশুদ্ধি ও আত্মপবিত্রতার দিকে আহ্বান জানানোর নববী পদ্ধতি।
৩২৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-কাফিরুন ১০৯:১

قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْكَـٰفِرُونَ ١ ۝

“বলুন, ‘হে কাফের সম্প্রদায়! আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের ইবাদত তোমরা করো; এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি; আর আমি তাদের ইবাদতকারী নই যাদের ইবাদত তোমরা করেছ; এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি; তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আর আমার জন্য আমার দ্বীন’ (সূরা আল-কাফিরুন ১০৯:১–৬)।”
📌 তাদাব্বুর: ঈমান ও শিরকের মাঝে আপসহীন বিভাজনরেখা—তাওহীদ ও সত্যের প্রশ্নে কোনো আত্মপ্রবঞ্চনামূলক সমঝোতা নেই।
৩৩০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ইখলাস ১১২:১

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ۝

“বলুন, ‘তিনিই আল্লাহ, একক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (সকলের আশ্রয়স্থল)। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি; আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই’ (সূরা আল-ইখলাস ১১২:১–৪)।”
📌 তাদাব্বুর: কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান খাঁটি তাওহীদের নির্যাস—আল্লাহর পবিত্র সত্তা ও গুণাবলির অতুলনীয় পরিচয়।
৩৩১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফালাক ১১৩:১

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١ ۝

“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার রবের—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে; এবং ঘোর অন্ধকারের অনিষ্ট হতে যখন তা আচ্ছন্ন করে; এবং গ্রন্থিতে ফুঁৎকারকারিণীদের অনিষ্ট হতে; এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে’ (সূরা আল-ফালাক ১১৩:১–৫)।”
📌 তাদাব্বুর: অন্ধকার, অনিষ্ট ও হিংসা থেকে প্রভাতের আলোর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পবিত্র আশ্রয়ে আত্মরক্ষা।
৩৩২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নাস ১১৪:১

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ ۝

“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের একমাত্র উপাস্যের—আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে; যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, জিনের মধ্য থেকে কিংবা মানুষের মধ্য থেকে’ (সূরা আন-নাস ১১৪:১–৬)।”
📌 তাদাব্বুর: আত্মার প্ররোচনা ও শয়তানি কুমন্ত্রণা থেকে মানুষের একমাত্র রব, অধিপতি ও উপাস্যের নিরাপত্তায় আশ্রয়।
✨

৩৩২টি ঐশী অনুশাসনের ঐতিহাসিক মহাসমাপ্তি

আলহামদুলিল্লাহ! সূরা আল-বাকারা থেকে সূরা আন-নাস পর্যন্ত মোট ১১টি পর্বে বিস্তৃত এই ধারাবাহিক সংকলনে আমরা কুরআনের সমস্ত ৩৩২টি সরাসরি ‘ক্বুল’ (বলুন) নির্দেশনার মুখোমুখি হয়েছি। এতে রয়েছে তাওহীদের অকাট্য প্রমাণ, রিসালাতের সত্যতা, আখিরাতের অনিবার্যতা, নৈতিক শিষ্টাচার এবং অন্তরের পবিত্রতা অর্জনের ঐশী দিকনির্দেশনা।

পূর্ণ ১১টি পর্ব সম্পন্ন সর্বমোট ৩৩২টি ঐশী অনুশাসন আল-ফালাক ও আন-নাস দিয়ে সমাপ্ত
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।