কুরআন ভিত্তিক সালাত

আলম এম.আলম এম.২৮ আগস্ট, ২০২৬


 

আজকের পোস্টে সালাত নিয়ে কিছু কথা বলবো। কেউ হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন এত দিন নামায শুনে এসেছি, আজ কেন সালাত বলা হচ্ছে। প্রশ্ন যৌক্তিক। তাহলে মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে এ বিষয়ে দু'একটা কথা বলা যেতেই পারে।

নামাজ ফারসি শব্দ। এর বাংলা প্রতিশব্দ কি তা জানা যায়নি। অন্যদিকে সালাত কোরান তথা নবীর মাতৃভাষা। আবার সালাত এবং নামাজ একই অর্থ বুঝায় কি না তাও অজানা। তাই নামাজ না বলে সালাত বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
এখন তাহলে মূল আলোচ্য বিষয় আসা যাক। হরহামেশা একটি প্রশ্ন করা হয় সালাতের বিস্তারিত বিবরণ কুরআনে আছে কিনা? প্রশ্নকারীদের ধারণা কুরআনে এর কোনো উত্তর নেই। কিন্ত উত্তর হলো কুরআনে এর উত্তর রয়েছে শুধু আমরা উদঘাটন করতে পারছি না। এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। আর তা পারবোই বা কি করে, কারন আমাদেরকে না বুঝে কুরআন পড়তে উৎসাহিত করা হয়। বলা হয় - না বুঝে কুরআন পড়লেও প্রতি হরফে দশ নেকি। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট, কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কথা। এবার দেখি কুরআনে সালাত সম্পর্কে কি কি বর্ণনা আছে।
সুরা নেসা আয়াত ৪৩ "হে ইমানদারগণ তোমারা তিন অবস্থায় সালাতের নিকটবরতী হইও না-
  1. যখন তোমারা অপ্রকৃতস্থ থাক (কোন কোন অনুবাদক বলেছেন মদ্যপ থাকা অবস্থায়)
  2. যা বলো তা বুঝতে না পারা, এবং
  3. অপবিত্র অবস্থায়।
আমরা সবাই 1 ও 3 নং শর্ত মাশাল্লাহ ভালো মতোই পরিপালন করি। কিন্তু বিপত্তি ঘটে 2 নং শর্ত নিয়ে। মুসুল্লিদের প্রায় শতভাগই সালাতে যা বলে তা বুঝতে পারেনা। কিন্তু এই 2 নং শর্তের সাথেই সালাত কায়েমের একটা যোগ সূত্র রয়ে গেছে। আল্ কুরআনের কোথাও সালাত পড়ার কথা বলা হয়নি, সালাত কায়েম করার কথা বলা হয়েছে। তাহলে কি পড়া এবং কায়েমে করা একই জিনিস নয়?
ছোট্ট একটা এনালাইসিস দিলে পরিস্কার হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। ধরুন আপনি একটি ঘর প্রতিষ্ঠা করবেন। তার জন্য যে সব মাল-সামানা, যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তার একটা ফর্দ করলেন এবং লিখিত একটা তৈরি প্রনালী যোগাড় করে নিয়ে সারা দিন পড়তে থাকলেন তাতে কি আপনার ঘরটি প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে? নিশ্চয় না। কি করলে প্রতিষ্ঠা হবে? ফর্দ অনুযায়ী মালসামানা, যন্ত্রপাতির সমাবেশ ঘটাতে হবে এবং তৈরী প্রণালীর নিয়ম অনুযায়ী বাস্তব ব্যবহার করতে হবে, তবেই ঘরটি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তদ্রূপ সালাতের শিক্ষা গুলি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি তবেই সালাত প্রতিষ্ঠিত হবে। না বুঝলে কি সেই শিক্ষা প্রয়োগ করা সম্ভব? আর প্রয়োগ না করার ফলাফল কায়েম না হওয়া। এখন মনে হয় পড়া এবং কায়েম করার একটা সাদামাঠা তফাত বুঝা গেল।
এখন তাহলে কি করা? যেহেতু সালাতে যা বলি তা বুঝি না,তবে কি সালাত থেকে দূরে থাকবো? সেটাই বা কি করে সম্ভব? আল্লাহ পাক তো কোরানের বহু জায়গায় সালাত কায়েম করার তাগিদ দিয়েছেন। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলে কেউ সমস্যার সমাধান করে না। তা করলে মানুষটাই মারা যাবে। তদ্রূপ আমরা সালাত ফেলে দিব না বরং অর্থ দ্রুত জেনে নিব।
এখন জানবো সালাতে কি পাঠ করবো, কি ভাবে করবো?
সালাত মুমিনদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাহিক ইবাদত। এই ইবাদতের নির্দেশ দাতা সয়ং আল্লাহ পাক। সালাত কায়েম করার তাগিদ আল কুরআনের বহু আয়াতে উল্লেখ আছে তা প্রায় সকল মুমিন মুসলমান জানে বা শুনেছে। যেহেতু এটা একটি বাধ্যতামূলক কুরআনিক নির্দেশ, সুতারং এর পরিপালন পদ্ধতি কুরআনেই উল্লেখ থাকবে সেটাই যৌক্তিক। কিন্তু আমাদের ওলামায়ে কেরামদের অনেকেই বলেছেন, কুরআনে এসবের উল্লেখ নেই। আসলেই কি তাই? বুঝে বুঝে কুরআন পড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আসল সত্যিটা কি।
আমরা সালাতে দাড়িয়া প্রথম যে দোয়া পাঠ করিঃ
সুরা আন'আম আয়াত ৭৯ "ইন্নী অজ্জাহাতু অজিহা লিল্লাজি ফাতারাস সামাততি ওল আরদা হানিফও অমা আনা মিনাল মুশরিকিন"
অর্থঃ আমি আমার মুখ একনিষ্ঠ ভাবে ফেরালাম তাঁর দিকে যিনি আসমান ও জমিনের সৃষ্টি কর্তা, এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
সালাতে কি পাঠ করতে হবে এ প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ পাক কি বলছেন, তা দেখুন।
আল্লাহ পাক জবাব দিচ্ছেন, সুরা আন কাবুত আয়াত ৪৫ "উতলু মা উহিয়া ইলাইকা মিনাল কিতাবে ওয়াকিমুস্সালাওত...। "
অর্থঃ তোমার প্রতি যা ওহি করা হয়েছে সেই কিতাব থেকে পাঠ কর এবং সালাত কায়েম কর...।
সুরা মুজাম্মেল আয়াত ২০ "...ফাকরাঊ মা তায়াস্সারা মিনাল কুরআন..." অর্থঃ কোরান থেকে যতটুকু সহজ হয় তাই পাঠ কর।
এখন বিপত্তি হচ্ছে আমরা কোরানের বাইরে থেকে যা পাঠ করি তা নিয়ে। যেমন আত্তাহিয়াতু, দূরুদে ইব্রাহিম, কোরানে নাই, এগুলো কি পাঠ করা যাবে? এমনকি আমরা ছোটবেলায় হুজুরের কাছে যে আরবি সালাতের নিয়ত শিখেছি তাও কুরআনে নেই। সালাতে এগুলো পাঠ করে আমরা স্পষ্টত আল্লাহর আদেশ অমান্য করছি। যাঁর জন্য ইবাদাত তাঁর আদেশ অমান্য করলে - এমন ইবাদত কতটুকু কবুল হবে?
তাহলে আত্তাহিয়া এবং দূরুদে ইব্রাহিম এর পরিবর্তে কোরান থেক যা পড়া যেতে পারে সুরা বাকারা আয়াত ২০১, ২৮৬ আয়াতের রব্বানা থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত।
সুরা আল ইমরানের ৮,৯, ৩৮, ১৯৩ এর রব্বানা থেকে ১৯৪ আয়াতের শেষ পর্যন্ত। সুরা নামল আয়াত ১৯ "... রব্বি থেকে শেষ পর্যুন্ত। সুরা আহাকাফ আয়াত ১৫ এর রব্বি থেকে শুরু করে মিনাল মুসলিমিন পর্যন্ত। অনুরূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
এবার আসা যাক ২য় প্রশ্নে, কি ভাবে পাঠ করবো? আল্লাহ পাক সুরা বনি ইসরায়েলের ১১০ নং আয়াতে বলছেন-
"তুমি তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করোনা এবং ক্ষীণও করোনা, এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করো"।
কিন্তু আমরা কী করি? কোন ওয়াক্ত উচ্চ স্বরে, কোন ওয়াক্ত ক্ষীণ স্বরে, আবার একই ওয়াক্তে আংশিক উচ্চ আংশিক ক্ষীণ, আবার কোন কোন পাঠ্য সর্বদই ক্ষীণ স্বরে পড়ি।
এখন কেউ কেউ হয়ত বলতে চাইবেন হাদিসে আছে বা নবীজি এভাবে করে গেছেন। কোরানে এরূপ সুস্পষ্ট আয়াত থাকা সত্বেও নবীজি তা অগ্রাহ্য করবেন এটা কখনই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
সুরা বাকারা আয়াত ২৮৫ আল্লাহ বলছেন "আমানার রসূলু বিমা উনঝিলা ইলায়হি মির রব্বীহি ওয়াল মুমিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহে ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতিবিহি..."।
অর্থঃ রাসূল ইমান এনেছেন তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল হয়েছে এবং মুমিনগনও। প্রত্যেকে ইমান এনেছেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেস্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি..."।
এইবার বলেন নবীজি এবং ইমানদার গন কিতাবের প্রতি ইমান আনার পর সেই কিতাব অমান্য করলে তাদের ইমান থাকে?
সুতরাং হাদিসে আছে বা নবীজি এভাবে করে গেছেন, এমন কথা হাস্যকর, অবান্তর এবং অবিশ্বাস যোগ্য। শুধু এখানেই শেষ নয়, রাসুল যাতে কুরআনের বাইরে গিয়ে কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক, কোরান পরিপন্থী কোনো কথা (হাদীস) বলতে না পারেন তার জন্য আল্লাহ পাক কী কঠিন হুশিয়ারী এবং শাস্তির বিধান রেখেছেন তা আল্লাহ পাক কুরআনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষদের কেউ কুরআন পরিপন্থী বা কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কথা না বলে।
সুরা হাক্কা আয়াত ৪৪- ৪৭। আল্লাহ বলছেন "ওলাউ তাকাওয়ালা আলাই না বায়াদাল আকয়ীল লাআখাজনা মিনহু বিল ইয়ামিন সুম্মা লাকতায়ানা মিনহুল ওয়াতিন, ফামা মিনকুম মিন আহাদিন আনহু হাজিঝীন"
অর্থঃ সে যদি আমর নামে কিছু রচনা করে চালাতে চেষ্টা করতো তবে অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী। অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাকে রক্ষা করতে পারত।
এখন প্রশ্ন হলো সালাতে কুরআন বহির্ভূত যা পাঠ করি সে গুলি না পড়লে ঐ জায়গাগুলিতে আমরা কি পড়ব? বুঝতে হবে আমরা ঐ জায়গা গুলিতে কি পাঠ করি? মুলত আমরা দোয়া করি। আল্লাহ পাক নবী রসুলদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, নবী রসূলগন সে সব দোয়া পাঠ করেছেন এবং আল্লাহ পাক তা কবুল করে নিয়েছেন। এসব দোয়া কুরআনময় ছড়িয়ে আছে। আমরা সেগুলি পাঠ করতে পারি। যেমন সুরা মুমিনুন আয়াত ১০৯ "... রব্বানা আমান্না ফাগফির লানা ওরহামনা ও আনতা খায়রুর রাহিমিন"। অর্থঃ হায় আমার রব আমি ইমান এনেছি, অতঃপর আমাদের ক্ষমা করো এবং আমাদের দয়া করো, তুমি শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আরো পড়তে পারেন একই সুরার শেষ আয়াত ১১৮।
আনেকে প্রশ্ন করেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কথা কি কুরআনে আছে? তাহাজ্জুদ সহ ছয় ওয়াক্ত সালাতের কথা কোরানে উল্লেখ আছে। তবে তাহাজ্জতের সালাত নবীর জন্য অতিরিক্ত। সাধারণত মুসলমানরা তা আদায় করলে অনেক নেকি আছে।
ফরজ সালাত শেষে হাত তুলে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করা নিয়ে ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে ব্যাপক মতো পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
সুরা বাকারা আয়াত ২৫৩ "ওস্তাইনু বিস্সবরী ওস্ সালাত"। অর্থঃ সাহায্য প্রার্থনা করো ধৈর্য্য এবং সালাতের মাধ্যমে। অর্থাৎ সাহায্য চাইতে হবে সালাতের মধ্যে। কিন্তু দেখা যায় ইমাম সাহেব ফরজ সালাতে এমন আয়াত পড়ছেন যেখানে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার কোনো কথাই নাই। অথচ সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষে করে সবাই মিলে দোয়া করে। তাতে কি সুরা বাকারার ১৫৩ নং আয়াতের নির্দেশ অমান্য করা হয় কি না??? অনুরূপ কথা আছে সুরা বাকারার ৪৫ নং আয়াতেও। আর তাই বোধ হয় অনেকে বলছেন সালাতের পরে সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা বিদাত, নিষেধ ইত্যাদি। তাই সুরা ফাতিহা পড়ার পর সাহায্য চাওয়ার আয়াত পড়তে হব। যেমন বড় আয়াত পড়তে চাইলে সুরা বাকারার আয়াত ২৮৫, ২৮৬ পড়া যায়, সুরা শু'আরা আয়ত ৮৩- ৯১ পড়া যায়, ছোট আয়াত পড়তে চাইলে সুরা ফালাক, সুরা নাস পড়া যায়। অনুরূপ আরোও বহু আয়াত আছে সেগুলি পড়া যায়।
এইবার আসি রুকু ও সেজদায় কি পড়তে হবে। রুকু সেজদা আল্লাহর নিকট নতি স্বীকারের দৃশ্যমান প্রদর্শনী। এক্ষেত্রেও আমরা যে দুটি দোয়া যথাক্রমে পড়ে থকি তা কুরআনের আয়াত নয়। কোরানের শব্দ ব্যবহার করে মানুষ রচিত দোয়া। তাই আমরা এ দুটি দোয়ার পরিবর্তে সরাসরি কুরআনের আয়াত পড়তে পারি যেমন- যথাক্রমে সুরা তুরের আয়াত ৪৩ এর শেষ অংশ "সুবহানাল্লাহি আম্মা ইয়শরিকুন" এবং "সুবহানাকা ফকিনা আজাবান্নার"। যার অর্থ যথাক্রমে- তারা যে শরিক করে আল্লাহ তার থেকে পবিত্র এবং তুমি পবিত্র অতঃপর আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি দাও। আরো পড়তে পারি সুরা ফোরকানের ৬৫ নং আয়াত থেকে "...রব্বানাছরিফ আন্না আজাবা জাহান্নাম"...। অর্থঃ হে প্রভু! আমাদের থেকে জাহান্নামের আজাবকে দূরে রাখ। আরো পড়তে পারি "আসলামতু লি রব্বুল আলামীন"; সুরা ক্বালাম আয়াত ২৯ "সুবহানা রব্বিনা ইন্না কুন্না জলিমিন"। অর্থঃ আমার রব পবিত্র, নিশ্চয় আমরা অপরাধী।
কেবলা মুখী হওয়ার নির্দেশ আছে সুরা বাকারা আয়াত ১৪৪। কেবলা মুখী হয়ে কি পাঠ করতে হবে তা আছে সুরা আন'আম আয়াত ৭৯।
সালাতে তাকবির বলার নির্দেশ আছে সুরা বনি ইসরায়েলের ১১১ নং আয়াতে।
সুরা ফাতেহা পড়ার নির্দেশ সুরা হিজর আয়াত ৮৭। সালাতে দৃষ্টি স্থীর রাখার নির্দেশ সুরা আরাফ আয়াত ২৯। রুকু সেজদা করার নির্দেশ সুরা হাজ্ব আয়াত ৭৭। রুকু সেজদায় তাসবিহ পড়ার নির্দেশ আছে সুরা সেজদাহ আয়াত ১৫।
সালাতে দাড়ানোর পূর্বে পাক পবিত্র হওয়ার নির্দেশ আছে। কি ভাবে অজু, তায়মুম করবেন তা বলা আছে সুরা মায়িদা আয়াত ৬।
প্রতি ওয়াক্তে সালাত কত রাকাত তার প্রদর্শনী সহ উল্লেখ আছে সুরা নেসা আয়াত ১০২। অনেকে বলে থাকেন এটি যুদ্ধ কালিন সময়ের সালাতের বিবরণ। সেসব ভাইদের বলবো আল্লাহ যুদ্ধ কালীন সময়ের সালাতের রাকাতের বিবরণ দিলেন যা প্রতাহিক ঘটনা নয়। অথচ স্বাভাবিক সময়ের প্রতাহিক সালাতের রাকাতের বিবরণ দিলেন না, এটা হতে পারে না। যেহেতু কুরআনে এই সুরা নেসার ১০১,১০২,এ ১০৩ নং আয়াত ছাড়া রাকাত সংখ্যা নিয়ে অন্য কোন আয়াত নাই। তাই এই একই আয়াত গুলিতে আল্লাহ পাক স্বাভাবিক সময়ের, যুদ্ধের সময়ের এবং সকল ওয়াক্তের সালাতের রাকাতের বিবরণ দিয়েছেন। এমনকি কসর সালাতের ব্যপারও বলে হয়েছে। এটা খুব ভালো করে পড়লে পরিস্কার হয়ে যাবে।
দেখুন ১০২ নং আয়াত অনুযায়ী দুই ধরনের লোক সালাত আদায় করেছে এক হচ্ছে নবীজী সঃ নিজে যিনি ইমামও বটে, আর হচ্ছে সৈনিকগন। এক দল সৈনক সেজদা করে সরে গেছে অপর দল এসেছে নবীজী (সঃ) এর সাথে সালাতে দাড়িয়েছেন নবীজী কিন্তু সরেন নাই। সৈন্যরা সরে গেছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। নবীজী (সঃ) কিন্তু নিরাপত্তা প্রদানের দ্বায়িত্বে ছিলেন না। তাই উনি ২ রাকাত পড়েছেন। সৈন্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের দ্বায়িত্বে ছিলেন বিধায় ১ রাকাত পড়ে দ্বায়িত পালনে পুনরায় নিয়জিত হয়েছে। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যার জন্য ভয়,নিরাপত্তার আতংক নাই সে ২ রাকাত এবং যার তা আছে সে ১ রাকাত আদায় করবে অর্থাৎ কসর সালাত। এখানে আরোও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জীবনের হুমকি থাকলেও সালাত মাফ নাই আবার অন্য দিকটা খেয়াল করুন অসুবিধা থাকলে সালাত কছর ( সংক্ষিপ্ত) করার বিধান আছে। কেউ কেউ বলে থাকেন নিজ বাড়ি ছেড়ে ৪০ বা ৪৮ মাইল দূরে সফরে গেলে কছর সালাত আদায় করা যায়। কিন্তু কুরআন সেটা অনুমোদন করে না। কি রকম পরিস্থিতিতে কসর করা যাবে তাও ১০২, ১০৩ আয়াতে উল্লেখ আছে। রাকাত সম্পর্কে কোরানে অন্য কোথাও কিছু উল্লেখ নাই বিধায় বুঝাগেল স্বাভাবিক সময়ে সব ওয়াক্তে সালাত ২ রাকাত এবং যুদ্ধ সহ অন্যান্য অস্বাভাবিক সময়ে ১ রাকাত। যা ১০৩ নং আয়াতে উল্লেখ আছে।
অনেকে বলতে চাইবেন আমাদের প্রচলিত নিয়মের সাথে মিলছে না। ভাই, প্রচলিত নিয়মের সাথে কুরআনকে এডজাস্ট করা যাবে না। কুরআনের সাথেই প্রচলিত নিয়মকে এডজাস্ট করতে হবে।
সুতারং, যারা বলেছেন কুরআনে সালাতের বিবরণ নাই; হাদিস ছাড়া সালাত করা সম্ভব নয়, তাদের এই শুনা মতবাদ ধোপে টেকে না তা উপরের এসব রেফারেন্স থেকে দিবালোকের মতো পরিস্কার।
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ

এই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গভীর আলোচনা ও কুরআনভিত্তিক অনুসন্ধান

সকল প্রবন্ধ দেখুন

সালাত: কুরআনিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ

সালাত: কুরআনিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ সিস্টেমিক হারমেনিউটিক্স · কুরআনিক ডেটা-ভেরিফিকেশন · ৪:৮২ ফিল্টার প্রয়োগ ভূমিকা: নামাজ

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

সৃষ্টির আদি উপাদান ও আরশ: সূরা হূদ ১১:৭-এর একটি কুরআনভিত্তিক ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

সূরা হূদ ১১:৭-এ “আরশ পানির ওপর ছিল” বলতে কি বস্তুগত স্থান বোঝানো হয়েছে, নাকি ঐশী সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও জীবনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা? পানি, আরশ, ছয়টি পর্যায় এবং সূরা ২১:৩০, ২৪:৪৫ ও ২৫:৫৪-এর সমন্বয়ে আলম এম.-এর গভীর ভাষাতাত্ত্বিক ও কুরআনিক গবেষণা নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

নামাজ কি কুরআনের বিষয়? সালাত, সালাওয়াত এবং প্রাচীন জরথুস্ত্রীয় প্রার্থনার একটি তুলনামূলক পাঠ

কুরআনের আরবি পাঠে “নামাজ” শব্দটি একবারও নেই; রয়েছে صَلَاة ও صَلَوَات। সালাত কি কেবল নির্দিষ্ট শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, নাকি এক সামগ্রিক কুরআনিক বিধান? প্রাচীন জরথুস্ত্রীয় (Avesta) ৫টি গাহের প্রার্থনা, শুদ্ধিকরণ ও সিজদার বিশ্বজনীন তাৎপর্যের আলোকে আলম এম.-এর তুলনামূলক গবেষণা নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

সালাত: দুই বানান, দুই অর্থ?

কুরআনে সালাত শব্দের বিভিন্ন লিখিত রূপ—الصَّلَوٰة বনাম সর্বনামযুক্ত صَلَاتِي، صَلَاتِكَ، صَلَاتِهِمْ—বানানের এই পার্থক্য কি কেবল লিখনরীতি, নাকি অর্থগত কোনো গভীর সূক্ষ্মতা নির্দেশ করে? ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও কুরআনিক সমন্বয়ের আলোকে আলম এম.-এর বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

সালাতুল উস্তা: আমরা কি শুধু সালাত পড়ি, নাকি আল্লাহর জন্য দাঁড়াই?

কুরআনে সামাজিক অধিকার, দায়িত্ব ও অনুগ্রহের বিধানের মাঝে হঠাৎ সালাতুল উস্তার আলোচনা কেন? মূলধাতু و س ط, ح ف ظ ও ق ن ت-এর ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, মরুভূমির পানির মশকের রূপক এবং আল্লাহর জন্য কানিত অবস্থায় দাঁড়ানোর নিবিড় পর্যালোচনা। আলম এম.-এর নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন