قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৯)

আলম এম.আলম এম.৪ অক্টোবর, ২০২৬
ঐশী বাণীমালা • পর্ব ৯ • ২৪১–২৭০ তম ঐশী অনুশাসন

‘قُلْ’ (বলুন) — আল-আনকাবূত, আর-রূম, সাবা, ফাত্বির ও ইয়াসীন (২৪১ থেকে ২৭০ তম ঐশী অনুশাসন)

নবম পর্বে সূরা আল-আনকাবূতের শেষাংশ থেকে শুরু করে আর-রূম, লোকমান, আস-সাজদাহ, আল-আহযাব, সাবা, ফাত্বির, ইয়াসীন এবং আস-সাফফাত পর্যন্ত ২৪১ থেকে ২৭০ নম্বর ঐশী অনুশাসন সংকলিত হয়েছে। পুনরুত্থানের নিশ্চিত প্রমাণ এবং রিসালাতের সত্যতা এখানে প্রধান উপজীব্য।

📋 পর্ব-৯-এর দ্রুত পাঠ সূচিপত্র (২৪১–২৭০)

মোট ৩০টি ঐশী নির্দেশনা
ক্রমিক সূরা ও আয়াত আরবি বাণী (قُلْ) বাংলা অর্থ
২৪১ সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৫০ وَقَالُوا۟ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَـٰتٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ ۖ قُلْ إِنَّمَا ٱلْـَٔايَـٰ... তারা বলে- তার কাছে তার প্রতিপালকের নিকট হতে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন? বল, নিদর্শন তো আছে আল্লাহর কাছে, আম...
২৪২ সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৫২ قُلْ كَفَىٰ بِٱللَّهِ بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ شَهِيدًۭا ۖ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱ... বল, আমার আর তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট, আসমানসমূহ আর যমীনে যা আছে তা তিনি জানেন। আর যারা মিথ্য...
২৪৩ সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৬৩ وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ مِنۢ ب... যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ হতে কে পানি বর্ষণ ক’রে যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করেন? তারা অবশ্য...
২৪৪ সূরা আর-রূম ৩০:৪২ قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلُ ۚ كَا... বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ আগে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
২৪৫ সূরা লোকমান ৩১:২৫ وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلِ ٱل... যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশমন্ডলী ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে- আল্লাহ। বল, যাবতীয় প্র...
২৪৬ সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১১ ۞ قُلْ يَتَوَفَّىٰكُم مَّلَكُ ٱلْمَوْتِ ٱلَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْ... বল, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদে...
২৪৭ সূরা আস-সাজদাহ ৩২:২৯ قُلْ يَوْمَ ٱلْفَتْحِ لَا يَنفَعُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِيمَـٰنُهُمْ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ٢٩ বল, ফয়সালার দিনে (সব কিছু দেখার পর) কাফিরদের ঈমান আনয়ন তাদের কোন উপকার দিবে না, আর তাদেরকে কোন সময়ও দেয়া হবে না।
২৪৮ সূরা আল-আহযাব ৩৩:১৬ قُل لَّن يَنفَعَكُمُ ٱلْفِرَارُ إِن فَرَرْتُم مِّنَ ٱلْمَوْتِ أَوِ ٱلْقَتْلِ وَإِذًۭا لَّا... বল, পলায়নে তোমাদের কোনই লাভ হবে না, যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর তাহলে তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করত...
২৪৯ সূরা আল-আহযাব ৩৩:১৭ قُلْ مَن ذَا ٱلَّذِى يَعْصِمُكُم مِّنَ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوٓءًا أَوْ أَرَادَ بِ... বল, তোমাদেরকে আল্লাহ (’র শাস্তি) হতে কে রক্ষা করবে তিনি যদি তোমাদের অকল্যাণ করতে চান অথবা তোমাদেরকে অনুগ্রহ কর...
২৫০ সূরা আল-আহযাব ৩৩:২৮ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا و... হে নবী (সা.)! তুমি তোমার স্ত্রীদের বলে দাও- তোমরা যদি পার্থিব জীবন আর তার শোভাসৌন্দর্য কামনা কর, তাহলে এসো, তো...
২৫১ সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلْمُؤْمِنِينَ يُدْنِين... হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, তোমার কন্যাদেরকে আর মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও- তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অং...
২৫২ সূরা আল-আহযাব ৩৩:৬৩ يَسْـَٔلُكَ ٱلنَّاسُ عَنِ ٱلسَّاعَةِ ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ ٱللَّهِ ۚ وَمَا يُدْر... লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্...
২৫৩ সূরা সাবা ৩৪:৩ وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَا تَأْتِينَا ٱلسَّاعَةُ ۖ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّى لَتَأْتِيَنَّ... কাফিরগণ বলে- ক্বিয়ামত আমাদের নিকট আসবে না। বল, না, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদের নিকট তা অবশ্য অবশ্যই আসবে। তি...
২৫৪ সূরা সাবা ৩৪:২২ قُلِ ٱدْعُوا۟ ٱلَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍۢ... বল, আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে (ইলাহ) মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণও কোন কিছুর মালিক...
২৫৫ সূরা সাবা ৩৪:২৪ (১ম ‘ক্বুল’) ۞ قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ ۖ وَإِنَّآ أَوْ إِ... বল- আসমান ও যমীন হতে কে তোমাদেরকে রিযক দান করেন? বল- আল্লাহ। হয় আমরা, না হয় তোমরা অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত অথবা স...
২৫৬ সূরা সাবা ৩৪:২৪ (২য় ‘ক্বুল’) ۞ قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ ۖ وَإِنَّآ أَوْ إِ... বল- আসমান ও যমীন হতে কে তোমাদেরকে রিযক দান করেন? বল- আল্লাহ। হয় আমরা, না হয় তোমরা অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত অথবা স...
২৫৭ সূরা সাবা ৩৪:২৫ قُل لَّا تُسْـَٔلُونَ عَمَّآ أَجْرَمْنَا وَلَا نُسْـَٔلُ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٢٥ বল- আমাদের অপরাধের জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না, আর তোমরা যা কর তার জন্য আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না।
২৫৮ সূরা সাবা ৩৪:২৬ قُلْ يَجْمَعُ بَيْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ يَفْتَحُ بَيْنَنَا بِٱلْحَقِّ وَهُوَ ٱلْفَتَّاحُ ٱل... বল- আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে একত্রিত করবেন অবশেষে তিনি আমাদের মাঝে সত্য ও ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করবেন। তিনি স...
২৫৯ সূরা সাবা ৩৪:২৭ قُلْ أَرُونِىَ ٱلَّذِينَ أَلْحَقْتُم بِهِۦ شُرَكَآءَ ۖ كَلَّا ۚ بَلْ هُوَ ٱللَّهُ ٱلْعَزِ... বল- তোমরা আমাকে (তাদেরকে) দেখাও যাদেরকে তোমরা তাঁর অংশীদার জুড়ে দিয়েছ। কক্ষনো (দেখাতে পারবে) না, বরং তিনি আল্ল...
২৬০ সূরা সাবা ৩৪:৩০ قُل لَّكُم مِّيعَادُ يَوْمٍۢ لَّا تَسْتَـْٔخِرُونَ عَنْهُ سَاعَةًۭ وَلَا تَسْتَقْدِمُونَ ٣٠ বল- তোমাদের জন্য আছে এক নির্ধারিত দিন যা তোমরা এক মুহূর্তকালের জন্য বিলম্বিত করতে পারবে না, আর ত্বরান্বিত করতে...
২৬১ সূরা সাবা ৩৪:৩৬ قُلْ إِنَّ رَبِّى يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّا... বল- আমার প্রতিপালক যার জন্য চান রিযক প্রশস্ত করেন বা সীমিত করেন, কিন্তু (এর তাৎপর্য) অধিকাংশ লোকই জানে না।
২৬২ সূরা সাবা ৩৪:৩৯ قُلْ إِنَّ رَبِّى يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ وَيَقْدِرُ لَهُۥ ۚ وَم... বল- আমার প্রতিপালকই তাঁর বান্দাহদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছে রিযক প্রশস্ত করেন, আর যার জন্য ইচ্ছে সীমিত করেন। তোমর...
২৬৩ সূরা সাবা ৩৪:৪৬ ۞ قُلْ إِنَّمَآ أَعِظُكُم بِوَٰحِدَةٍ ۖ أَن تَقُومُوا۟ لِلَّهِ مَثْنَىٰ وَفُرَٰدَىٰ ثُمَّ... বল- আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে নসীহত করছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’ দু’জন বা এক একজন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্...
২৬৪ সূরা সাবা ৩৪:৪৭ قُلْ مَا سَأَلْتُكُم مِّنْ أَجْرٍۢ فَهُوَ لَكُمْ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ ۖ وَ... বল- আমি তোমাদের নিকট হতে কোন পারিশ্রমিক চাই না, বরং তা তোমাদেরই জন্য। আমার পুরস্কার আছে কেবল আল্লাহর কাছে। তিন...
২৬৫ সূরা সাবা ৩৪:৪৮ قُلْ إِنَّ رَبِّى يَقْذِفُ بِٱلْحَقِّ عَلَّـٰمُ ٱلْغُيُوبِ ٤٨ বল- আমার প্রতিপালক সত্য ছুঁড়ে দেন (অসত্যকে আঘাত করার জন্যে)। (যাবতীয়) অদৃশ্য সম্পর্কে তিনি পূর্ণরূপে অবগত।
২৬৬ সূরা সাবা ৩৪:৪৯ قُلْ جَآءَ ٱلْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ ٱلْبَـٰطِلُ وَمَا يُعِيدُ ٤٩ বল- সত্য এসে গেছে, আর মিথ্যের নতুন করে আবির্ভাবও ঘটবে না, আর তার পুনরাবৃত্তিও হবে না।
২৬৭ সূরা সাবা ৩৪:৫০ قُلْ إِن ضَلَلْتُ فَإِنَّمَآ أَضِلُّ عَلَىٰ نَفْسِى ۖ وَإِنِ ٱهْتَدَيْتُ فَبِمَا يُوحِىٓ... বল- আমি যদি গুমরাহ হই, তবে নিজের ক্ষতি করতেই গুমরাহ হব। আর আমি যদি সৎ পথে চলি, তবে আমার প্রতিপালক যে আমার প্রত...
২৬৮ সূরা ফাত্বির ৩৫:৪০ قُلْ أَرَءَيْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَل... বল- তোমরা কি তোমাদের শরীকদেরকে দেখেছ আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডেকে থাক? তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে তা...
২৬৯ সূরা ইয়াসীন ৩৬:৭৯ قُلْ يُحْيِيهَا ٱلَّذِىٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍۢ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ ٧٩ বল, ‘‘তাকে তিনিই জীবন্ত করবেন যিনি ওগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি...
২৭০ সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৮ قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ ١٨ তাদেরকে বল, ‘হাঁ, এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।’
২৪১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৫০

وَقَالُوا۟ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَـٰتٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ ۖ قُلْ إِنَّمَا ٱلْـَٔايَـٰتُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌ ٥٠ ۝

“তারা বলে- তার কাছে তার প্রতিপালকের নিকট হতে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন? বল, নিদর্শন তো আছে আল্লাহর কাছে, আমি কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।”
📌 তাদাব্বুর: অলৌকিক চিহ্নের নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর এখতিয়ারে; রাসুলের মূল কাজ সত্যের বাণী দিয়ে সতর্ক করা।
২৪২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৫২

قُلْ كَفَىٰ بِٱللَّهِ بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ شَهِيدًۭا ۖ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱلْبَـٰطِلِ وَكَفَرُوا۟ بِٱللَّهِ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ ٥٢ ۝

“বল, আমার আর তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট, আসমানসমূহ আর যমীনে যা আছে তা তিনি জানেন। আর যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করে তারাই হল ক্ষতিগ্রস্ত।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহর সর্বজ্ঞাত সাক্ষ্য—মিথ্যা ও বাতিলের অনুসারীরাই চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
২৪৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৬৩

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ مِنۢ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ٦٣ ۝

“যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ হতে কে পানি বর্ষণ ক’রে যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করেন? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে- আল্লাহ। বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝে না।”
📌 তাদাব্বুর: জীবনের প্রতিটি ফোঁটা বৃষ্টি ও ফসলের সঞ্জীবন আল্লাহর দান; সর্বাবস্থায় তাঁরই হামদ ও প্রশংসা জ্ঞাপন করা।
২৪৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আর-রূম ৩০:৪২

قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلُ ۚ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ ٤٢ ۝

“বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ আগে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।”
📌 তাদাব্বুর: ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের পাঠ: অতীত সভ্যতার শিরক ও অবাধ্যতার ধ্বংসাত্মক পরিণতি দর্শন।
২৪৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা লোকমান ৩১:২৫

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٢٥ ۝

“যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশমন্ডলী ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে- আল্লাহ। বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।”
📌 তাদাব্বুর: আসমান ও যমীনের স্রষ্টাকে মুখে স্বীকার করা সত্ত্বেও শিরকে লিপ্ত থাকা মানুষের অজ্ঞতার প্রতীক।
২৪৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১১

۞ قُلْ يَتَوَفَّىٰكُم مَّلَكُ ٱلْمَوْتِ ٱلَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ ١١ ۝

“বল, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।”
📌 তাদাব্বুর: মৃত্যুর অনিবার্যতা এবং রবের দরবারে চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের অমোঘ সত্য।
২৪৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আস-সাজদাহ ৩২:২৯

قُلْ يَوْمَ ٱلْفَتْحِ لَا يَنفَعُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِيمَـٰنُهُمْ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ٢٩ ۝

“বল, ফয়সালার দিনে (সব কিছু দেখার পর) কাফিরদের ঈমান আনয়ন তাদের কোন উপকার দিবে না, আর তাদেরকে কোন সময়ও দেয়া হবে না।”
📌 তাদাব্বুর: শেষ ফায়সালার দিন সুযোগ শেষ হয়ে যাবে; সময় থাকতেই সত্যের সমর্পণ অপরিহার্য।
২৪৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহযাব ৩৩:১৬

قُل لَّن يَنفَعَكُمُ ٱلْفِرَارُ إِن فَرَرْتُم مِّنَ ٱلْمَوْتِ أَوِ ٱلْقَتْلِ وَإِذًۭا لَّا تُمَتَّعُونَ إِلَّا قَلِيلًۭا ١٦ ۝

“বল, পলায়নে তোমাদের কোনই লাভ হবে না, যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর তাহলে তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে।”
📌 তাদাব্বুর: ভয় ও কাপুরুষতার বিভ্রান্তি: নির্ধারিত আয়ু থেকে পলায়ন করার কোনো উপায় নেই।
২৪৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহযাব ৩৩:১৭

قُلْ مَن ذَا ٱلَّذِى يَعْصِمُكُم مِّنَ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوٓءًا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةًۭ ۚ وَلَا يَجِدُونَ لَهُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ وَلِيًّۭا وَلَا نَصِيرًۭا ١٧ ۝

“বল, তোমাদেরকে আল্লাহ (’র শাস্তি) হতে কে রক্ষা করবে তিনি যদি তোমাদের অকল্যাণ করতে চান অথবা তোমাদেরকে অনুগ্রহ করতে চান? তারা আল্লাহকে ছাড়া তাদের জন্য না পাবে কোন অভিভাবক, আর না কোন সাহায্যকারী।”
📌 তাদাব্বুর: পরম নিরাপত্তা ও আশ্রয় কেবল আল্লাহর হাতে; তাঁর ফায়সালার বিরুদ্ধে কেউ রক্ষাকর্তা নেই।
২৫০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহযাব ৩৩:২৮

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًۭا جَمِيلًۭا ٢٨ ۝

“হে নবী (সা.)! তুমি তোমার স্ত্রীদের বলে দাও- তোমরা যদি পার্থিব জীবন আর তার শোভাসৌন্দর্য কামনা কর, তাহলে এসো, তোমাদেরকে ভোগসামগ্রী দিয়ে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদেরকে বিদায় দেই।”
📌 তাদাব্বুর: পার্থিব ভোগবিলাস ও আড়ম্বরের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের মর্যাদাকে প্রাধান্য দেওয়ার নববী আদর্শ।
২৫১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَـٰبِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٥٩ ۝

“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, তোমার কন্যাদেরকে আর মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও- তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ীর বাইরে যায়), এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে এবং তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
📌 তাদাব্বুর: মুমিন নারীদের শালীনতা, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তার সুস্পষ্ট ঐশী বিধান।
২৫২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আল-আহযাব ৩৩:৬৩

يَسْـَٔلُكَ ٱلنَّاسُ عَنِ ٱلسَّاعَةِ ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ ٱللَّهِ ۚ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ ٱلسَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا ٦٣ ۝

“লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটেই।”
📌 তাদাব্বুর: কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময়ের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই সংরক্ষিত; যেকোনো মুহূর্তে জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি।
২৫৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৩

وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَا تَأْتِينَا ٱلسَّاعَةُ ۖ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّى لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَـٰلِمِ ٱلْغَيْبِ ۖ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍۢ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَلَا فِى ٱلْأَرْضِ وَلَآ أَصْغَرُ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكْبَرُ إِلَّا فِى كِتَـٰبٍۢ مُّبِينٍۢ ٣ ۝

“কাফিরগণ বলে- ক্বিয়ামত আমাদের নিকট আসবে না। বল, না, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদের নিকট তা অবশ্য অবশ্যই আসবে। তিনি যাবতীয় অদৃশ্যের জ্ঞানী। তাঁর থেকে লুক্কায়িত নেই আকাশ ও পৃথিবীতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুকণা, না তার থেকে ছোট আর না তার থেকে বড় (কোনটাই নেই লুক্কায়িত)। সবই আছে (লাওহে মাহফুয নামক) এক সুস্পষ্ট কিতাবে।”
📌 তাদাব্বুর: রবের নামে শপথ নিয়ে পুনরুত্থান ও মহাবিচার দিবসের অকাট্য নিশ্চয়তা ঘোষণা।
২৫৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:২২

قُلِ ٱدْعُوا۟ ٱلَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍۢ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَلَا فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍۢ وَمَا لَهُۥ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍۢ ٢٢ ۝

“বল, আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে (ইলাহ) মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণও কোন কিছুর মালিক নয়। এ দু’য়ে তাদের এতটুকু অংশ নেই, আর তাদের কেউ আল্লাহর সাহায্যকারীও নয়।”
📌 তাদাব্বুর: শিরকের শূন্যগর্ভতা—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্তা একটি ধূলিকণারও মালিকানা রাখে না।
২৫৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:২৪ (১ম ‘ক্বুল’)

۞ قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ ۖ وَإِنَّآ أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلَىٰ هُدًى أَوْ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٢٤ ۝

“বল- আসমান ও যমীন হতে কে তোমাদেরকে রিযক দান করেন? বল- আল্লাহ। হয় আমরা, না হয় তোমরা অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত অথবা স্পষ্ট গুমরাহিতে পতিত।”
📌 তাদাব্বুর: রিজিকের উৎস নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন: আসমান ও যমীনের সমস্ত খাদ্যের সংস্থানকারী কে?
২৫৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:২৪ (২য় ‘ক্বুল’)

۞ قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ ۖ وَإِنَّآ أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلَىٰ هُدًى أَوْ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٢٤ ۝

“বল- আসমান ও যমীন হতে কে তোমাদেরকে রিযক দান করেন? বল- আল্লাহ। হয় আমরা, না হয় তোমরা অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত অথবা স্পষ্ট গুমরাহিতে পতিত।”
📌 তাদাব্বুর: রিজিকের উৎস নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন: আসমান ও যমীনের সমস্ত খাদ্যের সংস্থানকারী কে?
২৫৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:২৫

قُل لَّا تُسْـَٔلُونَ عَمَّآ أَجْرَمْنَا وَلَا نُسْـَٔلُ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٢٥ ۝

“বল- আমাদের অপরাধের জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না, আর তোমরা যা কর তার জন্য আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না।”
📌 তাদাব্বুর: ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার নীতি: প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের ফল ভোগ করবে।
২৫৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:২৬

قُلْ يَجْمَعُ بَيْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ يَفْتَحُ بَيْنَنَا بِٱلْحَقِّ وَهُوَ ٱلْفَتَّاحُ ٱلْعَلِيمُ ٢٦ ۝

“বল- আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে একত্রিত করবেন অবশেষে তিনি আমাদের মাঝে সত্য ও ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করবেন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী, সর্বজ্ঞাতা।”
📌 তাদাব্বুর: মহাবিচারের দিনে সবার সমাবেশ এবং পরম সত্য ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি।
২৫৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:২৭

قُلْ أَرُونِىَ ٱلَّذِينَ أَلْحَقْتُم بِهِۦ شُرَكَآءَ ۖ كَلَّا ۚ بَلْ هُوَ ٱللَّهُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٢٧ ۝

“বল- তোমরা আমাকে (তাদেরকে) দেখাও যাদেরকে তোমরা তাঁর অংশীদার জুড়ে দিয়েছ। কক্ষনো (দেখাতে পারবে) না, বরং তিনি আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।”
📌 তাদাব্বুর: শির্কের অযৌক্তিকতা প্রমাণের প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ: পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কোনো শরিক নেই।
২৬০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৩০

قُل لَّكُم مِّيعَادُ يَوْمٍۢ لَّا تَسْتَـْٔخِرُونَ عَنْهُ سَاعَةًۭ وَلَا تَسْتَقْدِمُونَ ٣٠ ۝

“বল- তোমাদের জন্য আছে এক নির্ধারিত দিন যা তোমরা এক মুহূর্তকালের জন্য বিলম্বিত করতে পারবে না, আর ত্বরান্বিত করতেও পারবে না।”
📌 তাদাব্বুর: কেয়ামতের নির্ধারিত ক্ষণ অপরিবর্তনীয়; এতে এক মুহূর্তের হেরফের হওয়া অসম্ভব।
২৬১ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৩৬

قُلْ إِنَّ رَبِّى يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٣٦ ۝

“বল- আমার প্রতিপালক যার জন্য চান রিযক প্রশস্ত করেন বা সীমিত করেন, কিন্তু (এর তাৎপর্য) অধিকাংশ লোকই জানে না।”
📌 তাদাব্বুর: জীবিকার বণ্টন ঐশী প্রজ্ঞার অধীন; ধন-সম্পদের প্রাচুর্য কারও সৎ হওয়ার মাপকাঠি নয়।
২৬২ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৩৯

قُلْ إِنَّ رَبِّى يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ وَيَقْدِرُ لَهُۥ ۚ وَمَآ أَنفَقْتُم مِّن شَىْءٍۢ فَهُوَ يُخْلِفُهُۥ ۖ وَهُوَ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ٣٩ ۝

“বল- আমার প্রতিপালকই তাঁর বান্দাহদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছে রিযক প্রশস্ত করেন, আর যার জন্য ইচ্ছে সীমিত করেন। তোমরা যা কিছু (সৎ কাজে) ব্যয় কর, তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযকদাতা।”
📌 তাদাব্বুর: আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের অনুপ্রেরণা: যিনি রিজিক সংকুচিত বা প্রশস্ত করেন, তিনিই উত্তম প্রতিদানদাতা।
২৬৩ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৪৬

۞ قُلْ إِنَّمَآ أَعِظُكُم بِوَٰحِدَةٍ ۖ أَن تَقُومُوا۟ لِلَّهِ مَثْنَىٰ وَفُرَٰدَىٰ ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا۟ ۚ مَا بِصَاحِبِكُم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌۭ لَّكُم بَيْنَ يَدَىْ عَذَابٍۢ شَدِيدٍۢ ٤٦ ۝

“বল- আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে নসীহত করছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’ দু’জন বা এক একজন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সঙ্গী উন্মাদ নয়। সে তো সামনের কঠিন শাস্তি সম্পর্কে একজন সতর্ককারী মাত্র।”
📌 তাদাব্বুর: মুক্ত ও পক্ষপাতহীন চিন্তার আহ্বান: দলীয় কোলাহল ছেড়ে একাকী বা দুজন মিলে বিবেককে প্রশ্ন করো।
২৬৪ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৪৭

قُلْ مَا سَأَلْتُكُم مِّنْ أَجْرٍۢ فَهُوَ لَكُمْ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌۭ ٤٧ ۝

“বল- আমি তোমাদের নিকট হতে কোন পারিশ্রমিক চাই না, বরং তা তোমাদেরই জন্য। আমার পুরস্কার আছে কেবল আল্লাহর কাছে। তিনি সকল বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।”
📌 তাদাব্বুর: নবুওয়াতের নিষ্কলুষ আত্মত্যাগ: আল্লাহর দ্বীনের আহ্বানে কোনো পার্থিব স্বার্থের ছোঁয়া নেই।
২৬৫ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৪৮

قُلْ إِنَّ رَبِّى يَقْذِفُ بِٱلْحَقِّ عَلَّـٰمُ ٱلْغُيُوبِ ٤٨ ۝

“বল- আমার প্রতিপালক সত্য ছুঁড়ে দেন (অসত্যকে আঘাত করার জন্যে)। (যাবতীয়) অদৃশ্য সম্পর্কে তিনি পূর্ণরূপে অবগত।”
📌 তাদাব্বুর: সত্যের অপ্রতিরোধ্য আঘাত: অদৃশ্যের মহাজ্ঞানী রব সত্য দিয়ে মিথ্যার দুর্গ চূর্ণ করেন।
২৬৬ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৪৯

قُلْ جَآءَ ٱلْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ ٱلْبَـٰطِلُ وَمَا يُعِيدُ ٤٩ ۝

“বল- সত্য এসে গেছে, আর মিথ্যের নতুন করে আবির্ভাবও ঘটবে না, আর তার পুনরাবৃত্তিও হবে না।”
📌 তাদাব্বুর: মিথ্যার চূড়ান্ত পক্ষাঘাত: সত্যের উপস্থিতিতে মিথ্যা সৃষ্টির বা পুনরুজ্জীবনের কোনো ক্ষমতাই রাখে না।
২৬৭ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা সাবা ৩৪:৫০

قُلْ إِن ضَلَلْتُ فَإِنَّمَآ أَضِلُّ عَلَىٰ نَفْسِى ۖ وَإِنِ ٱهْتَدَيْتُ فَبِمَا يُوحِىٓ إِلَىَّ رَبِّىٓ ۚ إِنَّهُۥ سَمِيعٌۭ قَرِيبٌۭ ٥٠ ۝

“বল- আমি যদি গুমরাহ হই, তবে নিজের ক্ষতি করতেই গুমরাহ হব। আর আমি যদি সৎ পথে চলি, তবে আমার প্রতিপালক যে আমার প্রতি ওয়াহী করেন তার বদৌলতেই। তিনি সর্বশ্রোতা, (সদা) সন্নিকটবর্তী। (আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেন।)”
📌 তাদাব্বুর: হেদায়েতের বিশুদ্ধ উৎস: মানুষের ভ্রষ্টতা তার নিজস্ব দোষ, আর সমস্ত হেদায়েত আল্লাহর ওহির দান।
২৬৮ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ফাত্বির ৩৫:৪০

قُلْ أَرَءَيْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌۭ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ أَمْ ءَاتَيْنَـٰهُمْ كِتَـٰبًۭا فَهُمْ عَلَىٰ بَيِّنَتٍۢ مِّنْهُ ۚ بَلْ إِن يَعِدُ ٱلظَّـٰلِمُونَ بَعْضُهُم بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا ٤٠ ۝

“বল- তোমরা কি তোমাদের শরীকদেরকে দেখেছ আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডেকে থাক? তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও; কিংবা আকাশমন্ডলীতে তাদের কোন শরীকানা আছে কি? কিংবা আমি কি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যাত্থেকে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর তারা আছে? বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা একে অপরকে প্রতারণামূলক ওয়া‘দা দিয়ে থাকে।”
📌 তাদাব্বুর: বুদ্ধিভিত্তিক চ্যালেঞ্জ—স্রষ্টাত্ব ছাড়া উপাস্য হওয়ার কোনো বৈধ অধিকার কারো নেই।
২৬৯ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা ইয়াসীন ৩৬:৭৯

قُلْ يُحْيِيهَا ٱلَّذِىٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍۢ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ ٧٩ ۝

“বল, ‘‘তাকে তিনিই জীবন্ত করবেন যিনি ওগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।”
📌 তাদাব্বুর: সূরা ইয়াছিনের কালজয়ী বৈজ্ঞানিক যুক্তি: যিনি অনস্তিত্ব থেকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনি পুনর্জীবিত করতে অধিক সক্ষম।
২৭০ ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৮

قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ ١٨ ۝

“তাদেরকে বল, ‘হাঁ, এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।’”
📌 তাদাব্বুর: অহংকারী পুনরুত্থান-অস্বীকারকারীদের তীব্র জবাব: মহাবিচারে তাদের অবধারিত লাঞ্ছনা।
✨

পর্ব-৯ এর সমাপ্তি ও পর্যালোচনা

২৪১ থেকে ২৭০ নম্বর বাণীতে প্রকৃতিতে জীবনের পুনরুত্থান, রিযিকের বণ্টন এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার অকাট্য সত্য তুলে ধরা হয়েছে।

পরবর্তী পর্বে কুরআনের অবশিষ্ট ‘ক্বুল’ বাণীসমূহ ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ

এই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গভীর আলোচনা ও কুরআনভিত্তিক অনুসন্ধান

সকল প্রবন্ধ দেখুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১১ — মহাসমাপ্তি)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ৩০১ থেকে ৩৩২ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা আল-আহকাফ থেকে চার-কুল (কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক, নাস) হয়ে সমাপনী ৩২টি চূড়ান্ত ঐশী নির্দেশের মাধ্যমে ৩৩২টি বাণীর মহা-সংকলনের ঐতিহাসিক সমাপ্তি। আলম এম.-এর বিশেষ ফিচার্ড গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-১০)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ২৭১ থেকে ৩০০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা সোয়াদ, আয-যুমার, গাফির, ফুসসিলাত, আশ-শূরা, আয-যুখরুফ ও আল-জাথিয়াহর ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৮)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ২১১ থেকে ২৪০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা আল-মুমিনূন, আন-নূর, আল-ফুরকান, আশ-শুয়ারা, আন-নামল, আল-কাসাস থেকে আল-আনকাবূত পর্যন্ত ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৭)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ১৮১ থেকে ২১০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা বনী ইসরাঈল, আল-কাহফ, মারয়াম, ত্বাহা, আল-আম্বিয়া, আল-হজ থেকে আল-মুমিনূন পর্যন্ত ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

قُلْ অর্থাৎ ‘বলুন’ বা ‘বল’ (পর্ব-৬)

পবিত্র কুরআনে সরাসরি মহান আল্লাহর আদেশে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জবান দিয়ে ঘোষিত ১৫১ থেকে ১৮০ নম্বর ‘ক্বুল’ বাণী। সূরা হূদ, ইউসুফ, আর-রাদ, ইবরাহিম, আল-হিজর, আন-নাহল থেকে বনী ইসরাঈল পর্যন্ত ৩০টি ঐশী অনুশাসন। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণা সংকলন।

ফিচার্ড
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন