- আল্লাহ্,তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। তিনি তোমাদের কিয়ামতের দিন একত্র করবেনই, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কে আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক সত্য হাদিস (কথা) বলতে পারে? (সুরা৪:আয়াত৮৭)
- এরপর তারা আর কোন হাদিসে (কথায়) ঈমান আনবে? (সুরা ৭,আয়াত ১৮৫)
- এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট তিলাওয়াত করছি যথাযথ ভাবে। সুতরাং আল্লাহ্ এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা আর কোন হাদিসে (বাণীতে) বিশ্বাস করবে? (সুরা৪৫, আয়াত ৬)
- তারা কি বলে,‘ এ কুরআন তার নিজের রচনা? তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে এর সদৃশ কোন হাদিস (রচনা) উপস্থিত করুক না। (সুরা৫২, আয়াত৩৩-৩৪)
- তোমরা কি এ হাদিসে (কথায়) বিস্ময় বোধ করছ? (সুরা ৫৩, আয়াত ৫৯)
- ইহা জগতসমূহের রবের নিকট হতে অবতীর্ণ। তবুও কি তোমরা এ হাদিস (বাণী) কে তুচ্ছ গণ্য করবে? এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করে নিয়েছ! (সুরা ৫৬, আয়াত ৮০-৮২)
- সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যাবাদীদের জন্য। সুতরাং তারা এর পরিবর্তে আর কোন হাদিসে (কথায়) বিশ্বাস স্থাপন করবে? (সুরা ৭৭, আয়াত ৪৯-৫০)
হাদিস শব্দের অর্থ কথা, বাণী,বৃত্তান্ত, প্রসংগ বা উপদেশ। আল্লাহর কিতাবে দুই প্রকার হাদিসের উল্লেখ আছে।
আহসানাল হাদিস
আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন আহসানাল হাদিস (উত্তম বাণী) সম্বলিত কিতাব যা সুসমঞ্জস এবং যা পুন:পুন: আবৃত্তি করা হয়। তাতে, যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাদের দেহমন বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এ-ই আল্লাহর নির্দেশ। (সুরা ৩৯, আয়াত ২৩)
লাহ্ওয়াল হাদিস
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য লাহ্ওয়াল হাদিস (অসার বাণী) ক্রয় করে নেয় এবং আল্লাহ্-প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। তাদেরই জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সুরা ৩১:আয়াত ৬)
আল্লাহর আলোচিত হাদিস সম্পর্কে প্রশ্ন-
- তোমার নিকট মূসার হাদিস (বৃত্তান্ত) পৌঁছিয়েছে কি?(সুরা ২০, আয়াত ৯; ৭৯:১৫)
- তোমার নিকট ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের হাদিস (বৃত্তান্ত) এসেছে কি? (সুরা ৫১, আয়াত ২৪)
- তোমার নিকট সৈন্য বাহিনীর হাদিস (বৃত্তান্ত) পৌছিয়েছে কি? (সুরা ৮৫, আয়াত ১৭)
- তোমার নিকট কিয়ামতের হাদিস(সংবাদ)পৌঁছিয়েছে কি? (সুরা ৮৮:আয়াত ১)
- নিশ্চয়ই এ (কুরআন) সম্মানিত রাসূলের কথা (হাদিস) (সুরা ৬৯, আয়াত ৪০; ৮১:১৯)
আল্লাহ্ তাঁর মহাগ্রন্থ কুরআনে উপরোক্ত হাদিসগুলোর আলোচনা করেছেন।রাসূল আল্লাহর হাদিস প্রচারে করতেন-
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই যিনি তার বান্দার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেন নি। একে করেছেন সুপ্রতিষ্টিত তাঁর কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য এবং মু’মিন, যারা সৎকর্ম করে,তাদের এ সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে,তাদের জন্য আছে উত্তম পুরুষ্কার,যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে। ....তারা এ হাদিস (বাণী) বিশ্বাস না করলে সম্ভবত তাদের পিছনে ঘুরে তুমি দুঃখে আত্নবিনাশী হয়ে পড়বে-(সুরা ১৮:আয়াত ১-৬)
যখনই তাদের কাছে দয়াময়ের হাদিস (বাণী) থেকে নূতন উপদেশ আসে তখনই তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সুরা ২৬, আয়াত ৫)
আল্লাহর হাদিস ব্যতীত আলোচনা হলে তাতে বসা নিষেধ
কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি তো অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে, আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তাতে বিদ্রুপ করা হচ্ছে তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য হাদিসে (প্রসংগে) লিপ্ত থাকবে তোমরা তাদের সাথে বসবে না, অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হবে। মুনাফিক এবং কাফির সকলকেই আল্লাহ্ জাহান্নামে একত্র করবেন। (সুরা ৪, আয়াত ১৪০)
তুমি যখন দেখ, তারা আমার আয়াতসমূহ সম্বন্ধে উপহাস মূলক আলোচনায় মগ্ন হয় তখন যতক্ষণ পর্যন্ত তারা অন্য হাদিসে (কথায়) লিপ্ত থাকবে তোমরা তাদের থেকে দুরে থাকবে এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে তবে স্মরণ হওয়ার পরে যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না। (সুরা ৬, আয়াত ৬৮)

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।