قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৮)

আলম এম.আলম এম.৪ অক্টোবর, ২০২৬
ঐশী বাণীমালা • পর্ব ৮ • ২১১–২৪০ তম ঐশী অনুশাসন

‘قُلْ’ (বলুন) — আল-মুমিনূন, আন-নূর, আল-ফুরকান ও আন-নামল (২১১ থেকে ২৪০ তম ঐশী অনুশাসন)

অষ্টম পর্বে সূরা আল-মুমিনূন, আন-নূর, আল-ফুরকান, আশ-শুয়ারা, আন-নামল, আল-কাসাস এবং আল-আনকাবূতের সূচনালগ্ন পর্যন্ত ২১১ থেকে ২৪০ নম্বর ঐশী অনুশাসন সংকলিত হয়েছে। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে মুশরিকদের বিবেক জাগরণ ও আল্লাহর একক সার্বভৌমত্ব এখানে স্পষ্ট।

📋 পর্ব-৮-এর দ্রুত পাঠ সূচিপত্র (২১১–২৪০)

মোট ৩০টি ঐশী নির্দেশনা
ক্রমিক সূরা ও আয়াত আরবি বাণী (قُلْ) বাংলা অর্থ
২১১ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৪ قُل لِّمَنِ ٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهَآ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٨٤ বল : এ পৃথিবী আর তার ভিতরে যা আছে তা কার? (বল) যদি তোমরা জান!
২১২ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৫ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ٨٥ তারা বলবে- আল্লাহর। বল : তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
২১৩ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৬ قُلْ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ ٱلسَّبْعِ وَرَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ ٨٦ বলঃ সাত আসমান আর মহান আরশের মালিক কে?
২১৪ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৭ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ٨٧ তারা বলবেঃ (এগুলোর মালিকানা) আল্লাহর। বলঃ তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
২১৫ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৮ قُلْ مَنۢ بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍۢ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنت... বলঃ সব কিছুর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার হাতে? তিনি (সকলকে) আশ্রয় দেন, তাঁর উপর কোন আশ্রয় দাতা নেই, (বল) তোমরা যদি জান।
২১৬ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৯ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ فَأَنَّىٰ تُسْحَرُونَ ٨٩ তারা বলবে (সকল কিছুর কর্তৃত্ব) আল্লাহর। তাহলে কেমন করে তোমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়ছ?
২১৭ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৯৩ قُل رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّى مَا يُوعَدُونَ ٩٣ বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যদি আমাকে দেখাও (আমার জীবদ্দশায়) যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে,
২১৮ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৯৭ وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَٰتِ ٱلشَّيَـٰطِينِ ٩٧ আর বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়ত্বানের কুমন্ত্রণা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
২১৯ সূরা আল-মুমিনূন ২৩:১১৮ وَقُل رَّبِّ ٱغْفِرْ وَٱرْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١١٨ কাজেই বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও রহম কর, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’
২২০ সূরা আন-নূর ২৪:৩০ قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا۟ مِنْ أَبْصَـٰرِهِمْ وَيَحْفَظُوا۟ فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَ... মু’মিনদের বল তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র, তারা যা ক...
২২১ সূরা আন-নূর ২৪:৩১ وَقُل لِّلْمُؤْمِنَـٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَـٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُ... আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য...
২২২ সূরা আন-নূর ২৪:৫৩ ۞ وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَـٰنِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ ۖ قُل لّ... (হে নবী!) তারা শক্ত করে কসম খেয়ে বলে যে, তুমি তাদেরকে আদেশ করলে তারা অবশ্য অবশ্যই বের হবে, বল : তোমরা কসম খেয়ো...
২২৩ সূরা আন-নূর ২৪:৫৪ قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَ... বল : আল্লাহর আনুগত্য ও রসূলের আনুগত্য কর, অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও তাহলে তার (অর্থাৎ রসূলের) উপর অর্পিত দ...
২২৪ সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬ قُلْ أَنزَلَهُ ٱلَّذِى يَعْلَمُ ٱلسِّرَّ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ غ... বল : ‘তা তিনিই নাযিল করেছেন যিনি আসমান-যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় অবগত আছেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
২২৫ সূরা আল-ফুরকান ২৫:১৫ قُلْ أَذَٰلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ ٱلْخُلْدِ ٱلَّتِى وُعِدَ ٱلْمُتَّقُونَ ۚ كَانَتْ لَهُمْ... তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- এটাই উত্তম না চিরস্থায়ী জান্নাত, মুত্তাকীদেরকে যার ওয়াদা দেয়া হয়েছে? তাদের জন্য এটা হবে প্...
২২৬ সূরা আল-ফুরকান ২৫:৫৭ قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِلَّا مَن شَآءَ أَن يَتَّخِذَ إِلَىٰ رَبِّه... বল- এজন্য আমি তোমাদের কাছে এছাড়া কোন প্রতিদান চাই না যে, যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।
২২৭ সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭৭ قُلْ مَا يَعْبَؤُا۟ بِكُمْ رَبِّى لَوْلَا دُعَآؤُكُمْ ۖ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُو... (কাফিরদেরকে) বল : ‘তোমাদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালকের কী প্রয়োজন পড়েছে তোমরা যদি তাঁকে না ডাকো? তোমরা তো তাঁকে...
২২৮ সূরা আশ-শুয়ারা ২৬:২১৬ فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ ٢١٦ তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তাহলে তুমি বলে দাও- তোমরা যা কর তার সঙ্গে আমি সম্পর্কহীন।
২২৯ সূরা আন-নামল ২৭:৫৯ قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَـٰمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰٓ ۗ ءَآللَّهُ خَيْر... বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, না তা যার শরীক করে তারা?
২৩০ সূরা আন-নামল ২৭:৬৪ أَمَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْ... নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে...
২৩১ সূরা আন-নামল ২৭:৬৫ قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ٱلْغَيْبَ إِلَّا ٱللَّهُ ۚ وَمَا يَشْ... বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জী...
২৩২ সূরা আন-নামল ২৭:৬৯ قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُجْرِمِينَ ٦٩ বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।
২৩৩ সূরা আন-নামল ২৭:৭২ قُلْ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ ٱلَّذِى تَسْتَعْجِلُونَ ٧٢ বল, তোমরা যা পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করছ সম্ভবতঃ তার কিছু তোমাদের পিঠের পেছনে এসে গেছে।
২৩৪ সূরা আন-নামল ২৭:৯২ وَأَنْ أَتْلُوَا۟ ٱلْقُرْءَانَ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن... আর আমি যেন কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে সঠিক পথে চলবে, সে নিজের কল্যাণেই সঠিক পথে চলবে। আর কেউ গুমরাহ্ হলে তুম...
২৩৫ সূরা আন-নামল ২৭:৯৩ وَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ فَتَعْرِفُونَهَا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَـٰف... আর বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনগুলো দেখাবেন আর তা তোমরা চিনতে পারবে। তোমরা...
২৩৬ সূরা আল-কাসাস ২৮:৪৯ قُلْ فَأْتُوا۟ بِكِتَـٰبٍۢ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ هُوَ أَهْدَىٰ مِنْهُمَآ أَتَّبِعْهُ إِن كُ... বল, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহর নিকট হতে এমন কিতাব নিয়ে এসো যা সত্যপথ নির্দেশ করার ব্যাপারে এ দু’ (কিতাব...
২৩৭ সূরা আল-কাসাস ২৮:৭১ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن جَعَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمُ ٱلَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰ... তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যদি তোমাদের উপর রাতকে ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করতেন তাহলে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলা...
২৩৮ সূরা আল-কাসাস ২৮:৭২ قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن جَعَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمُ ٱلنَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَ... তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যদি তোমাদের উপর দিনকে ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করতেন তাহলে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলা...
২৩৯ সূরা আল-কাসাস ২৮:৮৫ إِنَّ ٱلَّذِى فَرَضَ عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لَرَآدُّكَ إِلَىٰ مَعَادٍۢ ۚ قُل رَّبِّىٓ أَعْ... যিনি তোমার প্রতি কুরআন বিধিবদ্ধ করেছেন তিনি অবশ্যই তোমাকে মূলভূমিতে (মাক্কায়) ফিরিয়ে আনবেন। বল, আমার প্রতিপালক...
২৪০ সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২০ قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ بَدَأَ ٱلْخَلْقَ ۚ ثُمَّ ٱللَّهُ يُنشِئُ ٱل... বল- ‘তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর লক্ষ্য কর কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পর...
২১১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৪

قُل لِّمَنِ ٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهَآ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٨٤ ۝

“বল : এ পৃথিবী আর তার ভিতরে যা আছে তা কার? (বল) যদি তোমরা জান!”
📌 তাদাব্বুর: মহাজাগতিক সংলাপের সূচনা: পৃথিবীর একচ্ছত্র মালিকানা কার হাতে?
২১২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৫

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ٨٥ ۝

“তারা বলবে- আল্লাহর। বল : তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?”
📌 তাদাব্বুর: বিশ্বজাহানের মালিকানা আল্লাহর জানার পরও অন্ধ সংস্কার ত্যাগ করে সঠিক উপদেশ গ্রহণ করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
২১৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৬

قُلْ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ ٱلسَّبْعِ وَرَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ ٨٦ ۝

“বলঃ সাত আসমান আর মহান আরশের মালিক কে?”
📌 তাদাব্বুর: সপ্ত আকাশ ও মহা আরশের একক প্রতিপালক আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্ব।
২১৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৭

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ٨٧ ۝

“তারা বলবেঃ (এগুলোর মালিকানা) আল্লাহর। বলঃ তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না?”
📌 তাদাব্বুর: সাত আসমান ও মহান আরশের মালিককে স্বীকার করার পরও তাঁর অবাধ্য হওয়া চরম আত্মপ্রবঞ্চনা।
২১৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৮

قُلْ مَنۢ بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍۢ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٨٨ ۝

“বলঃ সব কিছুর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার হাতে? তিনি (সকলকে) আশ্রয় দেন, তাঁর উপর কোন আশ্রয় দাতা নেই, (বল) তোমরা যদি জান।”
📌 তাদাব্বুর: নিরাপত্তা ও ক্ষমতার চরম পরাকাষ্ঠা: যাঁর ইচ্ছার বিপরীতে কোনো শক্তি কাউকে বাঁচাতে পারে না।
২১৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৮৯

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ فَأَنَّىٰ تُسْحَرُونَ ٨٩ ۝

“তারা বলবে (সকল কিছুর কর্তৃত্ব) আল্লাহর। তাহলে কেমন করে তোমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়ছ?”
📌 তাদাব্বুর: সকল কর্তৃত্ব আল্লাহর জেনেও বিভ্রান্তিতে আচ্ছন্ন থাকা জ্ঞানীদের জন্য এক গভীর বিস্ময়ের বিষয়।
২১৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৯৩

قُل رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّى مَا يُوعَدُونَ ٩٣ ۝

“বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যদি আমাকে দেখাও (আমার জীবদ্দশায়) যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে,”
📌 তাদাব্বুর: জালেমদের অনিবার্য শাস্তির সময় রবের রহমতের মধ্যে আশ্রয়ের আকুল প্রার্থনা।
২১৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৯৭

وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَٰتِ ٱلشَّيَـٰطِينِ ٩٧ ۝

“আর বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়ত্বানের কুমন্ত্রণা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
📌 তাদাব্বুর: অন্তরের গোপন কুমন্ত্রণা ও শয়তানি উসকানি থেকে রবের পবিত্র সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক আশ্রয়।
২১৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:১১৮

وَقُل رَّبِّ ٱغْفِرْ وَٱرْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١١٨ ۝

“কাজেই বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও রহম কর, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’”
📌 তাদাব্বুর: সূরা আল-মুমিনূনের সমাপ্তির ঐশী দোয়া: পরম ক্ষমা ও দয়ার চিরন্তন আর্জি।
২২০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নূর ২৪:৩০

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا۟ مِنْ أَبْصَـٰرِهِمْ وَيَحْفَظُوا۟ فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ ٣٠ ۝

“মু’মিনদের বল তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র, তারা যা কিছু করে সে সম্পর্কে আল্লাহ খুব ভালভাবেই অবগত।”
📌 তাদাব্বুর: দৃষ্টির সংযম ও চারিত্রিক পবিত্রতা—অন্তরের নিষ্কলুষতা ও আত্মশুদ্ধির মূল সোপান।
২২১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নূর ২৪:৩১

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَـٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَـٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَآئِهِنَّ أَوْ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّـٰبِعِينَ غَيْرِ أُو۟لِى ٱلْإِرْبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفْلِ ٱلَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا۟ عَلَىٰ عَوْرَٰتِ ٱلنِّسَآءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ٣١ ۝

“আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাই-এর ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”
📌 তাদাব্বুর: দৃষ্টির সংযম ও হৃদয়ের পবিত্রতা—একটি নৈতিক ও রুচিশীল সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
২২২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নূর ২৪:৫৩

۞ وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَـٰنِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ ۖ قُل لَّا تُقْسِمُوا۟ ۖ طَاعَةٌۭ مَّعْرُوفَةٌ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ٥٣ ۝

“(হে নবী!) তারা শক্ত করে কসম খেয়ে বলে যে, তুমি তাদেরকে আদেশ করলে তারা অবশ্য অবশ্যই বের হবে, বল : তোমরা কসম খেয়ো না, স্বাভাবিক আনুগত্যই কাম্য, বস্তুতঃ তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।”
📌 তাদাব্বুর: কপট মিথ্যা শপথের অসারতা বনাম অন্তরের বাস্তব আনুগত্য ও খোদাভীতি।
২২৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নূর ২৪:৫৪

قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا۟ ۚ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلْبَلَـٰغُ ٱلْمُبِينُ ٥٤ ۝

“বল : আল্লাহর আনুগত্য ও রসূলের আনুগত্য কর, অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও তাহলে তার (অর্থাৎ রসূলের) উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী, আর তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী, তোমরা যদি তার আনুগত্য কর তবে সঠিক পথ পাবে, রসূলের দায়িত্ব হচ্ছে স্পষ্টভাবে (বাণী) পৌঁছে দেয়া।”
📌 তাদাব্বুর: দ্বীনের মূল কেন্দ্রবিন্দু: আল্লাহর বিধান এবং রাসুলের আদর্শের পূর্ণ আনুগত্য।
২২৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬

قُلْ أَنزَلَهُ ٱلَّذِى يَعْلَمُ ٱلسِّرَّ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٦ ۝

“বল : ‘তা তিনিই নাযিল করেছেন যিনি আসমান-যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় অবগত আছেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।”
📌 তাদাব্বুর: কুরআনের গভীর জ্ঞানের উৎস: আসমান-যমীনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব রহস্যের জ্ঞাতা আল্লাহ।
২২৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফুরকান ২৫:১৫

قُلْ أَذَٰلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ ٱلْخُلْدِ ٱلَّتِى وُعِدَ ٱلْمُتَّقُونَ ۚ كَانَتْ لَهُمْ جَزَآءًۭ وَمَصِيرًۭا ١٥ ۝

“তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- এটাই উত্তম না চিরস্থায়ী জান্নাত, মুত্তাকীদেরকে যার ওয়াদা দেয়া হয়েছে? তাদের জন্য এটা হবে প্রতিদান ও শেষ আবাসস্থল।”
📌 তাদাব্বুর: জাহান্নামের ধ্বংস বনাম জান্নাতের চিরন্তন শান্তির তুলনামূলক বিবেকী প্রশ্ন।
২২৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৫৭

قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِلَّا مَن شَآءَ أَن يَتَّخِذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًۭا ٥٧ ۝

“বল- এজন্য আমি তোমাদের কাছে এছাড়া কোন প্রতিদান চাই না যে, যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।”
📌 তাদাব্বুর: নবুওয়াতের নির্লোভ ও নিঃস্বার্থ দাওয়াত—লক্ষ্য কেবল বান্দাকে রবের পথে যুক্ত করা।
২২৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭৭

قُلْ مَا يَعْبَؤُا۟ بِكُمْ رَبِّى لَوْلَا دُعَآؤُكُمْ ۖ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًۢا ٧٧ ۝

“(কাফিরদেরকে) বল : ‘তোমাদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালকের কী প্রয়োজন পড়েছে তোমরা যদি তাঁকে না ডাকো? তোমরা তো তাঁকে অস্বীকার করেছ, কাজেই শীঘ্রই তোমাদের উপর এসে পড়বে অপ্রতিরোধ্য (শাস্তি)।”
📌 তাদাব্বুর: সূরা আল-ফুরকানের চূড়ান্ত বাক্য: রবের কাছে মানুষের আসল মূল্য তার বিনম্র দোয়ায়।
২২৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আশ-শুয়ারা ২৬:২১৬

فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ ٢١٦ ۝

“তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তাহলে তুমি বলে দাও- তোমরা যা কর তার সঙ্গে আমি সম্পর্কহীন।”
📌 তাদাব্বুর: ন্যায় ও অসত্যের সীমারেখা সুস্পষ্ট রাখা; অবাধ্য ও অন্যায়কারীদের যেকোনো অন্যায় কর্ম থেকে নিজেকে স্পষ্ট বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করা।
২২৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৫৯

قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَـٰمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰٓ ۗ ءَآللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ ٥٩ ۝

“বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, না তা যার শরীক করে তারা?”
📌 তাদাব্বুর: বিশ্বস্রষ্টার প্রতি সার্বক্ষণিক কৃতজ্ঞতা ও নবী-রাসূলগণের প্রতি সালাম।
২৩০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৬৪

أَمَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۗ أَءِلَـٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٦٤ ۝

“নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক দান করেন? আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? বল, তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের প্রমাণপঞ্জি পেশ কর।”
📌 তাদাব্বুর: প্রমাণের অকাট্য নীতি: কোনো অন্ধ বিশ্বাস নয়, সত্যের মানদণ্ড হলো যুক্তি ও প্রমাণ।
২৩১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৬৫

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ٱلْغَيْبَ إِلَّا ٱللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ ٦٥ ۝

“বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক’রে উঠানো হবে।”
📌 তাদাব্বুর: গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের একচ্ছত্র একত্ববাদ—কোনো সৃষ্টি এতে শরিক নয়।
২৩২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৬৯

قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُجْرِمِينَ ٦٩ ۝

“বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।”
📌 তাদাব্বুর: ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের পাঠ: অহংকারী সীমা লঙ্ঘনকারীদের ধ্বংসের চিহ্ন দর্শন।
২৩৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৭২

قُلْ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ ٱلَّذِى تَسْتَعْجِلُونَ ٧٢ ۝

“বল, তোমরা যা পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করছ সম্ভবতঃ তার কিছু তোমাদের পিঠের পেছনে এসে গেছে।”
📌 তাদাব্বুর: বিদ্রূপকারীদের সতর্কবার্তা: আজাব দূরের কিছু নয়, যেকোনো মুহূর্তে তা গ্রাস করতে পারে।
২৩৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৯২

وَأَنْ أَتْلُوَا۟ ٱلْقُرْءَانَ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ ٩٢ ۝

“আর আমি যেন কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে সঠিক পথে চলবে, সে নিজের কল্যাণেই সঠিক পথে চলবে। আর কেউ গুমরাহ্ হলে তুমি বল, আমি তো সতর্ককারীদের একজন।”
📌 তাদাব্বুর: কুরআন তিলাওয়াত ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের আত্মশুদ্ধি অর্জন করা এবং পথভ্রষ্টদের পরিণতি বিষয়ে সতর্ক করা।
২৩৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আন-নামল ২৭:৯৩

وَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ فَتَعْرِفُونَهَا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٩٣ ۝

“আর বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনগুলো দেখাবেন আর তা তোমরা চিনতে পারবে। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে তোমার পালনকর্তা অমনোযোগী নন।”
📌 তাদাব্বুর: সূরা আন-নামলের সমাপনী ভবিষ্যদ্বাণী: সময়ের পরিক্রমায় ওহির সত্য স্পষ্টতর হবে।
২৩৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-কাসাস ২৮:৪৯

قُلْ فَأْتُوا۟ بِكِتَـٰبٍۢ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ هُوَ أَهْدَىٰ مِنْهُمَآ أَتَّبِعْهُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٤٩ ۝

“বল, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহর নিকট হতে এমন কিতাব নিয়ে এসো যা সত্যপথ নির্দেশ করার ব্যাপারে এ দু’ (কিতাব) হতে অধিক উৎকৃষ্ট, আমি সে কিতাবের অনুসরণ করব।”
📌 তাদাব্বুর: জ্ঞানতাত্ত্বিক সততা ও চ্যালেঞ্জ: হেদায়েতের ক্ষেত্রে ওহির চেয়ে উত্তম কোনো পথ নেই।
২৩৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-কাসাস ২৮:৭১

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن جَعَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمُ ٱلَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ مَنْ إِلَـٰهٌ غَيْرُ ٱللَّهِ يَأْتِيكُم بِضِيَآءٍ ۖ أَفَلَا تَسْمَعُونَ ٧١ ۝

“তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যদি তোমাদের উপর রাতকে ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করতেন তাহলে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ আছে কি যে তোমাদেরকে আলো এনে দিত? তবুও কি তোমরা কর্ণপাত করবে না?”
📌 তাদাব্বুর: মহাজাগতিক ভারসাম্য: সূর্যের আলো ও দিনের অপরিসীম নিয়ামতের গভীর উপলব্ধি।
২৩৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-কাসাস ২৮:৭২

قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن جَعَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمُ ٱلنَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ مَنْ إِلَـٰهٌ غَيْرُ ٱللَّهِ يَأْتِيكُم بِلَيْلٍۢ تَسْكُنُونَ فِيهِ ۖ أَفَلَا تُبْصِرُونَ ٧٢ ۝

“তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যদি তোমাদের উপর দিনকে ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করতেন তাহলে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ আছে কি যে তোমাদের জন্য রাত্রি এনে দিত যাতে তোমরা আরাম করতে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখবে না?”
📌 তাদাব্বুর: জীবনের বিশ্রাম ও রাত্রির অন্ধকারের নিখুঁত প্রাকৃতিক ব্যবস্থা।
২৩৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-কাসাস ২৮:৮৫

إِنَّ ٱلَّذِى فَرَضَ عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لَرَآدُّكَ إِلَىٰ مَعَادٍۢ ۚ قُل رَّبِّىٓ أَعْلَمُ مَن جَآءَ بِٱلْهُدَىٰ وَمَنْ هُوَ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٨٥ ۝

“যিনি তোমার প্রতি কুরআন বিধিবদ্ধ করেছেন তিনি অবশ্যই তোমাকে মূলভূমিতে (মাক্কায়) ফিরিয়ে আনবেন। বল, আমার প্রতিপালক ভাল করেই জানেন কে সৎপথের নির্দেশ নিয়ে এসেছে আর কে আছে সুস্পষ্ট গুমরাহীতে।”
📌 তাদাব্বুর: প্রত্যাবর্তন ও প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা—হিজরতের সংকটময় মুহূর্তে চূড়ান্ত বিজয়ের পরম আশ্বাস।
২৪০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২০

قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ بَدَأَ ٱلْخَلْقَ ۚ ثُمَّ ٱللَّهُ يُنشِئُ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْـَٔاخِرَةَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٢٠ ۝

“বল- ‘তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর লক্ষ্য কর কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি, আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।”
📌 তাদাব্বুর: সৃষ্টিতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান ও ভূতত্ত্বের গভীর গবেষণার এক চিরন্তন ঐশী আহ্বান।
✨

পর্ব-৮ এর সমাপ্তি ও পর্যালোচনা

২১১ থেকে ২৪০ নম্বর বাণীতে আকাশ ও পৃথিবীর মালিকানা নিয়ে মানুষের স্বভাবজাত স্বীকারোক্তি এবং তার ভিত্তিতে তাওহীদের অকাট্য সিদ্ধান্তসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পরবর্তী পর্বে কুরআনের অবশিষ্ট ‘ক্বুল’ বাণীসমূহ ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।