🟩“আল্লাহ যখন একা ছিলেন” - এই ধারণা কুরআনসম্মত কি?
❌ অনুগ্রহ করে যে যার মতো গবেষণা করবেন। এই লেখাটির কথা চূড়ান্ত ধরে নেবেন না, প্লীজ।
ভূমিকা:
কুরআন নিজেই আল্লাহকে পরিচয় করিয়ে দেয় এমন ভাষায়, যেখানে সময়, অভাব, নির্ভরতা বা একাকিত্বের কোনো স্থান নেই। তবুও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় প্রায়ই শোনা যায় -
“আল্লাহ যখন একা ছিলেন তখন তিনি কি করতেন”
এই বাক্যটি কি নিছক নিরীহ বর্ণনা, নাকি কুরআনের মৌলিক আকীদার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক? এই প্রশ্নের উত্তর কেবল দর্শন নয় - কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্য থেকেই পাওয়া যায়।
1️⃣ আল্লাহ ‘সামাদ’ - কোনো অভাব, প্রয়োজন বা নির্ভরতা নেই
সূরা আল-ইখলাস (১১২:২)
ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ
Core meaning:
আল্লাহ হলেন ‘সামাদ’ - যিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী, সকলের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র, কিন্তু নিজে কারো ওপর নির্ভরশীল নন।
🟦 ‘সামাদ’ শব্দটি আরবি রুট ص-م-د থেকে, যার অর্থ -
▪️যাঁর দিকে সবাই মুখাপেক্ষী
▪️যাঁর নিজের কোনো শূন্যতা বা প্রয়োজন নেই
☄️ একাকিত্ব মানেই অভাব বা সঙ্গের প্রয়োজন
☄️ আর ‘সামাদ’ মানেই সব ধরনের অভাবের অস্বীকৃতি
অতএব “আল্লাহ যখন একা ছিলেন তখন তিনি কি করতেন” বলা মানে অজান্তেই তাঁর মধ্যে অভাব কল্পনা করা।
2️⃣ আল্লাহ সময়ের ভেতরে নন
সূরা আল-হাদীদ (৫৭:৩)
هُوَ ٱلْأَوَّلُ وَٱلْآخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلْبَاطِنُ
Core meaning:
তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি প্রকাশ্য, তিনি অপ্রকাশ্য।
▪️ এখানে ‘প্রথম’ মানে সময়ের শুরুতে থাকা নয়
▪️ বরং সময় নিজেই যার দ্বারা অস্তিত্ব পায়
☄️ “যখন” শব্দটি সময়ের ভেতরের একটি অবস্থা
☄️ আল্লাহ সময়ের ভেতরে নন, বরং সময় তাঁর সৃষ্ট বাস্তবতা
অতএব “যখন আল্লাহ একা ছিলেন” বলা মানে আল্লাহকে সময়ের অধীন বানানো।
3️⃣ আল্লাহর সঙ্গে কোনো অবস্থার পরিবর্তন হয় না
সূরা ক্বাফ (৫০:১৬)
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ ٱلْوَرِيدِ
Core meaning:
আমি মানুষের নিকটতম - তার গলার শিরার চেয়েও নিকট।
☄️ এখানে ‘নিকট’ কোনো স্থানগত বা সময়গত পরিবর্তন নয় বরং অস্তিত্বগত সম্পর্ক
যদি আল্লাহ কখনো ‘একা’ ছিলেন আর পরে ‘সঙ্গে সৃষ্টি এল’ -
তাহলে তাঁর অবস্থার পরিবর্তন মানতে হয়, যা কুরআনের আল্লাহ-ধারণার সরাসরি বিরোধী।
4️⃣ আল্লাহ সৃষ্টি দ্বারা পূর্ণ হন না
সূরা ফাতির (৩৫:১৫)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلْفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِ ۖ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ
Core meaning:
হে মানুষ, তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তো স্বয়ং পরিপূর্ণ ও প্রশংসিত।
▪️ সৃষ্টি আল্লাহর অভাব পূরণ করে না
▪️ সৃষ্টি না থাকলেও আল্লাহ ‘পরিপূর্ণ’
তাই “একা ছিলেন” বলে এমন ভাব তৈরি করা -
যেন সৃষ্টি এসে আল্লাহর একাকিত্ব দূর করলো -
এটা কুরআনিক নয়।
5️⃣ কুরআন গোপন করা মানেই বড় বিপর্যয়
সূরা আল-বাকারা (২:৪২)
وَلَا تَلْبِسُوا۟ ٱلْحَقَّ بِٱلْبَٰطِلِ وَتَكْتُمُوا۟ ٱلْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
Core meaning:
সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিও না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন কোরো না।
যারা জানে আল্লাহ ‘সামাদ’,
তবুও লোকমুখে প্রচলিত গল্প বা দার্শনিক বাক্য চালু রাখে -
তারা কুরআনের সত্যকে আড়াল করে।
6️⃣ কুরআনের সিদ্ধান্ত
কুরআনের আলোকে বলা যায়:
▪️আল্লাহ কখনো ‘একা ছিলেন’ না
▪️আল্লাহ কখনো ‘সঙ্গে পাওয়ার অপেক্ষায়’ ছিলেন না
▪️আল্লাহ সময়, স্থান ও অবস্থার ঊর্ধ্বে
▪️‘একাকিত্ব’ মানুষের অনুভূতি, আল্লাহর গুণ নয়
অতএব “আল্লাহ যখন একা ছিলেন” -
এই বাক্যটি কুরআনের ভাষা নয়, কুরআনের চিন্তাও নয়।
🟦 উপসংহার:
কুরআন আল্লাহকে এমন সত্তা হিসেবে তুলে ধরে -
▪️যিনি কখনো কম ছিলেন না,
▪️কখনো অপেক্ষায় ছিলেন না,
▪️কখনো একা হয়ে পূর্ণতার খোঁজে ছিলেন না।
যে আল্লাহ সামাদ,
তাঁর সম্পর্কে “একাকিত্বের সময়” কল্পনা করা কেবল অজ্ঞতা নয় - এটা কুরআনের আল্লাহ-পরিচয়কে আড়াল করা।
☄️কুরআন যেখানে নীরব, সেখানে আমাদের নীরব থাকা উচিত। আর কুরআন যেখানে স্পষ্ট, সেখানে দার্শনিক কল্পনা নয় - কুরআনই শেষ কথা।

