🟩 কথোপকথন: প্রশ্ন-উত্তর
▪️আল্লাহ কে ছিলেন? মানে, তিনি কোথা থেকে এসেছেন?
▪️ আগে তোমাকে জিজ্ঞেস করি, সূর্য কোথা থেকে এসেছে?
▪️ মহাকাশ থেকে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড থেকে, মনে হয়।
▪️আর বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কোথা থেকে এসেছে?
▪️বিগ ব্যাং থেকে।
▪️আর বিগ ব্যাং কিসের কারণে হয়েছিল?
▪️ওহ, জানি না, হয়তো কিছুই না?
▪️কিছুই না কি বিস্ফোরিত হতে পারে?
▪️না, সেটা তো আজব ব্যাপার হতো।
▪️ঠিক, তাই যিনি সবকিছুর শুরু করেছিলেন তিনি "কিছুই না" হতে পারেন না। তিনি অবশ্যই সবকিছুর বাইরের কেউ হবেন। যার নিজের কোনো শুরু লাগে না।
▪️কিন্তু সবকিছুরই তো একটা শুরু আছে। আমার গেমটাও তো শুরু হওয়ার পরেই আমি খেলতে পারি।
▪️হ্যাঁ, কিন্তু সেটা তো গেমের ভিতরের ব্যাপার। যিনি গেম বানিয়েছেন, তিনি তো গেমের ভিতরে লোড হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন না, তাই না?
▪️ওহ, তাহলে আল্লাহ হচ্ছেন গেমের বাইরের সেই সত্তা।
▪️খুব সুন্দর বুঝেছিস। আল্লাহ সময়, স্থান এবং সব নিয়ম সৃষ্টি করেছেন, যার কারণে তোমার গেম আর এই ব্রহ্মাণ্ড চলছে। তিনি সময়ের মধ্যে অপেক্ষা করছেন না। তিনিই সময় থাকার কারণ।
▪️তাহলে, তাঁর কোনো শুরু বা শেষ নেই?
▪️হ্যাঁ। "আগে", "পরে"—এসব শব্দ সময়ের ভিতরের জিনিসের জন্য। আল্লাহ এই গল্পের ভিতরে নেই। তিনি লেখক।
▪️তাহলে, যদি তিনি সবকিছু বানিয়ে থাকেন, তার মানে কি তিনি "কিছুই না"-কেও বানিয়েছেন? শূন্যতাও তাঁর ডিজাইন। শব্দের আগের নীরবতা, সেই বিরতিটিও তিনি সৃষ্টি করেছেন।
▪️সেটা তো বিশাল কথা।
▪️কিন্তু তাঁকে দেখতে না পেলে কিভাবে জানব যে তিনি আছেন?
▪️তুমি কি তোমার চিন্তা দেখতে পাও? বা মাধ্যাকর্ষণ দেখতে পাও? বা ভালোবাসা?
▪️না, কিন্তু সেগুলো আমি অনুভব করি।
▪️ঠিক। তুমি তাদের প্রভাব অনুভব করো। বিশ্বের সুষমা, সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান জ্ঞান। তোমার হৃদয় যা ঠিক আর ভুল বোঝে সেই ক্ষমতা। এগুলো সবই নিদর্শন। আমরা চোখে আল্লাহকে দেখতে পাই না। কিন্তু আমাদের চোখ যা কিছু দেখে, সবই তাঁর নামের ইশারা করছে।
▪️তাহলে, আল্লাহ কেবলই আছেন?
▪️হ্যাঁ। আর এটাই তাঁকে আল্লাহ করে তোলে। যাঁকে কখনো কেউ সৃষ্টি করেনি। যিনি বাকি সবকিছুকে সম্ভব করেছেন।
▪️তাহলে, তিনি যদি সময় লিখে থাকেন, তাহলে আমাদের পুরো গল্প তিনি আগে থেকেই জানেন।
▪️জানেন। আর তবুও তিনি আমাদেরকে লাইনগুলো বেছে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন। সেটাই তো সৌন্দর্য। লেখক একটি কলম দিয়েছেন।
▪️মনে হয় আমার প্রথম বড় প্রশ্নটা বুঝতে পেরেছি। কিন্ত মনে হচ্ছে আরেকটা প্রশ্ন আসছে।
▪️ভালো। আসতে দাও। প্রশ্নগুলো দরজার মতো। আর আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন যারা দরজায় কড়া নাড়তে থাকে।

