আমি চোর, ভেজালকারী, প্রতারক, অথচ চাই দেশ চালাক মালাইকা

আলম এম.আলম এম.২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
“আমি একজন চোর।
আমি খাবারে ভেজাল দিই।
নকল ওষুধ তৈরি করে অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিই।
ওজনে কম দিই।
মিথ্যা বলি, প্রতারণা করি, মানুষের হক নষ্ট করি।
তারপরও আমি চাই, আমার দেশটা এমন হোক যেখানে দুর্নীতি নেই, অন্যায় নেই, প্রতারণা নেই। আমি চাই দেশ পরিচালনা করুক মালাইকা।”

কিন্তু এই নির্মম প্রশ্নটা কি কখনো নিজেকে করেছি?

মৌলিক প্রশ্ন ০১

যে সমাজের মানুষ নিজেরা প্রতিটি পদে অন্যায় সৃষ্টি করে, সেই সমাজের জন্য আকাশ থেকে কি আলাদা কোনো জাতের শাসক এসে রাতারাতি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে দেবে?

জৈবিক প্রশ্ন ০২

আমার জীন (gene) থেকে কি কখনো কোনো মালাক বা ফেরেশতা পয়দা হতে পারে?

কুরআনের সার্বিক বক্তব্যের আলোকে এই প্রশ্নগুলোকে কোনো রাজনৈতিক আবেগ দিয়ে নয়, বরং গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়।

১. মানুষ কেমন ব্যবস্থা তৈরি করে?

আদমকে পৃথিবীতে স্থাপন করার প্রসঙ্গে কুরআনে একটি গভীর ও চিন্তাশীল সংলাপ এসেছে:

📖 সূরা আল-বাকারাহ (২:৩০) খলিফাহ ও ফাসাদ

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ

Wa-idh qāla rabbuka lil-malā’ikati innī jā‘ilun fīl-arḍi khalīfah. Qālū ataj‘alu fīhā man yufsidu fīhā wa-yasfiku d-dimā’...
“আর যখন তোমার প্রতিপালক মালাইকার প্রতি বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি (খলিফাহ) স্থাপন করতে যাচ্ছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে স্থাপন করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে...’”
খ-লা-ফা (خ ل ف) خَلِيفَةً

পরবর্তী হওয়া, স্থলাভিষিক্ত হওয়া, ঐশী আমানত ও দায়িত্বভার স্বাধীন ইচ্ছার মাধ্যমে গ্রহণ করা।

ফা-সীন-দাল (ف س د) يُفْسِدُ

ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করা, কোনো সুস্থ ব্যবস্থার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা, বিনষ্ট ও কলুষিত করা।

অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে একটি নির্মম সম্ভাবনা প্রথম থেকেই পরিষ্কার: মানুষ পৃথিবীকে সুগঠিতও করতে পারে, আবার নিজের লোভ ও স্বেচ্ছাচারিতায় বিনষ্টও করতে পারে।

২. আজকের চোর কি কাল মালাইকা চাইতে পারে?

অবশ্যই চাইতে পারে। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে: নিজের আচরণ পরিবর্তন না করে কেবল শাসকের পরিবর্তন চাইলে কি সমাজের মূল সমস্যার সমাধান হয়?

⚖️

বাজারে ওজনে কম

দোকানদার থেকে আড়তদার—প্রতিটি কেজিতে গ্রাহককে ঠকানো

🧪

খাবারে বিষাক্ত ভেজাল

দুধে কেমিক্যাল, ফলে ফরমালিন, মাছে বিষাক্ত রং

💊

নকল ওষুধের বাণিজ্য

মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর অসহায়ত্ব নিয়ে মুনাফা লোটা

💼

ঘুষ ও ফাইল আটকে রাখা

টেবিলের নিচে হাত পাতা, অন্যায়কে 'ব্যবসার বুদ্ধি' বলা

তারপর আমরা সবাই মিলে রাজপথে বা চায়ের টেবিলে সমস্বরে বলি: “দেশটা ঠিক করে দাও!”
তাহলে প্রশ্নটা হবে: দেশটা কে নষ্ট করছে? শুধু সিংহাসনে বসা এক ব্যক্তি? নাকি বাজারের প্রতিটি স্তরে, অফিসের প্রতিটি ফাইলে, ব্যবসার প্রতিটি লেনদেনে, ব্যক্তি ও পরিবারের প্রতিটি স্তরে আমাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডই এই নষ্ট ব্যবস্থাকে জন্ম দিচ্ছে?

৩. সূরা আর-রূম ৩০:৪১ — মানুষের হাতের অর্জন

কুরআন বিষয়টি কোনো ধোঁয়াশায় রাখেনি; অত্যন্ত নির্মম সত্যে উন্মোচিত করেছে:

📖 সূরা আর-রূম (৩০:৪১) মানুষের হাতের অর্জন

ظَهَرَ ٱلْفَسَادُ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ ٱلَّذِى عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

Ẓahara al-fasādu fīl-barri wal-baḥri bimā kasabat aydin-nāsi liyudhīqahum ba‘ḍa alladhī ‘amilū la‘allahum yarji‘ūn.
“স্থল ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে মানুষের হাত যা অর্জন করেছে তার কারণে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কিছু কর্মের পরিণতি আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে।”
⚡

কুরআনিক রাজনৈতিক সূত্র:

কুরআন সামাজিক অবক্ষয় ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সংকটকে কেবল একজন দূরবর্তী শাসকের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্তি দেয়নি। بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ—মানুষের হাত যা অর্জন করে, সমাজের প্রতিটি স্তরের যৌথ কর্মই তার সামষ্টিক পরিণতি তৈরি করে।

৪. তাহলে মালাইকা কি দেশ চালাবে?

এখানে আরেকটি রাজনৈতিক রূপকথা পরিষ্কার হওয়া দরকার। কোনো রাষ্ট্রে নাগরিকরা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রতারক হয়ে জীবনযাপন করবে, আর তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য আকাশ থেকে “মালাইকা” বা ফেরেশতা নেমে এসে দেশ চালাবে—কুরআন এমন কোনো রাজনৈতিক কল্পনা শেখায় না।

📖 সূরা আন-নাহল (১৬:৪৯) মালাইকার বিনম্র আনুগত্য

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مِن دَآبَّةٍ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ

Wa lillāhi yasjudu mā fī as-samāwāti wa mā fīl-arḍi min dābbatin wal-malā’ikatu wa hum lā yastakbirūn.
“আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যে সকল চলমান সৃষ্টিই আছে, তারা এবং মালাইকা আল্লাহর জন্য সিজদাবনত হয়; আর তারা অহংকার করে না।”

মালাইকা আল্লাহর মহাজাগতিক বিধানের এক নিখুঁত ও অহংকারহীন বাস্তবায়নকারী শক্তি। মানুষের সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব স্বয়ং মানুষের ওপর—খলিফাহ হিসেবে তার স্বাধীন সদিচ্ছা ও নৈতিক আমানতের ওপর অর্পিত।

৫. আমার জীন কি কখনো মালাক তৈরি করতে পারে?

যদি জীন (gene) বলতে জীববিজ্ঞানের জিন বোঝানো হয়, তবে উত্তর দ্ব্যর্থহীন: না। মানুষের ক্রোমোজোম থেকে মানুষই জন্ম নেয়, মালাইকা নয়।
কিন্তু এই প্রশ্নের ভেতর একটি তীব্র রূপক সত্য লুকিয়ে আছে:

⚠️ কর্মের বিষাক্ত উত্তরাধিকার

  • সন্তান দেখে বাবা ওজনে কম দেওয়াকে 'ব্যবসার লাভ' বলে।
  • পরিবারে শেখানো হয় ঘুষ দেওয়া ছাড়া চাকরি অসম্ভব।
  • নকল পণ্য বেঁচে বড়লোক হওয়াকে 'সাফল্য' বলে হাততালি দেওয়া হয়।
  • অন্যের হক মেরে খাওয়ায় কোনো লজ্জা বা অনুশোচনা থাকে না।

🌱 এর অনিবার্য সামাজিক ফসল

আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কোষে কোনো মালাইকাসুলভ চরিত্র ঢেলে দিচ্ছি না। আমরা তাদের ভেতরে রোপণ করছি আমাদের নিজের অপরাধ ও প্রতারণার নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। কাল যখন এই প্রজন্ম বড় হয়ে পুলিশ, আমলা, বিচারক, ডাক্তার বা মন্ত্রী হবে—তারা ঠিক সেই সমাজটাই উপহার দেবে যা তারা ঘরে ও বাজারে শিখে বড় হয়েছে।

৬. মানুষ যেমন, তার তৈরি ব্যবস্থাও তেমন

কুরআনের চিরন্তন অপরিবর্তনীয় সমাজবিজ্ঞান ঘোষণা করে:

📖 সূরা আল-আনফাল (৮:৫৩) অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের শর্ত

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِّعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَىٰ قَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا۟ مَا بِأَنفُسِهِمْ

Dhālika bi-anna Allāha lam yaku mughayyiran ni‘matan an‘amahā ‘alā qawmin ḥattā yughayyirū mā bi-anfusihim.
“এটি এজন্য যে, আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের ওপর যে অনুগ্রহ প্রদান করেছেন, তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে যা আছে তা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত তিনি তা পরিবর্তনকারী নন।”

শব্দটি খেয়াল করুন: حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ—যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভেতরের অবস্থাকে পরিবর্তিত করে। পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক স্লোগান বা নতুন কোনো দলীয় ব্যানার নয়; ভেতরের নৈতিক মানুষটির রূপান্তরই রাষ্ট্র ও সমাজের রূপান্তরের সূচনাপত্র।

৭. আমার চাওয়া আর আমার কাজের দ্বিমুখী বিভাজন

কুরআন এই তীব্র দ্বিমুখী কপটতাকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে:

📖 সূরা আস-সাফ (৬১:২-৩) কথা ও কাজের বৈপরীত্য

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ۝ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُوا۟ مَا لَا تَفْعَلُونَ

Yā ayyuhā alladhīna āmanū lima taqūlūna mā lā taf‘alūn. Kabura maqtan ‘inda Allāhi an taqūlū mā lā taf‘alūn.
“হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা যা করো না তা কেন বলো? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ক্রোধোদ্দীপক ও গর্হিত।”

আমাদের সামষ্টিক দ্বিমুখী চরিত্রের ব্যবচ্ছেদ

আমার প্রত্যাশা (মুখের কথা)
আমার বাস্তবতা (হাতের কাজ)
আমি চাই দেশে ১০০% সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।
কিন্তু নিজে দুর্বল বা কর্মচারীর ন্যায্য পাওনা আটকে রাখি।
আমি চাই বাজারে খাঁটি ও বিশুদ্ধ খাবার থাকুক।
কিন্তু আমি নিজে সবজিতে কেমিক্যাল বা মাছে বিষ মিশাই।
আমি চাই উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা।
কিন্তু আমি নকল অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করে বাড়ি-গাড়ি বানাই।
আমি চাই দুর্নীতিমুক্ত সরকারি প্রশাসন।
কিন্তু নিজের কাজটা আগে করাতে গিয়ে টেবিলে ঘুষের খাম এগিয়ে দিই।
আমি চাই প্রতারণাহীন সৎ এক মানবিক সমাজ।
কিন্তু নিজের ধান্দাবাজি ও ফাঁকিবাজিকে বলি ‘ব্যবসার বুদ্ধি’।

৮. দেশ বদলানোর আগে “মানুষ” কে বদলাবে?

দেশ কোনো বিমূর্ত কল্পনা নয়। দেশ মানে মানুষ। বাজার মানে মানুষ। প্রশাসন মানে মানুষ। ব্যবসা মানে মানুষ। আইন প্রয়োগও করে মানুষ, আবার ঘুষ খেয়ে আইন ভাঙেও মানুষ।

📖 সূরা আত-তূর (৫২:২১) অর্জিত কর্মের দায়বদ্ধতা

كُلُّ ٱمْرِئٍۭ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ

Kullu imri'in bimā kasaba rahīn.
“প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জিত কর্মের কাছে দায়বদ্ধ ও আবদ্ধ।”
শব্দমূল ব্যবচ্ছেদ ر ه ن

رَهِين (রাহীন) এসেছে রা-হা-নুন (ر ه ن) মূল থেকে। এর মূল অর্থক্ষেত্রে রয়েছে: বন্ধক থাকা, কোনো কিছুর শর্তে আটকে থাকা, দায়বদ্ধ থাকা। অর্থাৎ নিজের কর্মের ফল থেকে মানুষ কোনোভাবেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।

৯. তাই প্রশ্নটা বদলে ফেলি — নিজের দিকে তাকাও

“দেশ কেন ভালো হচ্ছে না?”—এই অলস বিলাপ বন্ধ করে আসুন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ৬টি প্রশ্ন করি:

১

আমি কি দোকানে বা ব্যবসায় পরিমাপে শতভাগ সঠিক ওজন দিই?

২

আমি কি খাবারে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল না মিশিয়ে পণ্য বিক্রি করি?

৩

আমি কি নকল ও নিম্নমানের পণ্যকে আসল বলে গ্রাহকের হাতে তুলে দিই না?

৪

আমি কি মানুষের রোগ ও অসহায়ত্বকে গলাকাটা মুনাফার হাতিয়ার বানাই না?

৫

আমি কি কারও ন্যায্য পাওনা ও আমানত পুরোপুরি ফিরিয়ে দিই?

৬

আমি কি নিজের সুবিধার জন্য ট্রাফিক বা নাগরিক নিয়ম ভাঙা বন্ধ করেছি?

যদি উত্তর “না” হয়, তাহলে শুধু শাসকের পরিবর্তন চেয়ে কী লাভ? কারণ যে মানুষটি আজ নিজের ছোট দোকানে বসে ৫ টাকার ভেজাল দেয়, সে কাল রাষ্ট্রক্ষমতায় বসলে ৫ হাজার কোটির দুর্নীতি করার সুযোগ খুঁজবে। আর যে মানুষটি নিজের ছোট কাজেও অবিচল সততা রক্ষা করে, সে যেকোনো অবস্থানেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।

চূড়ান্ত সত্য ও সমাধান

শেষ প্রশ্ন

“আমি যে ন্যায়ভিত্তিক দেশের স্বপ্ন দেখি, সেই দেশের প্রথম নাগরিক হিসেবে আমার নিজের আচরণই তার প্রথম পরীক্ষা।”

মালাইকা আমার জীন থেকে জন্মাবে কি না, কুরআন এমন কোনো রূপকথা বলে না। কিন্তু আমার কর্মের ধারাবাহিকতা যে আমার পরবর্তী প্রজন্ম ও সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গ্রাস করবে—এ বিষয়ে কুরআনের ঘোষণা অকাট্য:

ظَهَرَ ٱلْفَسَادُ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى ٱلنَّاسِ

“স্থল ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে মানুষের হাত যা অর্জন করেছে তার কারণে।” (৩০:৪১)

অতএব দেশকে বদলানোর পূর্বে শুধু সিংহাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে একবার নিজের হাতের দিকে তাকান।

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ

এই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গভীর আলোচনা ও কুরআনভিত্তিক অনুসন্ধান

সকল প্রবন্ধ দেখুন

ঐক্য, বিভক্তি ও মুসলিম উম্মাহ: সূরা আলে-ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতের আলোকে একটি পর্যালোচনা

ইসলামের মূল বাণী তাওহীদ ও উম্মাহর ঐক্য সত্ত্বেও কেন মুসলিম বিশ্ব সুন্নি ও শিয়া ধারায় বিভক্ত হলো? সূরা আলে-ইমরান ৩:১০৩-এর শব্দভিত্তিক রুট অ্যানালাইসিস (اعْتَصِمُوا, حَبْلِ, تَفَرَّقُوا), সাকীফাহ, সিফফিনের যুদ্ধ, কারবালার ট্র্যাজেডি এবং আধুনিক উপদলীয় কাঠামোর গভীর ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও কুরআনিক পর্যালোচনা। আলম এম.-এর বিশ্লেষণ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

দরুদ ও সালাত: ৪:৮২ আয়াতের কষ্টিপাথরে 'মালাইকা' শব্দের তাত্ত্বিক পুনর্মূল্যায়ন

সূরা আন-নিসার ৪:৮২ আয়াতের কষ্টিপাথরে সালাত (صَلَاة), ইউসাল্লু (يُصَلِّي) এবং মালাইকা (مَلَائِكَة) শব্দের আরবী শব্দমূলভিত্তিক গভীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪৩ ও ৩৩:৫৬-এর তুলনামূলক পাঠ, অনারবী ফার্সি 'দরুদ' ধারণার উৎস এবং কুরআনিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বরূপ নিয়ে আলম এম.-এর মৌলিক গবেষণা।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

মহাজাগতিক নির্বাহী শক্তি ও ঐশ্বরিক বার্তা: আরবী শব্দমূলের আলোয় 'মালাক' ও 'মালাইকা'

'মালাক' ও 'মালাইকা' শব্দের প্রচলিত অনুবাদ 'ফেরেশতা' বা ডানাওয়ালা অদৃশ্য স্বর্গীয় জীব হলেও আরবী শব্দমূল (أ-ل-ك ও م-ل-ك) প্রমাণ করে এরা মহাবিশ্বের নির্বাহী চালিকাশক্তি ও ঐশ্বরিক বার্তাবাহক। সূরা ফাতির ৩৫:১, আল-বাকারা ২:৩৪ ও আন-নাহল ১৬:২-এর শব্দার্থতাত্ত্বিক ও তুলনামূলক গবেষণা।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

অন্তরালবর্তী প্রবৃত্তি ও নেতিবাচকতার রূপক: ৪:৮২ আয়াতের কষ্টিপাথরে 'মালাইকা', 'জ্বিন', 'ইবলিস' ও 'শয়তান'-এর পুনর্মূল্যায়ন

সূরা আন-নিসা ৪:৮২-এর অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতার কষ্টিপাথরে 'মালাইকা', 'জ্বিন', 'ইবলিস' ও 'শয়তান'-এর গভীর ভাষাতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্মূল্যায়ন। 'মিন নার' (অস্থির আগুন) বনাম 'মিন ত্বীন' (স্থির মাটি) এবং সূরা আল-বাকারা ২:৩৪-এর নিখুঁত সমন্বিত ব্যাখ্যা। আলম এম.-এর বিশেষ গবেষণামূলক নিবন্ধ।

কুরআনিক
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন

জ্বীণ, ইবলিস, শয়তান, মালাইকা — রূপকথার ফ্যান্টাসি?

রূপকথার দানব-পরী বনাম ধ্রুপদী আরবির রুট ও ৪:৮২ ফিল্টার: অদৃশ্য প্লাজমা/অবচেতন (ج-ن-ন), ইগো-লক (ب-ল-স), ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার (শ-ত-ন) ও মহাজাগতিক কার্যনির্বাহী শক্তি (ম-ল-ক)।

গবেষণা
~৩ মিনিট পাঠ
পড়ুন