আল কোরআনে আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য রয়েছে মুহাম্মাদ (সা.) এর মাঝে উত্তম আদর্শ’। (সূরা: আহযাব, আয়াত:২১)
কুরআন বুঝিয়ে দেবার একমাত্র শিক্ষক রাসূল।
আলম এম.২৮ আগস্ট, ২০২৬একজন রাষ্ট্রনায়ক রাসূল (সা.) থেকে শিখতে পারবেন আদর্শ রাজনীতি। কীভাবে অধীনস্তদের মন জয় করতে হয়, একজন নেতা তা শিখতে পারবেন রাসূল (সা.) এর সিরাত থেকে। একজন আদর্শ শিক্ষকের নমুনা তিনি। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁকে শিক্ষক রূপেই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলেন।
মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন একজন শিক্ষক। আল কোরআনে তাঁর শিক্ষকতার আলোচনা এসেছে এভাবে, ‘তিনি ওই সত্তা যিনি অশিক্ষিতদের মাঝে প্রেরণ করেছেন একজন রাসূল তাদেরই মধ্য থেকে। যিনি তাদের সামনে কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করবেন, আত্মশুদ্ধি করবেন, কোরআন ও হেকমত শিখাবেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে সুষ্পষ্ট ভ্রান্তির মাঝে ছিলো’। (সূরা: জুমা, আয়াত: ২)
হাদিসেও রাসূল (সা.) এর শিক্ষকতার আলোচনা এসেছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) একদিন তাঁর কোন এক কামরা থেকে বের হয়ে মসজিদে গেলেন। মসজিদে তখন দু’টি বৈঠক বসেছিলো। এক বৈঠকের লোকজন কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ায় লিপ্ত ছিলো। আর অন্য বৈঠকের লোকজন শিখা-শিখানোয় ব্যস্ত ছিলো। রাসূল (সা.) বলেন, উভয় বৈঠকের লোকেরা কল্যাণের পথে রয়েছে। যারা তেলাওয়াত ও দোয়ায় আছে আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাদেরকে দান করবেন বা বিরত থাকবেন। এরপর রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এ কথা বলে তিনি শিখা-শিখানোর বৈঠকে বসে গেলেন’। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ২২০)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে এ জন্য প্রেরণ করেনি যে, আমি অন্যকে কষ্টে ফেলবো, অন্যের পদস্খলন কামনা করবে। তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন শিক্ষক এবং আসানকারী হিসেবে।’ (সহিহ মুসলিম, কিতাবুত ত্বালাক, হাদিস নম্বর: ১৪৭৮)
✓✓আমরা যে যার অবস্থান থেকে রাসূলকে শিক্ষক হিসেবে ভিন্ন ভিন্নভাবে মানি।
যারা শুধু কুরআন মানতে চান তারা বলেন, কুরআনেই সব আছে। আল্লাহ্ আমাদের রাসূল (স.) এর ওপর কুরআন অবতীর্ন করেছেন। রাসূল (স.) যেভাবে আল্লাহর নির্দেশিত পথে থেকে শিখেছেন সেটা আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। তার দেখানো শিক্ষার একমাত্র কিতাব হলো কুরআন। কুরআনের আয়াত দিয়েই তা প্রমাণিত সত্য।
যারা কুরআনের পাশাপাশি হাদিসও মানেন তারা এটা বলতে চান যে, রাসূল আমাদের শিক্ষক এবং তিনি কুরআনের আলোকেই প্রাকটিক্যাল করে সাহাবীদের দেখিয়ে দিয়েছেন। যেমন নামাজ কিভাবে পড়তে হবে তার বিস্তারিত কুরআনে নেই তাই রাসূল আমাদের প্রাক্টিক্যালি দেখিয়ে দিয়েছেন। এই ব্যাপারে যুক্তি হিসেবে ৬৬:৩ উল্লেখ করে বলেন যে, কুরআনের ওহী ছাড়াও আল্লাহ্ রাসূলের সাথে আলাদাভাবে কথা বলতেন। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সন্দেহ প্রকাশ করা মানেই হলো ৬৬:৩ অস্বীকার করা, যা পুরো কুরআন অস্বীকার করার শামিল। আল্লাহ রাসূলকে যেভাবে শিখিয়েছেন, রাসূল যেভাবে সকল কিছু প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন সেভাবে আমাদের পালন করা অবশ্যই কর্তব্য। অন্যথায় রাসূলকে না মানার সামিল হিসাবে মুসলমানের খাতা থেকে নাম কাটা যাওয়ার কথা।
ইদানিং অনেকেই কুরআনের আলোকে কিভাবে নামাজ পড়তে হবে তা প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিচ্ছেন। এসব অনুসরণ করলে তো আর রাসূলকে অনুসরণ করা হয় না। রাসূল যেভাবে নামাজ আদায় করতেন সেই সিস্টেমটা কাবা সহ সারা দুনিয়ার মানুষ পালন করে আসতেছেন। আমরা কাবার ইমামকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখি সেটা রাসূলের দেখানো প্র্যাকটিক্যাল নামাজ ধরে নিতেই পারি। যারা কুরআনের মাঝে দলিল খোঁজেন, তাদের একটা প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্নটা হলো, (২+৪+৪+৩+৪) ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ কোথা থেকে এলো? এটার একটাই উত্তর দেয়া হয় - কাবায় রাসূলের সময় কাল থেকেই একইভাবে ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় হয়ে আসতেছে। এই ব্যাপারটাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইতিহাস সাক্ষী।
কুরআনে নামাজ কিভাবে আদায় করতে হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা নেই। রাসূল আমাদেরকে প্রাকটিক্যালি করে দেখিয়েছেন। তার তো নিজে থেকে কিছু করে দেখানোর কথা নয়। ৬৬:৩ অনুযায়ী আল্লাহ রাসূলকে আলাদাভাবে কথা বলে বলে শিখিয়েছেন। মেনে নিলাম।
∆∆∆✓এবার বিপদজনক কথাটা বলে ফেলি। তার আগে ১৭:১১০ আয়াতে কি বলা হয়েছে তা একটু দেখে আসি। জানিনা, এই পোষ্ট পড়ে কতোজন আমাকে কাফির, মুশরিক, আবু জাহেল হিসেবে আখ্যা দিবেন!
"বল, তোমরা আল্লাহ্ নামে আহ্বান কর বা রহমান' নামে আহ্বান কর, তোমরা যে নামেই আহ্বান কর সকল সুন্দর নামই তো তাঁহার। তোমরা সালাতে স্বর উচ্চ করিও না এবং অতিশয় ক্ষীণও করিও না; এই দুইয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর।'"
আয়াতের শেষের "তোমরা সালাতে স্বর উচ্চ করিও না এবং অতিশয় ক্ষীণও করিও না; এই দুইয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর।" এই কথাটা মনে রাখি।
কাবায় ইমাম সাহেবের ইমামতিতে মুক্তাদী হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করতে দাঁড়ালাম। এবং আসর নামাজের ওয়াক্তে একই কাজ করলাম। আমি বুঝতেই পারলাম না কাবার ইমাম সাহেব এই দুই নামাজে/সালাতে কিছু পড়লেন কিনা?
আমরা তো মেনেই নিয়েছি আল্লাহর শেখানোর নিয়মে রাসুলুল্লাহ প্রাক্টিক্যালি যেভাবে নামাজ পড়তে শিখিয়েছেন সেটা এই দীর্ঘ সময় ধরে কাবায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এখন কেউ যদি বলে আল্লাহ রাসুলুল্লাহকে এভাবেই নামাজ পড়তে শিখিয়েছেন তাহলে আল্লাহ আমাদের রাসূলকে ১৭:১১০ এর বক্তব্য মানতে বলেননি?
✓নামাজে কে বুকে হাত বাধলো, কে নাভির নিচে হাত বাঁধলো, কে দুই হাত ছেড়ে না বেধেই নামাজ পড়লো - এসব তো গৌণ ব্যাপার। এত দীর্ঘ সময়ের নামাজের স্টাইলকে রাসূলের শেখানোর স্টাইল বলাটা কতটা যৌক্তিক? রাসূলের কি মনগড়া কোন কিছু করার স্বাধীনতা ছিল যে ১৭:১১০ মানবেন না? তাহলে কে বা কাহারা ১৭:১১০ রহিত করেছে? আল্লাহর কথা রহিত করার অপরাধ কেমন হতে পারে কেউ কি জানে না?
সালাত/নামাজ কিভাবে পড়বো - এই ব্যাপারটাকে আমরা এতটাই গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছি, অথচ আল্লাহ কুরআনে তেমন কিছুই বলে দিলেন না। আল্লাহ বলে দেননি তাতে কি, বুখারী মুসলিম তিরমিজি ইনারা তো বলে দিয়েছেন! ইনাদের কথা না মানলে যে কাফির(?)। ইনারা তো রাসূলের থেকে, আল্লাহর থেকেও বড়!!! (মাআযাল্লাহ)।
✓রাসূলকে শিক্ষক হিসেবে কতোটা মানি? মানতে গিয়ে আল্লাহর কথাই আর মানছি না। এই হল আমাদের মহান শিক্ষক রাসুলকে মান্য করা!!!
NB: এত বড় লেখা লিখলে কিছু না কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। যদিও পোস্ট করার আগে আমি বেশ কয়েকবার রিভাইস দিয়েছি। তারপরেও কোন ভুল থাকতে পারে।
পাঠক প্রতিক্রিয়া
এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন
একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন
মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিতকুরআন অন্বেষা কমিউনিটি
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশনমোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থানপেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.
লেখকের সকল লেখা →কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।
