আমরা “لِ (li)” প্রিপোজিশনটাকে বুঝতে চাই, কারণ Surah Adh-Dhariyat ৫৬ নম্বর আয়াতে “لِيَعْبُدُونِ (li-ya‘budūn-i)” নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় - এটা কি সত্যিই “আমার (আল্লাহর) জন্য ইবাদত” বোঝাচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের কুরআনের ভেতরে “لِ (li)” কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা তুলনা করে দেখতে হবে। কারণ Qur'an 4:82 অনুযায়ী কুরআনের মধ্যে কোনো অসংগতি থাকার কথা না।
প্রথমে আমরা ৫১:৫৬ আয়াতটি দেখি:
وَمَا خَلَقْتُ ٱلْجِنَّ وَٱلْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
(wa mā khalaqtu al-jinna wal-insa illā li-ya‘budūn-i)
(wa mā khalaqtu al-jinna wal-insa illā li-ya‘budūn-i)
এখানে “لِ (li)” যুক্ত হয়েছে “يَعْبُدُونِ (ya‘budūn-i)” এর সাথে।
এখানে “لِ (li)” বোঝাচ্ছে - উদ্দেশ্য বা why they were created অর্থাৎ “যাতে তারা ইবাদত করে / নিজেদের align করে।” এটা কোনো benefit দেওয়া না, বরং একটি উদ্দেশ্য নির্দেশ করছে।
এবার আমরা আরেকটি আয়াত দেখি:
هُدًى لِّلنَّاسِ
(hudan li-n-nās)
(hudan li-n-nās)
এখানে “لِ (li)” ব্যবহার হয়েছে “النَّاس (an-nās)” এর সাথে।
এটার অর্থ: “মানুষের জন্য হিদায়াত”
এখানে “for people” শোনালেও, আসলে এটা একটি target বা উদ্দেশ্য বোঝাচ্ছে - এই কিতাব মানুষের জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
এখন direction বা “দিকে” অর্থে “لِ (li)” দেখি:
فَوَلِّ وَجْهَكَ لِلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ
(fa-walli wajhaka li-l-masjid al-ḥarām)
(fa-walli wajhaka li-l-masjid al-ḥarām)
অর্থ: “তোমার মুখ ফিরাও মসজিদুল হারামের দিকে”
এখানে “لِ (li)” স্পষ্টভাবে direction বোঝাচ্ছে - কোনো benefit না, শুধু orientation
একই ধরণের আরেকটি আয়াত:
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ
(fa-aqim wajhaka li-d-dīn)
(fa-aqim wajhaka li-d-dīn)
অর্থ: “তোমার মুখ স্থির করো দীন-এর দিকে”
এখানে “لِ (li)” আবারও direction এবং alignment বোঝাচ্ছে - নিজেকে একটি সিস্টেম বা সত্যের দিকে স্থাপন করা।
এবার ownership বা attribution দেখি:
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ
(al-ḥamdu li-llāh)
(al-ḥamdu li-llāh)
অর্থ: “সব প্রশংসা আল্লাহর”
এখানে “لِ (li)” বোঝাচ্ছে - belongs to বা attribution
কেউ আল্লাহকে benefit দিচ্ছে না, বরং বলা হচ্ছে - প্রশংসা প্রকৃতপক্ষে তাঁরই প্রাপ্য।
কেউ আল্লাহকে benefit দিচ্ছে না, বরং বলা হচ্ছে - প্রশংসা প্রকৃতপক্ষে তাঁরই প্রাপ্য।
এখন consequence বা ফলাফল বোঝাতে “لِ (li)” দেখি:
فَٱلْتَقَطَهُۥٓ ءَالُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا
(fa-altaqaṭahu ālu fir‘awn li-yakūna lahum ‘aduwwā)
(fa-altaqaṭahu ālu fir‘awn li-yakūna lahum ‘aduwwā)
অর্থ: “ফিরআউনের লোকেরা তাকে তুলে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু হয়ে যায়”
কিন্তু তারা কি এই উদ্দেশ্যে তুলেছিল? উত্তর - না। এখানে “لِ (li)” বোঝাচ্ছে - শেষ পর্যন্ত কী হয়ে দাঁড়ালো (final outcome) অর্থাৎ consequence
সবশেষে entitlement বা প্রাপ্যতা দেখি:
لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ
(li-r-rijāli naṣībun wa li-n-nisā’i naṣīb)
(li-r-rijāli naṣībun wa li-n-nisā’i naṣīb)
অর্থ: “পুরুষদের জন্য অংশ আছে, নারীদের জন্যও অংশ আছে”
এখানে “لِ (li)” বোঝাচ্ছে—rightful share বা প্রাপ্যতা।
এখন সবগুলো একসাথে দেখলে “لِ (li)” একটাই অর্থ দেয় না। প্রসঙ্গ অনুযায়ী এটি বোঝাতে পারে:
- উদ্দেশ্য (purpose)
- দিক বা অভিমুখ (direction)
- সম্পর্ক বা মালিকানা (belongs to)
- ফলাফল (consequence)
- প্রাপ্যতা (entitlement)
এখন আবার ৫১:৫৬ আয়াতে ফিরে আসি:
لِيَعْبُدُونِ (li-ya‘budūn-i)
এখানে যদি আমরা “لِ (li)” কে “আমার জন্য (benefit)” হিসেবে বুঝি,
তাহলে সমস্যা তৈরি হয় - কারণ আল্লাহ তো অমুখাপেক্ষী।
তাহলে সমস্যা তৈরি হয় - কারণ আল্লাহ তো অমুখাপেক্ষী।
কিন্তু যদি আমরা এটাকে
- purpose (উদ্দেশ্য)
- direction (আমার দিকে অভিমুখী হওয়া)
এইভাবে বুঝি, তাহলে আয়াতটি perfectly consistent হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত অর্থ দাঁড়ায়:
“আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা নিজেদেরকে আমার দিকে অভিমুখী করে, আমার সত্যের সাথে নিজেদের সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।”
এভাবে দেখলে “আমার” শব্দটা আর কোনো প্রয়োজন বা লাভ বোঝায় না, বরং বোঝায় - চূড়ান্ত রেফারেন্স পয়েন্ট, যার দিকে মানুষ নিজেকে স্থাপন করে।

