কুরআনে প্রাণী: সৃষ্টিজগত, উপমা ও মানবচেতনার আয়না

আলম এম.আলম এম.৭ অক্টোবর, ২০২৬
কুরআনিক গবেষণা • লেখক: আলম এম. • পাঠকাল: ১০ মিনিট

কুরআনে প্রাণী: সৃষ্টিজগত, উপমা ও মানবচেতনার আয়না

কুরআনে প্রাণীদের কথা এসেছে বহু প্রসঙ্গে। পাখি, মৌমাছি, পিঁপড়া, গরু, উট, ঘোড়া, গাধা, কুকুর, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি উল্লেখের প্রকৃতি এক নয়।

কোথাও প্রাণী আল্লাহর সৃষ্টির অংশ হিসেবে এসেছে, কোথাও তাদের জীবনব্যবস্থা মানুষের জন্য নিদর্শন, কোথাও তাদের আচরণ মানুষের সামনে উপমা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, আবার কোথাও মানুষের এমন একটি মানসিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে যেখানে তার উপলব্ধি, বিচারবোধ ও সত্য গ্রহণের ক্ষমতা ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যায়।

📌 মূল অন্তর্দৃষ্টি: প্রাণী নিজে এক বাস্তব সৃষ্টি, কিন্তু প্রাণীকে ঘিরে কুরআনের বক্তব্য সবসময় কেবল প্রাণী সম্পর্কে নয়।

📊

কুরআনে প্রাণীর ভাষা, মূল ধাতু ও মানবচেতনার তুলনামূলক মাস্টার সারণী

মাস্টার সারণী
প্রাণী / পারিভাষিক শব্দ মূল ধাতু ও অর্থ কুরআনিক আয়াত কুরআনিক মাত্রা মানবচেতনার শিক্ষা ও তাদাব্বুর
دَابَّةٌ / الدَّوَابّ د ب ب (দ-ব-ব): ধীরে বা ক্রমাগত চলা, বিচরণশীল সত্তা ১১:৬, ৮:২২, ২২:১৮ চলমান সৃষ্টিজগৎ ও জীবনপ্রবাহ রিজিকের নিশ্চয়তা; অথচ আকল প্রয়োগ না করলে মানুষই সবচেয়ে নিকৃষ্ট চলমান সত্তায় পরিণত হয়।
الْأَنْعَام ن ع م (ন-‘আ-ম): গবাদি পশু, স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ৭:১৭৯, ২৫:৪৪ উপলব্ধিহীনতার তুলনামূলক রূপক জ্ঞান ও ইন্দ্রিয় থাকা সত্ত্বেও তা নিষ্ক্রিয় রাখলে মানুষ পশুর চেয়েও অধঃপতিত ও গাফেল হয়।
الْحِمَار ح م ر (হা-ম-র): গাধা, বোঝা বহনকারী ৬২:৫ জ্ঞান বনাম উপলব্ধির বৈপরীত্য ঐশী কিতাব ও জ্ঞানের বোঝা বহন করা অথচ তার মূল দায়িত্ব ও সত্য নিজের জীবনে ধারণ না করা।
الْكَلْب ك ل ب (কা-ল-ব): কুকুর, স্থায়ী তৃষ্ণা ৭:১৭৬ দুনিয়ামুখী আসক্তি ও প্রবৃত্তি (হাওয়া) উচ্চতর মর্যাদার সুযোগ পেয়েও পার্থিব মোহে নিমজ্জিত হওয়া এবং অফুরন্ত লালসায় সর্বদা হাঁপাতে থাকা।
قِرَدَة ও خَنَازِير ق ر د / خ ن ز: বানর ও শূকর, লাঞ্ছিত অবস্থা ২:৬৫, ৫:৬০ নৈতিক অবনমন ও অবমানিত পরিণতি সীমালঙ্ঘন, সত্যের বিকৃতি এবং তাগূতের দাসত্বের চূড়ান্ত চারিত্রিক ও আত্মিক অধঃপতন।
النَّحْل ن ح ল (না-হা-ল): মৌমাছি, প্রাকৃতিক পথচলা ১৬:৬৮–৬৯ স্বভাবধর্মী ওহী ও নিরাময় নিদর্শন আল্লাহর নির্ধারিত পথে সুশৃঙ্খল সমষ্টিগত আনুগত্য, পরিশ্রম এবং সৃষ্টিজগতের জন্য আরোগ্য ও কল্যাণ উৎপাদন।
الطَّيْر ط ي ر (ত্বা-ইয়া-র): পাখি, উড্ডয়নশীল ৬৭:১৯, ৬:৩৮ মহাজাগতিক ভারসাম্য ও স্বতন্ত্র সম্প্রদায় পাখিরাও মানুষের মতো স্বতন্ত্র সুসংগঠিত ‘উম্মাহ’ (أُمَمٌ أَمْثَالُكُم); রহমানের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনার প্রত্যক্ষ নিদর্শন।
১

দাব্বাহ: শুধু পশু নয়, চলমান সত্তা

কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো دَابَّةٌ — দাব্বাহ। এর মূল ধাতু د ب ب — দ-ব-ব (da-ba-ba)। এর মৌলিক ধারণার মধ্যে রয়েছে ধীরে বা ক্রমাগত চলা, বিচরণ করা, ভূমিতে চলাচল করা।

সূরা হূদে বলা হয়েছে:

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
(Wa mā min dābbatin fīl-arḍi illā ʿalallāhi rizquhā, wa yaʿlamu mustaqarrahā wa mustawdaʿahā, kullun fī kitābin mubīn.)
“পৃথিবীতে এমন কোনো চলমান সত্তা নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই। তিনি তার অবস্থানস্থল ও সংরক্ষণস্থল জানেন। প্রত্যেকটিই সুস্পষ্ট বিধানে অন্তর্ভুক্ত।”
সূরা হূদ (১১:৬)

এখানে دَابَّةٍ (দাব্বাতিন) কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর নাম নয়। শব্দটির গঠনই তাকে একটি বিস্তৃত শ্রেণির শব্দে পরিণত করেছে, যার অর্থ পৃথিবীতে চলমান সত্তা।

কুরআনের অন্যত্র মানুষকেও এই শব্দের আওতায় আনা হয়েছে:

إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِندَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ
(Inna sharrad-dawābbi ʿindallāhis-summul-bukmulladhīna lā yaʿqilūn.)
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে চলমান সত্তাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারা, যারা বধির ও বোবা, যারা উপলব্ধি করে না।”
সূরা আল-আনফাল (৮:২২)

এখানে الدَّوَابِّ (দাওয়াব্ব)-এর মধ্যে মানুষের একটি শ্রেণিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ পরের অংশে বলা হচ্ছে الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ, অর্থাৎ যারা عقل — ‘আকল’ ব্যবহার করে না।

অতএব এখানে প্রাণীর শারীরিক পরিচয় নয়, মানুষের জ্ঞানগত অবস্থাই বক্তব্যের কেন্দ্র।

২

যখন মানুষ নিজের উপলব্ধি হারায়

সূরা আল-আ‘রাফে আরও স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে:

وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ ۖ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
(Wa laqad dhara’nā li-jahannama kathīran minal-jinni wal-insi, lahum qulūbun lā yafqahūna bihā, wa lahum aʿyunun lā yubṣirūna bihā, wa lahum ādhānun lā yasmaʿūna bihā. Ulā’ika kal-anʿāmi bal hum aḍallu. Ulā’ika humul-ghāfilūn.)
“আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না; তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না; তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি পশুর মতো, বরং আরও বেশি পথভ্রষ্ট। তারাই গাফেল।”
সূরা আল-আ‘রাফ (৭:১৭৯)

এখানে কুরআন মানুষকে শারীরিকভাবে পশুতে পরিণত করছে না। তুলনাটি এসেছে উপলব্ধির কার্যকারিতা নিয়ে।

কুরআনিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সদ্ব্যবহার। সংশ্লিষ্ট আয়াতে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এসেছে:

يَفْقَهُونَ — ইয়াফকাহূন ف ق ه

অর্থ: গভীরভাবে বোঝা, উপলব্ধি করা, অন্তর্নিহিত সত্যে প্রবেশ করা।

يُبْصِرُونَ — ইউবসিরূন ب ص ر

অর্থ: দেখা, অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা, নিদর্শনের তাৎপর্য অনুধাবন করা।

يَسْمَعُونَ — ইয়াসমা‘ঊন س م ع

অর্থ: শোনা, মনোনিবেশ করা, সত্য বাণীর প্রতি মনোযোগ দিয়ে সাড়া দেওয়া।

يَعْقِلُونَ — ইয়া‘কিলূন ع ق ل

অর্থ: বোধ দ্বারা ধারণ করা, সংযত করা, যুক্তিবোধ ও ন্যায়বিচার প্রয়োগ করা।

অর্থাৎ চোখ, কান ও হৃদয় থাকা যথেষ্ট নয়। এগুলোর কার্যকর ব্যবহার না থাকলে মানুষের বাহ্যিক মানবত্ব তার জ্ঞানগত অবস্থাকে রক্ষা করে না।

৩

গবাদি পশু: একটি তুলনার ভাষা

এই একই বিষয় আরও সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে:

أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ ۚ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ ۖ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا
(Am taḥsabu anna aktharahum yasmaʿūna aw yaʿqilūn. In hum illā kal-anʿām, bal hum aḍallu sabīlā.)
“তুমি কি মনে করো তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা উপলব্ধি করে? তারা তো গবাদি পশুর মতোই; বরং তারা পথের দিক থেকে আরও বেশি বিচ্যুত।”
সূরা আল-ফুরকান (২৫:৪৪)

এখানে الْأَنْعَام — আল-আন‘আম গবাদি পশুকে বোঝায়। কিন্তু আয়াতের উদ্দেশ্য প্রাণীদের অবমাননা করা নয়। তুলনার বিষয় হলো শোনা ও উপলব্ধি করার সক্ষমতা।

অর্থাৎ মানুষের কাছে জ্ঞান গ্রহণের অতিরিক্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি সে সেই ক্ষমতা ব্যবহার না করে, তাহলে তার আচরণ সীমিত প্রবৃত্তিনির্ভর জীবনের মতো হয়ে যেতে পারে।

৪

গাধার উপমা: জ্ঞান বহন করা আর জ্ঞান উপলব্ধি করা এক নয়

কুরআনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী-উপমাগুলোর একটি এসেছে গাধাকে কেন্দ্র করে:

مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا ۚ بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ ۚ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
(Mathalul-ladhīna ḥummilut-Tawrāta thumma lam yaḥmilūhā kamathalil-ḥimāri yaḥmilu asfārā. Bi’sa mathalul-qawmil-ladhīna kadhdhabū bi-āyātillāh. Wallāhu lā yahdil-qawmaẓ-ẓālimīn.)
“যাদের তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, পরে যারা তা বহন করল না, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো, যে গ্রন্থসমূহ বহন করে। কতই না নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।”
সূরা আল-জুমু‘আ (৬২:৫)

এখানে حُمِّلُوا — ḥummilū এবং يَحْمِلُ — yaḥmilu একই মূল ح م ل — ḥ-m-l, অর্থাৎ বহন করা।

কিন্তু একটি গভীর পার্থক্য তৈরি হয়েছে:

💡 বাহ্যিক বহন বনাম অভ্যন্তরীণ ধারণ:

একজন ব্যক্তি জ্ঞান বা গ্রন্থ নিজের কাঁধে কিংবা আলমারিতে বহন করতে পারে, অথচ তার বাস্তব শিক্ষা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা নিজের হৃদয়ে ও চরিত্রে ধারণ নাও করতে পারে।

এ কারণেই কুরআনের এই উপমা শুধু বাহ্যিক জ্ঞান ও অভ্যন্তরীণ উপলব্ধির পার্থক্যকে প্রকাশ করে।

৫

কুকুরের উপমা: আকাঙ্ক্ষার সীমাহীনতা

সূরা আল-আ‘রাফে আরেকটি উপমা এসেছে:

وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَٰكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ ۚ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِن تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَث ۚ ذَّٰلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا ۚ فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
(Wa law shi’nā la-rafaʿnāhu bihā wa lākinna-hu akhlada ilal-arḍi wattabaʿa hawāh. Fa-mathaluhu kamathalil-kalbi in taḥmil ʿalayhi yalhath aw tatrukhu yalhath. Dhālika mathalul-qawmil-ladhīna kadhdhabū bi-āyātinā, faqṣuṣil-qaṣaṣa laʿallahum yatafakkarūn.)
“আমি চাইলে এসবের মাধ্যমে তাকে উন্নত করতে পারতাম; কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি স্থায়ীভাবে ঝুঁকে পড়ল এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। ফলে তার দৃষ্টান্ত কুকুরের মতো: তুমি তার উপর চাপ দাও অথবা তাকে ছেড়ে দাও, সে হাঁপাতে থাকে। এটাই তাদের দৃষ্টান্ত যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব এই বর্ণনা তুলে ধরো, যাতে তারা চিন্তা করে।”
সূরা আল-আ‘রাফ (৭:১৭৬)

এখানে কুকুরের উপমার আগে দুটি বিষয় সরাসরি বলা হয়েছে:

  • ১.
    أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ — পৃথিবীর প্রতি স্থায়ীভাবে ঝুঁকে পড়া ও পার্থিব ভোগে নিমজ্জিত হওয়া।
  • ২.
    اتَّبَعَ هَوَاهُ — নিজের অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃত্তির দাসত্ব করা।

তাই কুকুরের উপমাটিকে কেবল “লোভ” বলে সীমাবদ্ধ করলে আয়াতের পুরো কাঠামো ধরা পড়ে না। এখানে জ্ঞান বা আয়াতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও নিম্নমুখী আসক্তি এবং هَوَى — হাওয়া, অর্থাৎ প্রবৃত্তি বা আকাঙ্ক্ষার অনুসরণকে কেন্দ্রীয় করা হয়েছে।

৬

বানর: একটি নৈতিক রূপান্তরের ভাষা

শনিবারের সীমা অতিক্রমকারীদের প্রসঙ্গে কুরআন বলে:

فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
(Fa-qulnā lahum kūnū qiradatan khāsi’īn.)
“অতঃপর আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।”
সূরা আল-বাকারা (২:৬৫)

এখানে قِرَدَة — qiradah বানর এবং خَاسِئِينَ — khāsi’īn অবমানিত, বিতাড়িত বা অপদস্থ অবস্থাকে নির্দেশ করে।

অন্যত্র একই ঘটনার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ اللَّهِ ۚ مَن لَّعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ
(Qul hal unabbi’ukum bi-sharrin min dhālika mathūbatan ʿindallāh. Man laʿanahullāhu wa ghaḍiba ʿalayhi wa jaʿala minhumul-qiradata wal-khanāzīra wa ʿabadaṭ-ṭāghūt.)
“বল, আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে প্রতিফল হিসেবে এর চেয়েও নিকৃষ্ট অবস্থার কথা জানাব? যাদের উপর আল্লাহর লানত হয়েছে, যাদের উপর তাঁর ক্রোধ হয়েছে এবং যাদের মধ্য থেকে তিনি বানর ও শূকর করেছেন এবং যারা তাগূতের দাসত্ব করেছে।”
সূরা আল-মায়িদা (৫:৬০)

এখানে একটি বিষয় আলাদা করে রাখা জরুরি। কুরআন বানর ও শূকরের উল্লেখ করেছে, কিন্তু আয়াতের প্রতিটি প্রাণীকে স্বতন্ত্র কোনো মানসিক প্রতীকে রূপান্তর করার অনুমতি আয়াত নিজে দেয় না। বরং লানত, ক্রোধ, তাগূতের দাসত্ব ইত্যাদি শব্দের সঙ্গে পুরো বক্তব্যের সম্পর্ক দেখতে হয়।

৭

মৌমাছি: প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মধ্যে ওহী

মৌমাছির ক্ষেত্রে কুরআনের ভাষা সম্পূর্ণ ভিন্ন:

وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ
(Wa awḥā rabbuka ilan-naḥli ani-ttakhidhī minal-jibāli buyūtan wa minash-shajari wa mimmā yaʿrishūn.)
“আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি নির্দেশপ্রবাহ করেছেন: পাহাড়ে ঘর গ্রহণ করো, গাছেও এবং মানুষ যা নির্মাণ করে তাতেও।”
সূরা আন-নাহল (১৬:৬৮)

এখানে أَوْحَىٰ — awḥā এসেছে মূল و ح ي — ও-হা-ইয়া থেকে।

কুরআনে وحي শুধু নবীদের কাছে বার্তা প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। মৌমাছির ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নির্দেশ বা পরিচালনাকে বোঝাচ্ছে যার মাধ্যমে তার স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

পরের আয়াতে বলা হয়েছে:

ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
(Thumma kulī min kullith-thamarāti faslukī subula rabbiki dhululan. Yakhruju min buṭūnihā sharābun mukhtalifun alwānuhu fīhi shifā’un lin-nās. Inna fī dhālika la-āyatan li-qawmin yatafakkarūn.)
“তারপর প্রত্যেক ধরনের ফল থেকে আহার করো এবং তোমার প্রতিপালকের পথসমূহে অনুগতভাবে চল। তার উদর থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় বের হয়, যাতে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে।”
সূরা আন-নাহল (১৬:৬৯)

এখানে মৌমাছির জীবনপ্রণালীকে মানুষের চিন্তার জন্য آيَة — আয়াহ, অর্থাৎ নিদর্শন বলা হয়েছে।

৮

পাখি: শুধু উড্ডয়ন নয়, একটি সুসংগঠিত সৃষ্টিব্যবস্থা

কুরআন পাখিদেরও নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করে:

أَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ ۚ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَٰنُ ۚ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ
(Alam yaraw ilaṭ-ṭayri fawqahum ṣāffātin wa yaqbiḍna. Mā yumsikuhunna illar-Raḥmān. Innahū bikulli shay’in baṣīr.)
“তারা কি তাদের উপরের পাখিদের দিকে তাকায় না, যারা ডানা প্রসারিত করে এবং সংকুচিত করে? পরম করুণাময় ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখে না। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু প্রত্যক্ষকারী।”
সূরা আল-মুলক (৬৭:১৯)

এখানে পাখির উড্ডয়নকে কোনো কল্পিত অধিবিদ্যাগত সত্তার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং দৃশ্যমান প্রাকৃতিক কার্যপ্রণালীকে মানুষের পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার বিষয় করা হয়েছে।

৯

পাখিরাও নিজস্ব সম্প্রদায়

আরও তাৎপর্যপূর্ণ একটি আয়াত:

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُم ۚ مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ
(Wa mā min dābbatin fil-arḍi wa lā ṭā’iriy-yaṭīru bijanāḥayhi illā umamun amthālukum. Mā farraṭnā fil-kitābi min shay’. Thumma ilā rabbihim yuḥsharūn.)
“পৃথিবীতে কোনো চলমান সত্তা নেই এবং কোনো পাখি নেই যে তার দুই ডানা দিয়ে উড়ে, যারা তোমাদের মতো সম্প্রদায় নয়। আমি বিধানে কোনো কিছুই উপেক্ষা করিনি। তারপর তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে সমবেত করা হবে।”
সূরা আল-আন‘আম (৬:৩৮)

এখানে প্রাণীদের أُمَم — উমাম, অর্থাৎ সম্প্রদায় বলা হয়েছে।

অর্থাৎ কুরআনের দৃষ্টিতে প্রাণিজগতকে বিশৃঙ্খল, অর্থহীন বা নিছক মানুষের ব্যবহারযোগ্য বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তাদেরও নিজস্ব ব্যবস্থা, জীবনধারা ও সমষ্টিগত অস্তিত্ব রয়েছে।

১০

প্রাণীদের সিজদা ও মহাবিশ্বের আনুগত্য

কুরআন আরও বলে:

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ
(Alam tara annallāha yasjudu lahū man fis-samāwāti wa man fil-arḍi wash-shamsu wal-qamaru wan-nujūmu wal-jibālu wash-shajaru wad-dawābbu wa kathīrun minan-nās.)
“তুমি কি দেখ না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমালা, পর্বত, বৃক্ষ, চলমান সত্তাসমূহ এবং মানুষের অনেকেই আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয়?”
সূরা আল-হাজ্জ (২২:১৮)

এখানে الدَّوَابّ — দাওয়াব্ব আবার এসেছে। অর্থাৎ প্রাণিজগতকে মহাবিশ্বের বৃহত্তর আনুগত্য ও বিধিবদ্ধতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

১১

প্রাণী কুরআনে মানুষের আয়না

এই আয়াতগুলো একত্রে পড়লে প্রাণীদের উল্লেখের কয়েকটি স্তর স্পষ্ট হয়:

১.

একদিকে دَابَّة — দাব্বাহ পৃথিবীর চলমান জীবনের বিস্তৃত ধারণা প্রকাশ করে।

২.

অন্যদিকে الْأَنْعَام — আন‘আম মানুষের উপলব্ধিহীন অবস্থার সঙ্গে তুলনার উপাদান হয়।

৩.

الْحِمَار — হিমার, অর্থাৎ গাধা, এমন ব্যক্তির উপমা হয় যে জ্ঞান বহন করে কিন্তু সেই জ্ঞানের প্রকৃত দায়িত্ব বহন করে না।

৪.

الْكَلْب — কালব, অর্থাৎ কুকুর, এমন এক অবস্থার উপমায় আসে যেখানে প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং পৃথিবীমুখী আসক্তি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৫.

النَّحْل — নাহল, অর্থাৎ মৌমাছি, আবার প্রাকৃতিক নির্দেশব্যবস্থা, সংগঠিত জীবন ও মানুষের জন্য নিদর্শনের অংশ হয়ে ওঠে।

৬.

الطَّيْر — তায়র, অর্থাৎ পাখি, মানুষের পর্যবেক্ষণের সামনে একটি সুসংগঠিত সৃষ্টিপ্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থিত হয়।

৭.

আর القِرَدَة — কিরাদাহ, অর্থাৎ বানর, এবং الْخَنَازِير — খানাযীর, অর্থাৎ শূকর, নির্দিষ্ট শাস্তিমূলক প্রসঙ্গে এসেছে, যার অর্থ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আয়াতের পূর্ণ প্রসঙ্গকে সামনে রাখা প্রয়োজন।

সুতরাং কুরআনে প্রাণীকে একমাত্রিক প্রতীক হিসেবে পড়া যায় না।

১২

বাহ্যিক প্রাণী এবং মানুষের অন্তর্গত অবস্থা

কুরআনের ভাষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রাণীর উপমাগুলো মানুষের আচরণ, উপলব্ধি, প্রবৃত্তি, জ্ঞান ও নৈতিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত:

কুরআনে প্রাণীর উপমার সাথে মানবচেতনার গভীর সংযুক্তি:
  • ৭:১৭৯-এ সমস্যা: হৃদয় থাকা সত্ত্বেও يَفْقَهُونَ, অর্থাৎ উপলব্ধি না করা।
  • ৮:২২-এ সমস্যা: বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও لَا يَعْقِلُونَ, অর্থাৎ বোধ প্রয়োগ না করা।
  • ২৫:৪৪-এ সমস্যা: শুনতে ও গভীর অভিনিবেশে উপলব্ধি করতে সম্পূর্ণ অপারগ থাকা।
  • ৬২:৫-এ সমস্যা: জ্ঞান বা কিতাবের দায়িত্ব মাথায় বহন করা কিন্তু তার আত্মিক ও চারিত্রিক দায়িত্ব বহন না করা।
  • ৭:১৭৬-এ সমস্যা: পৃথিবীমুখী স্থায়ী মোহগ্রস্ত হয়ে هَوَى, অর্থাৎ অন্ধ প্রবৃত্তির অনুসরণ করা।

এই ধারাবাহিকতায় প্রাণীর উপমা কোনো প্রাণীকে হেয় করার জন্য নয়। বরং মানুষের মধ্যে থাকা এমন প্রবণতাগুলোকে দৃশ্যমান করার জন্য, যেগুলো তাকে তার উপলব্ধির ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

কুরআন তাই প্রাণীকে শুধু বাইরের জগতের অংশ হিসেবে দেখায় না। প্রাণী কখনো নিদর্শন, কখনো উপমা, কখনো সৃষ্টির নিজস্ব সম্প্রদায়, আবার কখনো মানুষের জ্ঞানগত ও নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন।

প্রাণী বাস্তব, উপমাও বাস্তব। কিন্তু উপমার অর্থ প্রাণীর শারীরিক অস্তিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

কুরআনের ভাষায় প্রাণীদের দিকে তাকানো মানে শুধু প্রাণীকে দেখা নয়; তাদের জীবন, চলন, ব্যবস্থা এবং মানুষের সঙ্গে তাদের উপমাগত সম্পর্কের মধ্য দিয়ে একটি বৃহত্তর সৃষ্টিব্যবস্থাকে দেখা।

إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّلْمُؤْمِنِينَ
(Inna fī dhālika la-āyātin lil-mu’minīn.)
“নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।”
সূরা আল-জাসিয়াহ (৪৫:৪)
🌿 উপসংহার ও অন্তর্দৃষ্টি

কুরআনে প্রাণী তাই কেবল জীববৈচিত্র্যের অংশ নয়। আবার প্রতিটি প্রাণীও কোনো গোপন প্রতীকের কোড নয়। কুরআনের নিজস্ব ভাষা অনুসরণ করলে প্রাণী কখনো বাস্তব সৃষ্টি, কখনো নিদর্শন, কখনো উপমা এবং কখনো মানুষের নিজের অবস্থাকে চিনে নেওয়ার একটি অনন্য আয়না হয়ে ওঠে।

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ

এই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গভীর আলোচনা ও কুরআনভিত্তিক অনুসন্ধান

সকল প্রবন্ধ দেখুন

কুরআনের আয়াতে প্রকৃতি, মহাবিশ্ব ও সৃষ্টির নিদর্শন

কুরআন নিজেকে এমন এক কিতাব হিসেবে উপস্থাপন করে যার আয়াত মানুষকে চিন্তা ও পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানায়। উদয়াচল-অস্তাচল, মহাবিশ্ব সঙ্কোচন, লোহা, সমুদ্রের অন্ধকার, জীবজগৎ ও মানবদেহের সূক্ষ্ম বিন্যাসকে বিচ্ছিন্ন তথ্য হিসেবে নয়, বরং ঐশী নিদর্শন ও তাদাব্বুরের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আলম এম.-এর বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

কুরআনের ভাষায় ‘আল্লাহর ঘর’, ‘আল্লাহর চেহারা’, ‘আল্লাহর হাত’: আক্ষরিক অনুবাদ কি সবসময় কুরআনিক অর্থ বহন করে?

কুরআনের বাংলা অনুবাদে ‘আল্লাহর ঘর’, ‘আল্লাহর চেহারা’, ‘আল্লাহর হাত’, ‘আল্লাহর চোখ’ কিংবা ‘আরশে সমাসীন’ পাঠ করে আল্লাহকে দেহধারী বা মানবীয় গুণসম্পন্ন সত্ত্বা মনে করার বিভ্রান্তি তৈরি হয় কেন? ৪:৮২ ফিল্টার, ৪২:১১-এর সেমান্টিক বাউন্ডারি ও ৩:৭-এর মুহকামাত-মুতাশাবিহাত কাঠামোর আলোকে একটি প্রামাণ্য শব্দতাত্ত্বিক ও গভীর পদ্ধতিগত গবেষণা।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

আল্লাহ, নবী ও রাসূল: কুরআনের ভাষায় তিনটি ধারণার সম্পর্ক

কুরআনে আল্লাহ, নবী ও রাসূল শব্দ তিনটি একই প্রসঙ্গে এলেও তাদের কি আলাদা পরিচয় ও কার্যগত তাৎপর্য রয়েছে? মালাইকার রাসূল নির্বাচন, বালাগ ও বয়ান, নবী ও রাসূলের রুট বিশ্লেষণ এবং মানবিক সিদ্ধান্তের কুরআনিক সমন্বয়ের এক গভীর শব্দতাত্ত্বিক পাঠ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

সালাত কি নামায? কুরআনে সালাতের স্বরূপ, দৈহিক প্রকাশ ও অর্থগত অনুসন্ধান

কুরআনে বারবার আসা 'সালাত' (الصلاة) কি শুধুই পরবর্তীকালের রাকাআতভিত্তিক নামায? সূরা হূদ, আল-আহযাব, আন-নূর, আত-তাওবা ও আল-বাকারার আলোকে সালাতের অর্থগত বৈচিত্র্য, আল্লাহর সালাত, সৃষ্টিজগতের সালাত এবং দৈহিক প্রকাশের একটি প্রামাণ্য ও তুলনামূলক পর্যালোচনা।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

শিঙ্গায় ফুঁ, না কি এক মহাজাগতিক রূপান্তরের ঘোষণা?

কুরআনে 'সূরে ফুঁ দেওয়া' বা প্রচলিত অর্থে 'শিঙ্গায় ফুঁ'-কে কেবল বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি হিসেবে নয়, বরং একটি নিখুঁত মহাজাগতিক অবস্থান্তর ও পুনরুত্থানের সামগ্রিক পর্যায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শব্দতত্ত্ব, ধাতুমূল ও কুরআনিক তুলনামূলক পর্যালোচনায় আলম এম.-এর বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন