কুরআন নিজেই শরীয়তের কিতাব। কুরআনের নিজস্ব বক্তব্য অনুযায়ী, এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান, ন্যায়নীতি, জীবনব্যবস্থা, নৈতিকতা এবং মানবসমাজ পরিচালনার মৌলিক নির্দেশনার কিতাব।
শরীয়ত ও দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
শরীয়ত কোনো পরবর্তীকালের মানবসৃষ্ট ধারণা নয়। কুরআনে শরীয়ত শব্দটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বিধানপথ নির্ধারণের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে একটি মৌলিক বিষয় বোঝা প্রয়োজন: দ্বীন হলো সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা, আর শরীয়ত হলো সেই জীবনব্যবস্থার জন্য আল্লাহ নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট বিধানপথ। সুতরাং শরীয়ত ও দ্বীন পরস্পরবিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি অন্যটির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত।
শরীয়ত নির্ধারণের কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর
ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَىٰ شَرِيعَةٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
প্রচলিত অনুবাদ
"অতঃপর আমি আপনাকে নির্দেশনার একটি নির্ধারিত বিধানপথের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। অতএব, আপনি তার অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| شَرِيعَةٍ | ش ر ع | ইসম (স্ত্রীবাচক বিশেষ্য) | নির্ধারিত বিধানপথ, সুনির্দিষ্ট ঐশী অনুশাসন |
| الْأَمْرِ | أ م ر | ইসম (মাজরূর) | ঐশী নির্দেশনা, কর্তৃত্ব বা প্রত্যাদেশের আদেশ |
| فَاتَّبِعْهَا | ت ب ع | ক্রিয়া (আমর / অনুজ্ঞা) | অতএব আপনি একনিষ্ঠভাবে তার অনুসরণ করুন |
| أَهْوَاءَ | ه و ي | ইসম (বহুবচন / মানসূব) | প্রবৃত্তি, খেয়ালখুশি ও ভিত্তিহীন মনগড়া বাসনা |
| لَا يَعْلَمُونَ | ع ل م | ক্রিয়া (মুজারি - নাফি) | যারা সত্যের নিশ্চিত জ্ঞান রাখে না, অজ্ঞ |
শরীয়ত আল্লাহর নির্দেশনাভিত্তিক বিধানপথ। এর অনুসরণ করা স্পষ্ট ঐশী নির্দেশ, আর মানুষের প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশিকে তার বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অতএব, কোনো মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা মনগড়া মতামত নিজে থেকেই আল্লাহপ্রদত্ত শরীয়তের মর্যাদা লাভ করতে পারে না।
أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۗ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
প্রচলিত অনুবাদ
"নাকি তাদের এমন শরিক রয়েছে, যারা তাদের জন্য জীবনব্যবস্থার এমন বিধান নির্ধারণ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? চূড়ান্ত মীমাংসার ঘোষণা না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| شُرَكَاءُ | ش ر ك | ইসম (বহুবচন) | শরিকগণ, বিধান প্রণয়নের মিথ্যা অংশীদারগণ |
| شَرَعُوا | ش ر ع | ক্রিয়া (মাদি / অতীতকাল) | তারা বিধান নির্ধারণ করেছে / আইন রচনা করেছে |
| الدِّينِ | د ي ن | ইসম (মাজরূর) | জীবনব্যবস্থা, আনুগত্য ও দায়বদ্ধতার কাঠামো |
| يَأْذَن | أ ذ ن | ক্রিয়া (মুজারি - মাজযূম) | তিনি অনুমতি দিয়েছেন বা সনদ দান করেছেন |
| الْفَصْلِ | ف ص ل | ইসম (মুদাফ ইলাইহি) | চূড়ান্ত মীমাংসা, অকাট্য ফয়সালা |
আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া কেউ দ্বীনের মধ্যে কোনো বিধান প্রবর্তন করে সেটিকে আল্লাহর বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এখানে মানুষের জ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা, সামাজিক সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং মানুষের তৈরি কোনো বিধানকে আল্লাহর অনুমোদিত দ্বীনি বিধান হিসেবে উপস্থাপন করার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
শরীয়ত ও দ্বীন পরস্পরবিচ্ছিন্ন নয়
شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
প্রচলিত অনুবাদ
"তিনি তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সেই বিধানপথ নির্ধারণ করেছেন, যার নির্দেশনা দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি এবং যার নির্দেশনা দিয়েছিলাম ইবরাহিম, মূসা ও ঈসাকে। তা হলো, জীবনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং এর মধ্যে বিভক্ত হয়ো না। তুমি যেদিকে তাদের আহ্বান করছ, তা অংশীদার স্থাপনকারীদের কাছে কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর দিকে মনোনীত করেন এবং যে তাঁর দিকে ফিরে আসে তাকে পথনির্দেশ দেন।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| شَرَعَ | ش ر ع | ক্রিয়া (মাদি / ৩য় পুরুষ) | তিনি জীবনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত বিধানপথ নির্ধারণ করেছেন |
| وَصَّىٰ | و ص ي | ক্রিয়া (বাব তাফঈল) | তিনি সুস্পষ্ট অনুশাসন ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন |
| أَوْحَيْنَا | و ح ي | ক্রিয়া (বাব ইফআল) | আমি ওহী ও ঐশী প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি |
| أَقِيمُوا | ق و م | ক্রিয়া (আমর / অনুজ্ঞা) | তোমরা সুপ্রতিষ্ঠিত করো, সমুন্নত রাখো |
| تَتَفَرَّقُوا | ف ر ق | ক্রিয়া (নাহী / নিষেধ) | তোমরা দলে-উপদলে বিভক্ত বা বিচ্ছিন্ন হয়ো না |
| يَجْتَبِي | ج ب ي | ক্রিয়া (মুজারি - বাব ইফতিআল) | তিনি মনোনীত ও বাছাই করেন |
| يُنِيبُ | ن و ب | ক্রিয়া (মুজারি - বাব ইফআল) | যে একনিষ্ঠভাবে প্রত্যাবর্তন করে, অনুতপ্ত হয়ে ফেরে |
এই আয়াত শরীয়ত ও দ্বীনের সম্পর্ক বোঝার অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অকাট্য দলিল। এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে:
এখানে مِّنَ الدِّينِ (মিনাদ্দীন) বাক্যাংশের মাধ্যমে শরীয়তকে দ্বীনের বাইরে কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং জীবনব্যবস্থার মূল অভ্যন্তরীণ রূপরেখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। অতএব, দ্বীন হলো সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা এবং শরীয়ত হলো সেই জীবনব্যবস্থার নির্ধারিত বিধানপথ। একই সঙ্গে নূহ, ইবরাহিম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মদ ﷺ-এর নির্দেশনার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে মৌলিক জীবনব্যবস্থার আহ্বানে সমস্ত নবীর বার্তা এক ও অভিন্ন।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক বিধানপথ নির্ধারণ
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ ۖ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ ۚ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَٰكِن لِّيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
প্রচলিত অনুবাদ
"আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং তার ওপর তত্ত্বাবধায়ক। অতএব, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা দিয়ে তাদের মধ্যে বিচার করুন। আপনার কাছে যে সত্য এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি বিধানপথ এবং একটি অনুসরণযোগ্য পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে একটি অভিন্ন জনগোষ্ঠী করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন, তা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। অতএব, কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন আল্লাহর কাছে। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করতে, তিনি তা তোমাদের জানিয়ে দেবেন।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| مُصَدِّقًا | ص د ق | ইসম ফাইল (হাল) | পূর্ববর্তী ঐশী কিতাবের মূল বার্তার সত্যায়নকারী |
| مُهَيْمِنًا | ه ي م ن | ইসম ফাইল (চতুর্ধাতু) | তত্ত্বাবধায়ক, পরম অভিভাবক ও মানদণ্ড |
| شِرْعَةً | ش ر ع | ইসম (মাফ‘ঊল) | নির্দিষ্ট বিধানপথ, ব্যবহারিক আইনকানুন |
| مِنْهَاجًا | ن ه ج | ইসম (মাফ‘ঊল) | অনুসরণযোগ্য উন্মুক্ত পদ্ধতি ও মেথডলজি |
| لِيَبْلُوَكُمْ | ب ل و | ক্রিয়া (লামুল কাই সহ মুজারি) | যাতে প্রদত্ত সামর্থ্যের মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন |
| فَاسْتَبِقُوا | س ب ق | ক্রিয়া (আমর - ইফতিআল) | অতএব তোমরা কল্যাণকর কাজে পরস্পরে প্রতিযোগিতা করো |
এই আয়াতে দুটি স্বতন্ত্র ধারণা উপস্থাপিত হয়েছে:
- شِرْعَةً (শির‘আহ): নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট বিধানপথ।
- مِنْهَاجًا (মিনহাজা): সেই বিধান বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি বা ফ্রেমওয়ার্ক।
আল্লাহ বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উপযোগী করে বিধানপথ ও অনুসরণপদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন। ফলে বাহ্যিক প্রয়োগে স্থান-কালভেদে পার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ। এই পার্থক্যের লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়, বরং কল্যাণকর কাজে পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া।
আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার
وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُরِيدُ اللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ
প্রচলিত অনুবাদ
"আর আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা দিয়ে। তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং সতর্ক থাকবেন, যেন তারা আল্লাহ আপনার প্রতি যা নাজিল করেছেন তার কোনো অংশ থেকে আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে। তারা মুখ ফিরিয়ে নিলে জেনে রাখুন, আল্লাহ তাদের কিছু পাপের কারণে তাদের পরিণতি ঘটাতে চান। নিশ্চয়ই মানুষের অনেকেই সত্যের সীমা অতিক্রমকারী।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| احْكُم | ح ك م | ক্রিয়া (আমর / অনুজ্ঞা) | আপনি ন্যায়বিচার ও ফয়সালা পরিচালনা করুন |
| وَاحْذَرْهُمْ | ح ذ ر | ক্রিয়া (আমর সহ জমীর) | তাদের অপতৎপরতা সম্পর্কে পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক থাকুন |
| يَفْتِنُوكَ | ف ت ن | ক্রিয়া (মুজারি - মানসূব) | তারা আপনাকে সত্য ও বিধান থেকে বিচ্যুত করবে |
| تَوَلَّوْا | و ل ي | ক্রিয়া (মাদি - তাফা‘উল) | তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, সত্য প্রত্যাখ্যান করে |
| لَفَاسِقُونَ | ف س ق | ইসম ফাইল (খবর) | সত্যের সীমালঙ্ঘনকারী, চরম অবাধ্য |
৫:৪৮ আয়াতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিধানপথের কথা বলার পর ৫:৪৯ আয়াতে সরাসরি আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব অনুযায়ী বিচার করার চূড়ান্ত নির্দেশ এসেছে। কোনো সামাজিক চাপ, সুবিধাভোগী মহলের স্বার্থ কিংবা জনপ্রিয় মতামত যেন আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান থেকে একচুলও বিচ্যুত করতে না পারে—এটাই এই আয়াতের অমোঘ শিক্ষা। বিধান বোঝার ক্ষেত্রে মানুষের আলোচনা থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের মতামতকে ওহীর সমপর্যায়ের কর্তৃত্ব দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।
বিধান ও বিচারিক কর্তৃত্বের চূড়ান্ত উৎস আল্লাহ
أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا ۚ وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِّن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ
প্রচলিত অনুবাদ
"আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন বিস্তারিতভাবে? যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা জানে যে এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ নাজিল হয়েছে। অতএব, তুমি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| أَبْتَغِي | ب غ ي | ক্রিয়া (মুজারি - বাব ইফতিআল) | আমি অন্বেষণ করব বা কামনা করব |
| حَكَمًا | ح ك م | ইসম (মাফ‘ঊল বিহ) | চূড়ান্ত সালিসকারী ও বিচারক |
| مُفَصَّلًا | ف ص ل | ইসম মাফ‘ঊল (হাল) | বিশদভাবে সুস্পষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষিত |
| الْمُمْتَرِينَ | م ر ي | ইসম ফাইল (মাজরূর) | অহেতুক সংশয় ও সন্দেহে নিমজ্জিত ব্যক্তিগণ |
مَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
প্রচলিত অনুবাদ
"তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের উপাসনা করছ, সেগুলো কেবল কিছু নাম, যেগুলো তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষেরা নির্ধারণ করেছ; আল্লাহ এগুলোর পক্ষে কোনো কর্তৃত্বপূর্ণ প্রমাণ নাজিল করেননি। কর্তৃত্বপূর্ণ ফয়সালা কেবল আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা যেন কেবল তাঁরই উপাসনা করো। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত জীবনব্যবস্থা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| سُلْطَانٍ | س ل ط | ইসম (মাজরূর) | অকাট্য কর্তৃত্ব, প্রামাণ্য সনদ বা দলিল |
| الْحُكْمُ | ح ك م | ইসম (মুবতাদা) | চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব, আইন প্রণয়ন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ফয়সালা |
| الْقَيِّمُ | ق و م | সিফাত (বিশেষণ) | চিরন্তন, অটল, নির্ভুল ও সুপ্রতিষ্ঠিত |
এই আয়াতের দুটি বক্তব্য সরাসরি একে অপরের পরিপূরক: إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ (সার্বভৌম বিধান কেবল আল্লাহরই) এবং ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ (এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত জীবনব্যবস্থা)। অর্থাৎ আল্লাহর বিধানগত কর্তৃত্ব ও সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন অবিচ্ছেদ্য। মানুষের প্রথাকে আল্লাহর বিধান হিসেবে দাবি করার জন্য আল্লাহর নিজস্ব সুস্পষ্ট সুলতান (ঐশী দলিল) অপরিহার্য।
কুরআন জীবনব্যবস্থার সুস্পষ্ট নির্দেশনা
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِم مِّنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ ۚ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ
প্রচলিত অনুবাদ
"সেদিন প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করব এবং আপনাকেও এদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি সবকিছুর সুস্পষ্ট বিবরণ হিসেবে, পথনির্দেশ, অনুগ্রহ এবং আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| نَبْعَثُ | ب ع ث | ক্রিয়া (মুজারি) | আমরা পুনরুত্থিত করব / উপস্থিত করব |
| شَهِيدًا | ش ه د | ইসম ফাইল (হাল) | প্রত্যক্ষদর্শী সত্যসাক্ষী |
| تِبْيَانًا | ب ي ن | মাসদার / বিশেষ্য | সবকিছুর মৌলিক স্বরূপ ও বিধানের দ্যুতিময় সুস্পষ্ট বিবরণ |
| بُشْرَىٰ | ب ش ر | ইসম (মাতূফ) | অনাবিল পরম সুসংবাদ ও মুক্তির বার্তা |
কুরআন শুধু কতগুলো উপাসনামূলক আনুষ্ঠানিকতার সমষ্টি নয়। এটি মানুষের সামগ্রিক ব্যক্তি ও সমাজ পরিচালনার পরিপূর্ণ পথনির্দেশ ও সুস্পষ্ট বিবরণ। 'তিবইয়ানাল লিকুল্লি শাই' বলতে বিজ্ঞানের প্রতিটি আবিষ্কার কুরআনে সরাসরি মুদ্রিত থাকার দাবি করা হচ্ছে না, বরং মানুষের নৈতিক ও বিধানিক হেদায়াতের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তার স্বয়ংসম্পূর্ণ মূলনীতি কুরআনে বিধৃত রয়েছে।
শরীয়ত শব্দের মূল ও ভাষাতাত্ত্বিক পরিচয়
শরীয়ত শব্দের মূল হলো: ش ر ع (শীন-রা-আইন) — উচ্চারণ: শা-রা-‘আ। এই একক শব্দমূল থেকেই কুরআনে বিভিন্ন ব্যাকরণিক রূপ ব্যবহৃত হয়েছে:
| কুরআনিক শব্দরূপ | উচ্চারণ | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ | রেফারেন্স |
|---|---|---|---|---|
| شَرَعَ | শারা‘আ | অতীত ক্রিয়া (একবচন) | বিধানপথ নির্ধারণ করেছেন | সূরা আশ-শূরা ৪২:১৩ |
| شَرَعُوا | শারা‘ঊ | অতীত ক্রিয়া (বহুবচন) | তারা বিধান নির্ধারণ করেছে | সূরা আশ-শূরা ৪২:২১ |
| شَرِيعَةٍ | শারী‘আহ | বিশেষ্য (ইসম) | নির্ধারিত বিধানপথ | সূরা আল-জাসিয়া ৪৫:১৮ |
| شِرْعَةً | শির‘আহ | বিশেষ্য (ইসম) | নির্দিষ্ট বিধানপথ ও অনুশাসন | সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৪৮ |
একই শব্দমূল থেকে বিধান নির্ধারণের কাজ (ক্রিয়া) এবং নির্ধারিত বিধানপথের পরিচয় (বিশেষ্য) পাওয়া যায়। ফলে 'শরীয়ত' শব্দটি কুরআনের নিজস্ব শব্দভাণ্ডারের অংশ। এটি পরবর্তীকালের মানুষের উদ্ভাবিত কোনো সামাজিক পরিভাষা বা ধারণা নয়।
শরীয়ত, দ্বীন ও ফিকহ: মৌলিক পার্থক্য
আল্লাহপ্রদত্ত বিধান এবং মানুষের জ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যার পার্থক্য বোঝার জন্য চারটি ধারণা সুস্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন:
মানুষের জীবন পরিচালনা, দায়বদ্ধতা, বিধান ও কর্তৃত্বের সামগ্রিক ব্যবস্থা। এটি সার্বজনীন, অপরিবর্তনীয় ও চিরন্তন।
জীবনব্যবস্থার জন্য আল্লাহ নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট বিধানপথ। এটি ওহীভিত্তিক এবং আল্লাহর কর্তৃত্ব দ্বারা সংরক্ষিত।
সেই নির্ধারিত বিধানপথ অনুসরণের সুস্পষ্ট বাস্তবমুখী পদ্ধতি, মেথডলজি ও নীতি কাঠামো।
বোঝা, উপলব্ধি করা ও অনুধাবন করা। অর্থাৎ কুরআন ও শরীয়তের বিধান সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানভিত্তিক প্রায়োগিক প্রচেষ্টা।
আল্লাহর নির্ধারিত শরীয়ত এবং সেই শরীয়ত সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি (ফিকহ) এক জিনিস নয়। মানুষের ফিকহ স্থান-কালভেদে সঠিকও হতে পারে, ভুলও হতে পারে। তাই কোনো মানুষের ব্যাখ্যা বা রায়কে প্রশ্নাতীত ঐশী বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। মানুষের জ্ঞানগত সিদ্ধান্তকে আল্লাহর প্রত্যাদেশের সমপর্যায়ে উন্নীত করার কোনো অধিকার নেই।
আল্লাহর সুন্নাহ ও মানুষের প্রচলিত সুন্নাহ
سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلُ ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا
سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا
প্রচলিত অনুবাদ
"এটি আল্লাহর সেই কার্যপদ্ধতি, যা পূর্বেও অতিবাহিত হয়েছে। আর তুমি আল্লাহর কার্যপদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন পাবে না।"
❖ প্রয়োজনীয় শব্দের রুট বিশ্লেষণ (Morphological Root Analysis)
| কুরআনিক শব্দ | শব্দমূল (Root) | ব্যাকরণগত রূপ | অর্থ ও প্রায়োগিক তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| سُنَّةَ | س ن ن | ইসম (মুদাফ) | অপরিবর্তনীয় ঐশী ধারা, কার্যপদ্ধতি ও চিরন্তন রীতি |
| خَلَتْ | خ ل و | ক্রিয়া (মাদি / স্ত্রীবাচক) | যা অতীতে অতিবাহিত ও কার্যকর হয়েছে |
| تَبْدِيلًا | ب د ل | মাসদার (বাব তাফঈল) | কোনো পরিবর্তন, রূপান্তর বা ব্যত্যয় |
আল্লাহর সুন্নাহ চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়। কিন্তু মানুষের সমাজে প্রচলিত সামাজিক প্রথা, ঐতিহাসিক অনুশীলন কিংবা মানবীয় সিদ্ধান্তকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আল্লাহর সুন্নাহর মর্যাদা দেওয়া যায় না। মানুষের কোনো অনুসৃত পদ্ধতিকে দ্বীনের বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে তার সপক্ষে অবশ্যই সুস্পষ্ট কুরআনিক সনদ থাকতে হবে।
সামগ্রিক কুরআনিক হিকমাহ: ৮টি মৌলিক স্তম্ভ
কুরআনেই শরীয়তের ভিত্তি
শরীয়ত কোনো পরবর্তীকালের মানবসৃষ্ট পরিভাষা নয়; এর প্রত্যক্ষ শব্দগত ও বিধানগত ভিত্তি কুরআনে বিদ্যমান।
আল্লাহই বিধানের একমাত্র উৎস
একমাত্র আল্লাহই শরীয়ত নির্ধারণ করেন (সূরা আল-জাসিয়া ৪৫:১৮ ও আশ-শূরা ৪২:১৩)।
দ্বীন ও শরীয়ত অবিচ্ছেদ্য
দ্বীন হলো জীবনব্যবস্থা, আর শরীয়ত হলো সেই জীবনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিধানপথ (৪২:১৩)।
সম্প্রদায়ভেদে পদ্ধতির বৈচিত্র্য
আল্লাহ বিভিন্ন উম্মাহর জন্য উপযোগী বিধানপথ ও পদ্ধতি (শির‘আহ ও মিনহাজ) নির্ধারণ করেছেন (৫:৪৮)।
অননুমোদিত বিধানের নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া দ্বীনের নামে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা নিষিদ্ধ (৪২:২১)।
কিতাবের ভিত্তিতেই ফয়সালা
আল্লাহর নাজিলকৃত সত্য বিধান অনুযায়ী বিচারিক ফয়সালা করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (৫:৪৯)।
ফিকহ যাচাই ও সংশোধনযোগ্য
মানুষের ব্যাখ্যা ও ফিকহ ঐশী ওহীর সমপর্যায়ের নয়; তা গবেষণার বিষয় এবং সংশোধনযোগ্য।
আল্লাহর সুন্নাহ অপরিবর্তনীয়
আল্লাহর সুন্নাহ অমোঘ ও শাশ্বত; মানুষের রীতিকে সুন্নাহ বানাতে হলে কুরআনিক দলিল আবশ্যক (৪৮:২৩)।
কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা অনুযায়ী, শরীয়ত আল্লাহপ্রদত্ত বিধানপথ এবং দ্বীন হলো সেই বিধানের অধীনে পরিচালিত সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। এ দুটি পরস্পরবিচ্ছিন্ন নয়।
মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান গভীর প্রজ্ঞার সাথে বোঝা, উপলব্ধি করা এবং বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্ষেত্রে মানুষের জ্ঞান, গবেষণা, ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু মানুষের কোনো ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে উপস্থাপন করার অধিকার কারও নেই, যদি তার পক্ষে আল্লাহর সুস্পষ্ট ওহীর অনুমোদন না থাকে।
কুরআনের ৪২:২১ আয়াত এই বিষয়েই একটি মৌলিক সতর্কতা প্রদান করেছে। আর ৪৫:১৮ আয়াত নির্দেশ দিয়েছে একমাত্র আল্লাহর নির্ধারিত বিধানপথ অনুসরণের।
"আল্লাহ বিধান নির্ধারণ করেন। কুরআন সেই বিধানের মানদণ্ড। মানুষের ফিকহ হলো তা বোঝার প্রচেষ্টা।"

