আল্লাহর বাণীর মোকাবেলায় লেবাসধারী মুসলমান (প্রকৃত বিচারে মুশরিক-মুনাফিক-ফাসিক)-এর আত্মঘাতী যুক্তি!
--------------
এক.
আল্লাহ বলেনঃ তোমাদের কি হল? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ? তোমাদের কি কোন কিতাব আছে, যা তোমরা পাঠ কর। তাতে তোমরা যা পছন্দ কর, তাই পাও? (৬৮:৩৬-৩৮)
লেবাসধারী মুসলমানঃ অবশ্যই। আমাদের কাছে বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, মাজাহ, তিরমিজি, উসূল, ফেকাহ - এই জাতীয় রকমারি কিতাব আছে যা আমরা পাঠ করি। সেইখানে আমরা যার যা খুশি তাই পাই।
দুই.
আল্লাহ বলেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন শপথ নিয়েছ যে, তোমরা তাই পাবে যা তোমরা সিদ্ধান্ত করবে? (৬৮:৩৯)
লেবাসধারী মুসলমানঃ নিশ্চয়ই, আমাদের কিতাবে সব শর্টকার্ট পদ্ধতি বাতলে দেওয়া আছে। সবগুনাহ মাফ করে বেহেশতে ঢোকার বহু প্যাকেজ আমাদের হাতে আছে। এমনকি আপনার পক্ষ থেকে কিয়ামতের দিন আমাদের কারও জন্য দোযখের ফয়সালা হলেও দীনের দয়াল নবী আমাদেরকে আপনার বিচার উল্টে দিয়ে তাকে বেহেশতে ঢুকিয়ে ছাড়বেন।
তিন.
আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদিসে (কথায়) বিশ্বাস স্থাপন করবে? (৭:১৮৫, ৪৫:৬, ৭৭:৫০)
লেবাসধারী মুসলমানঃ আমরা বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, মাজাহ, তিরমিজি, উসূল, ফেকাহ এই রকম অনেক ‘হাদিসে’ পূর্ণ ঈমান রাখি; শুধু তাই না যারা বিশ্বাস রাখে না, তাদের আমরা কাফের ফতোয়া দেই।
চার.
আল্লাহ বলেনঃ যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর অনুরূপ কোন হাদিস (بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ) উপস্থিত করুক। (৫২:৩৪)
লেবাসধারী মুসলমানঃ আমাদের ধর্মের কিতাবে (দাউদ, ইবনে মাজাহ, মেশকাত) বলা আছে নবী নাকি বলেছেন, “আলা ইন্নি উতিতুল কিতাবা ওয়া মিছলাহু মায়াহু (জেনে রাখো! আমাকে কিতাব বা কুরআন এবং তার সঙ্গে তার অনুরূপ একটি জিনিসও দেয়া হয়েছে)”. সুতরাং আপনার এই চ্যালেঞ্জ আমাদের কাছে কোন ব্যাপারই না। (আমাদের হাতে অসংখ্য কিতাব আছে যা কুরআনের মেছাল বা সমতুল্য)
পাঁচ.
আল্লাহ বলেনঃ আমি আমার নবীর কছে যে কিতাব নাযিল করেছি, যা তোমাদের পাঠ করে শোনানো হয়, তা কি তোমাদের জন্য কাফি বা যথেষ্ট নয়? (২৯:৫১)
লেবাসধারী মুসলমানঃ আমাদের আকাবির-সালাফিরা বলেছে, আপনার কুরআনের ব্যাখ্যা হল সকল সিহাসিত্তার কিতাব; আবার ঐসব কিতাবের আছে শত শত শরাহ বা ব্যাখ্যা কিতাব – আমরা নিজেরা শত শত ফের্কায় বিভক্ত, তাই এই যাবতীয় কিতাবই আমাদের লাগে। অতএব, কুরআন আমাদের জন্য কাফি না।
উপসংহার
এককভাবে আল্লাহর নাম বা তার কুরআনের কথা বললে একশ্রেণির বিশ্বাসী দাবীদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, তাদের আসল চেহারা কুরআনে উন্মোচন করে দেয়া হয়েছে।
وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ
যখন খাঁটিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে। -৩৯:৪৫

