কুরআনের উদ্দেশ্যমূলক অনুবাদ!

আলম এম.আলম এম.২৮ আগস্ট, ২০২৬

এটা আমার নিজস্ব লেখা। ধার করা লেখা নয়। তাই কারো যদি কোথাও আপত্তি থাকে তা কমেন্টে জানাতে বিনীত অনুরোধ করছি। দয়া করে অনর্থক তথা ভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশ্ন ছুড়ে না দিয়ে তথ্য সহকারে কমেন্ট করবেন। বাজে কমেন্ট না করবার জন্য ধন্যবাদ।

বন্ধুদের সাথে কুরআনের আয়াত নিয়ে প্রতিনিয়ত কথা হয়ে থেকে। একসময় আমার এক বন্ধু সূরা আত-তওবাহ (৯), এর ২৯ নম্বর আয়াত অর্থসহ শেয়ার করেন, যা নিম্নে পেশ করলাম।
"যাহাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনে না, শেষদিনেও নয় এবং আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দীন অনুসরণ করে না, তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না তাহারা নত হইয়া স্বহস্তে জিযিয়া দেয়।"
قَاتِلُوا الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَلَا يُحَرِّمُوْنَ مَا حَرَّمَ اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗ وَلَا يَدِيْنُوْنَ دِيْنَ الْحَـقِّ مِنَ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْـكِتٰبَ حَتّٰى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَّدٍ وَّهُمْ صٰغِرُوْنَ
এখানে একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয় যে একটা জায়গায় অর্থ করা হয়েছে, "আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হারাম গণ্য করে না..." - অর্থাৎ আল্লাহর সাথে সাথে আমাদের রাসুলও কোনো কিছু হারাম গণ্য করতে পারেন। অথচ আমরা জানি যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ বিধান দিতে পারেন না। আমি মহা চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমি বিবিধ অনুবাদ খুঁজতে লাগলাম। প্রায় সমস্ত বাংলা ও ইংরেজী অনুবাদে মিল রয়েছে। নিম্নে সেসব অনুবাদ উপস্থাপন করলাম।
তোমরা লড়াই কর আহলে কিতাবের সে সব লোকের সাথে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না, আর সত্য দীন গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তারা স্বহস্তে নত হয়ে জিয্য়া দেয়। (আল-বায়ান)
যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, আর শেষ দিনের প্রতিও না, আর আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করেছেন তাকে হারাম গণ্য করে না, আর সত্য দ্বীনকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে না তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না তারা বশ্যতা সহকারে স্বেচ্ছায় ট্যাক্স দেয়। (তাইসিরুল)
যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং কিয়ামাত দিনের প্রতিও না, আর ঐ বস্তুগুলিকে হারাম মনে করেনা যেগুলিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম বলেছেন, আর সত্য ধর্ম (অর্থাৎ ইসলাম) গ্রহণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাক যে পর্যন্ত না তারা অধীনতা স্বীকার করে প্রজা রূপে জিযিয়া দিতে স্বীকার করে। (মুজিবুর রহমান)
Fight those who do not believe in Allah or in the Last Day and who do not consider unlawful what Allah and His Messenger have made unlawful and who do not adopt the religion of truth from those who were given the Scripture - [fight] until they give the jizyah willingly while they are humbled. (Sahih International)
সকল অনুবাদে বলা হয়েছে, "আল্লাহ ও তার রাসুল, Allah and His Messenger"। আমরা সাধারন মানুষ আর কতোটুকুই বা আর জানি। আমরা তাদের কথা (অনুবাদ) মেনে নেই। আর মেনে নিয়ে ভুল পথে হাটি।
আমার কাছে মনে হলো, এটা হতেই পারে না। পুরো কুরআন জুড়ে আল্লাহর কথায় কোন অমিলের প্রশ্নই ওঠে না। আমি আরো খুঁজতে থাকলাম। অবশেষে আল্লাহ আমাকে উত্তর মিলিয়ে দিয়েছেন Marmaduke Pickthall এর অনুবাদের মাধ্যমে। Prof. Yousuf Ali এর অনুবাদ এবং Marmaduke Pickthall এর অনুবাদে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ইংরেজি অনুবাদটি নিম্নে দিলাম।
(9:29) Fight against such of those who have been given the Scripture as believe not in Allah nor the Last Day, and forbid not that which Allah hath forbidden by His messenger, and follow not the religion of truth, until they pay the tribute readily, being brought low.
এখানে দেখা যাচ্ছে, অনুবাদে বলা হয়েছে "Allah hath forbidden by His messenger" অর্থাৎ by His messenger
and এবং by এক হতে পারে কি?
যাই হোক, বাংলা অনুবাদ যেমন হওয়া উচিত ছিলোঃ
"যাহাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনে না, শেষদিনেও নয় এবং আল্লাহ্ তাঁর রাসুলের মাধ্যমে যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দীন অনুসরণ করে না, তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না তাহারা নত হইয়া স্বহস্তে জিযিয়া দেয়।"
শুধু কয়েকজনের অনুবাদ, তফসিরের ওপর নির্ভর না করে সন্দেহ হলে আমাদের উচিত হবে অনেকের অনুবাদ, তফসির ঘেটে দেখা। আর যদি তা না করি তবে আমদের ভুল হবার সম্ভাবনা থেকেই যাবে। কুরআনের ভুল অনুবাদ, তফসিরের সাহায্যে আমাদের বিপথে চালিতে করতে হয়তো অনেকেই কাজ করে যাচ্ছেন।
পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ

এই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গভীর আলোচনা ও কুরআনভিত্তিক অনুসন্ধান

সকল প্রবন্ধ দেখুন

একীভূত সার্বভৌম ম্যাট্রিক্স

প্রচলিত লোকজ ধারণার বাইরে গিয়ে আরবির মূল শব্দার্থ ও তাওহীদের একক সার্বভৌমত্বের আলোকে মালাইকা (নির্বাহী আইন), ওহী (প্রশাসনিক কোড) এবং রুহ (লাইভ এক্সিকিউটিভ কমান্ড)-এর পুনর্মূল্যায়ন ও সূরা নিসার ৪:৮২ ফিল্টারে মহাজাগতিক বিচারবিজ্ঞানের অনন্য বিশ্লেষণ। লেখক: আলম এম.।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঐশ্বরিক শিক্ষা ও অক্ষরজ্ঞান

রাসূলুল্লাহ (সা.) কি নিরক্ষর ছিলেন? ‘বলো’ (কুল) বনাম ‘পড়ো’ (ইকরা)-এর মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্য, জিবরাঈল (আল্লাহর রূপান্তরকারী শক্তি) ও কলমের শিক্ষা, ‘উম্মী’ শব্দের মূল ধাতু এবং নবুয়ত-পূর্ব বনাম নবুয়ত-পরবর্তী অবস্থার গভীর কুরআনিক ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

লওহে মাহফুজ

সূরা আন-নিসার ৮২ নম্বর আয়াতের কষ্টিপাথরে লওহে মাহফুজ সংক্রান্ত আয়াতসমূহের দ্বন্দ্বহীন পাঠ, মূল শব্দসমূহের (লওহ, মাহফুজ, কিতাব, নাবরাআহা) আরবী রুট বিশ্লেষণ এবং লওহে মাহফুজ (মহাজাগতিক নিয়ম ও ওহী) বনাম আমলনামার (ব্যক্তিগত কর্মের খাতা) মৌলিক পার্থক্য।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

ঐশ্বরিক আলোর উপমা-রহস্য: সূরা আন-নূর, আয়াত ৩৫

সূরা আন-নূরের ৩৫ নম্বর আয়াত ('আয়াহ আল-নূর')-এর প্রচলিত আক্ষরিক, দেহতাত্ত্বিক-মরমী ও কোয়ান্টাম বৈজ্ঞানিক অনুবাদ, সূরা আত-তীন (৯৫:১) ও আহসানি তাকউইমের সংযোগ, ৫টি মূল শব্দের আরবী রুট বিশ্লেষণ এবং আলোর সর্বব্যাপী উপস্থিতি বনাম গতির দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

কুরআনের আয়াত ৫:৬ - অজু কি কেবল শারীরিক, নাকি একটি সমন্বিত পরিশুদ্ধি?

সূরা আল-মায়েদা ৫:৬ আয়াতের ভাষাগত গঠন, শর্তীয় কাঠামো এবং শব্দমূল (Root) বিশ্লেষণ—যেখানে ওয়াজহ, আইদী, রুউস, আরজুল, জুনুব, সাফার, নিসা, মা এবং তায়াম্মুমের মাধ্যমে ব্যক্তি, নেতৃত্ব, দল ও মানসিক অবস্থার সমন্বিত পরিশুদ্ধি ব্যবস্থা উন্মোচিত হয়েছে।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন