মর্মকথা আর কবে বুঝবো?

আলম এম.আলম এম.২৮ আগস্ট, ২০২৬

সালাত বলতে নামাজ বুঝানো হয়ে থাকে। নামাজ বলতে আমরা কি বুঝি বা আমাদেরকে বুঝানো হয়? আযান হবে এবং আযান শুনে সময় মত মসজিদে হাজির হয়ে নামাজ পড়া। নামাজ পড়া হলে বাসায় বা কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া। এভাবেই দৈনিক পাঁচবার। চলমান...

চলুন একটু ভেবে দেখা যাক। সবাই অল্পস্বল্প হলেও তো যৌক্তিক ব্যাপার গুলো বুঝি। রাসূলের সময়কাল থেকেই এই নামাজ চলমান, তাই তো? উত্তর যদি "হ্যাঁ" হয় তবে রাসূলের মৃত্যুর অল্প কয়েকশো বছর পরেই দ্বীন ইসলাম খুঁজে পাবার কথা নয়। বলুন তো আপনার নামাজ পড়া দেখে কতজন দিন ইসলামের পথে এসেছে?

সালাত বা নামাজের প্রকৃত অর্থ কি হওয়া উচিত ছিল সেটা দেখে নেই। সালাত বা নামাজের প্রকৃত অর্থ হওয়া উচিত ছিল "সংযোগ" এবং সালাত কায়েম মানে "সংযোগ স্থাপন"। সংযোগ স্থাপন করা ছাড়া দ্বীন ইসলামের বিস্তার কিভাবে সম্ভব? রাসূল (স) এর কাজই ছিল অন্য মানুষদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে দ্বীন ইসলামের কথা বলা।

(2:151) যেমন আমি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছি, যে আমার আয়াত সমূহ তোমাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় আর তোমরা যাহা জানিতে না তাহা শিক্ষা দেয়।

كَمَآ اَرْسَلْنَا فِيْکُمْ رَسُوْلًا مِّنْکُمْ يَتْلُوْا عَلَيْكُمْ اٰيٰتِنَا وَيُزَكِّيْکُمْ وَيُعَلِّمُکُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِکْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَ ؕۛ

রাসূল(স) সত্যিকার অর্থেই সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন বলে লক্ষাধিক সাহাবী পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই সাহাবীগণ সংযোগ স্থাপন করে চলেছিলেন বলেই আজ সারা পৃথিবী জুড়ে দ্বীন ইসলাম খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা রাসূল(স) এবং সাহাবীদের কর্মপন্থা (সংযোগ স্থাপন)  ভুলে গিয়ে মসজিদ বানাতেই থাকলাম এবং তার চাকচিক্য বর্ধনের কাজ চালু রাখলাম। আমরা ১১:১১৪ আয়াতের মর্মকথা বুঝিনা, নাকি বুঝতে দেয়া হয় না?

(11:114) তুমি সালাত কায়েম কর দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটাইয়া দেয়। যাহারা উপদেশ গ্রহণ করে, ইহা তাহাদের জন্য এক উপদেশ।

وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَـفًا مِّنَ الَّيْلِ ؕ اِنَّ الْحَسَنٰتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاٰتِ ؕ ذٰ لِكَ ذِكْرٰى لِلذّٰكِرِيْنَ ۚ

দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংসে অর্থাৎ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সময় (সকাল সন্ধ্যা ও রাতের শুরু) সংযোগ স্থাপন (সালাত কায়েম) করার তাগিদ আল্লাহ দিচ্ছেন। একবার ভেবে দেখুন তো এই তিনটি সময় আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটায় কিনা? আল্লাহ তো আমাদেরকে তার অনুগ্রহ তথা খাদ্যের সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়তে বলেছেন।

(62:10) সালাত সমাপ্ত হইলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িবে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহ সন্ধান করিবে ও আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِى الْاَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ وَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ

আমরা মর্মকথা বুঝিনা। মর্মকথা বুঝে ফেললে তো সারা দুনিয়ার মানুষ দ্বীন ইসলামের ছায়াতলে চলে আসবে, সেটা কি হতে দেয়া যায়? ইবলিসের প্রচারণা চলমান... আর আমরা মন্ত্র-মুগ্ধ হয়ে হা করে শুনি!

©আলম - ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ইং, সকাল ১০টা ৪২মি.

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।