রমজান মাস নির্ধারণ: বর্তমান হিজরি ক্যালেন্ডার কি সাহাবি যুগের মতোই?আমরা আজকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা সত্য অন্বেষণকারী মুসলমানদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিষয়টি হলো: আমরা বর্তমানে যে হিজরি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি, তা কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়কার ক্যালেন্ডারের মতোই? আমরা দেখাব কীভাবে আরবি চান্দ্র মাসগুলো ঋতুর সাথে সংযুক্ত ছিল এবং সেগুলো বর্তমানের মতো ঋতু জুড়ে স্থানান্তরিত হতো না। আপনি দেখতে পাবেন যে রমজান মাস বছরের সবচেয়ে মধ্যপন্থী সময়ে আসত, যখন দিন খুব দীর্ঘ বা খুব সংক্ষিপ্ত হতো না এবং আবহাওয়া উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে উভয় ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা থাকত না।
আসুন প্রথমে কিছু প্রশ্ন দিয়ে আমাদের চিন্তাকে উদ্দীপ্ত করি:
১. কেন শুধুমাত্র হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডারটিই সকল চান্দ্র মাস ব্যবহারকারী ক্যালেন্ডারের মধ্যে একমাত্র যেখানে মাসগুলো ঋতু জুড়ে স্থানান্তরিত হয়? মুসলিম ও আরবরাই একমাত্র চান্দ্র মাস ব্যবহারকারী জাতি ছিল না; হিব্রু, চীনা এবং অন্যান্য সভ্যতারাও এটি ব্যবহার করত। কিন্তু শুধুমাত্র আমাদের ক্যালেন্ডারের মাসগুলোই প্রতিবছর ১১ দিন পিছিয়ে যায় বলে ঋতু পরিবর্তন হয়।
২. কেন আমরা মুসলিমরা আমাদের ক্যালেন্ডারটি রমজান বা ঈদের সময় জানা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবহারিক কাজে ব্যবহার করতে পারি না?
৩. অনেক মুসলিম রমজানে প্রায় ২০ ঘন্টা রোজা রাখেন বা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় রোজা রাখেন। এই কষ্ট কি কুরআনের সেই আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে বলা হয়েছে, "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং কঠিন চান না"? মনে রাখবেন, এই আয়াতটি রোজার আয়াতের সঙ্গেই সংযুক্ত।
৪. চরম তাপমাত্রায় রোজা রাখার ফলে অনেক মুসলিমের কিডনিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী "রোজা রাখ, সুস্থ থাক" -এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
৫. উত্তর গোলার্ধে যখন রমজান গ্রীষ্মে আসে, তখন কেউ ২০ ঘন্টা রোজা রাখেন, আবার দক্ষিণ গোলার্ধে কেউ মাত্র ৮ ঘন্টা রোজা রাখেন। এটি কি ন্যায়সঙ্গত? উত্তরে কেউ বলতে পারেন যে ৩২ বছরের চক্রে এটি পরিবর্তিত হবে, কিন্তু এটি অনেকের জন্য জীবনের একটি বড় সময়।
সমস্যা ও ক্যালেন্ডার সংশোধনের ধারণা:
আমাদের বর্তমান হিজরি ক্যালেন্ডারে একটি সমস্যা রয়েছে। আমরা মনে করি এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়কার ক্যালেন্ডার, কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত, যাকে বলা হয় লিপ মাস বা অধিমাস। প্রমাণ থেকে জানা যায় যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে চান্দ্র মাসগুলো ঋতু জুড়ে স্থানান্তরিত হতো না। অধিকাংশ মাসের নামই ছিল ঋতুভিত্তিক।
সকল ক্যালেন্ডারেই, সৌর বা চান্দ্র যাই হোক না কেন, একটি সংশোধনের প্রয়োজন হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে, একটি বছর ৩৬৫ দিনে গণনা করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রকৃতপক্ষে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা (প্রায়)। এই ৬ ঘন্টা হলো একটি দিনের ভগ্নাংশ। এই ভগ্নাংশ উপেক্ষা করলে ৪ বছরে তা ২৪ ঘন্টায় দাঁড়ায়, এবং ১২০ বছরে ৩০ দিনে পরিণত হয়। ফলে মাসগুলো পিছিয়ে যেতে থাকে এবং ঋতু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর সমাধানেই আমরা প্রতি ৪ বছর পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি দিন যোগ করি (লিপ ইয়ার)।
অপরদিকে, চান্দ্র মাস ব্যবহার করলেও ভগ্নাংশের সমস্যা থেকে যায়। ১২টি চান্দ্র মাসের সময়কাল সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। এই ১১ দিনও একটি ভগ্নাংশ। আরবরা কীভাবে তাদের চান্দ্র মাসগুলোকে ঋতুর সাথে সংযুক্ত রাখত? তারা প্রতি ৩২ মাস পর পর একটি লিপ মাস (অধিমাস) যোগ করত। এই ১১ দিনের ভগ্নাংশগুলো যখন এক পূর্ণ মাসে পরিণত হতো, তখন তারা সেই মাসটি ক্যালেন্ডারে যোগ করত, ফলে মাসগুলো ঋতুর সাথে সংযুক্ত থাকত।
আল্লাহ কুরআনে স্পষ্টভাবে সময় গণনার জন্য সূর্য ও চাঁদ উভয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। চলুন কয়েকটি আয়াত বিশ্লেষণ করি:
"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো মাস, যা আল্লাহর বিধানে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির দিন থেকেই নির্ধারিত। এগুলোর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সঠিক দ্বীন। সুতরাং এ মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।" (সূরা আত-তাওবা: ৩৬)
এখানে প্রশ্ন জাগে, কেন বারো মাস? কেন এগারো বা তেরো নয়? এর কারণ হলো, পৃথিবীর সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণের সময়কালে সর্বোচ্চ ১২টি চান্দ্র মাস থাকে। সৌর বছর ও ১২ চান্দ্র মাসের মধ্যে পার্থক্য হিসেবে ১১ দিন অবশিষ্ট থাকে, যা হিসাব করা অত্যন্ত জরুরি। এই দিনগুলো হিসাব না করলে মাসগুলো ঋতু জুড়ে স্থানান্তরিত হতে থাকে।
২. সূর্য ও চাঁদের দ্বৈত ভূমিকা:
"তিনিই সূর্যকে উজ্জ্বল আলো এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য মনযিল (অবস্থানসমূহ) নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও সময়ের হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এগুলো সত্য ও ন্যায়সঙ্গত ভিন্ন সৃষ্টি করেননি। তিনি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন তাদের জন্য যারা জানে।" (সূরা ইউনুস: ৫)
এই আয়াতে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আল্লাহ চাঁদের 'মনাযিল' (অবস্থান) নির্ধারণের কথা বলেছেন, যা নক্ষত্রপুঞ্জের সাপেক্ষে চাঁদের অবস্থানকে নির্দেশ করে। এটি চাঁদের কলার সাথে সম্পর্কিত নয়। আরবরা নক্ষত্রপুঞ্জের সাথে চাঁদের অবস্থান দেখে বছরের সময় নির্ণয় করত।
"আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর আমি রাতের নিদর্শনকে মুছে দিয়েছি এবং দিনের নিদর্শনকে দৃষ্টিগোচর করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পার। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ১২)
উপরোক্ত তিনটি আয়াতই স্পষ্টভাবে সময় গণনার জন্য সূর্য ও চাঁদ উভয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। কিন্তু বর্তমান হিজরি ক্যালেন্ডারে আমরা সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে শুধু চাঁদের ওপর নির্ভরশীল, যার ফলস্বরূপ মাসগুলো ঋতু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
মাসের নাম ও তাদের ঋতুভিত্তিক অর্থ:
হিজরি মাসগুলোর নাম থেকেই বোঝা যায় যে এগুলো নির্দিষ্ট ঋতুর সাথে সংযুক্ত ছিল:
১. রবিউল আউয়াল ও রবিউস সানি: আরবি 'রবি' অর্থ বসন্ত। এই দুটি মাস পরপর আসে এবং তাদের নাম থেকেই বোঝায় যে এগুলো উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল চিহ্নিত করত।
২. জুমাদাল উলা ও জুমাদাস সানি: 'জুমাদা' শব্দের অর্থ আরবি অভিধানে হলো "পানির অভাব" বা "দুধহীন উট", যা বৃষ্টিপাতহীন গ্রীষ্মকালের ইঙ্গিত দেয়। এগুলো বসন্তের পর গ্রীষ্মকাল নির্দেশ করত।
৩. শা'বান: এর অর্থ হলো যখন বিভিন্ন গোত্র পানি সন্ধানে পাহাড়ের সরু পথে ছড়িয়ে পড়ে। এটি পানির সন্ধানের সময়কে ইঙ্গিত করে।
৪. রমজান: এটি 'রময' বা 'রমাদা' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো গরম মাটিতে প্রথম বৃষ্টি পড়া। এটি গ্রীষ্মের শেষ ও শরতের প্রথম বৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়। সীরাতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কাদা-পানির মাঝে সিজদা অবস্থায় লাইলাতুল কদর প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা ইঙ্গিত করে যে সে মাসে বৃষ্টি হতো।
৫. শাওয়াল: এর অর্থ উটের প্রজননের সময়, যা নির্দিষ্ট ঋতু নির্দেশ করে।
৬. জ্বিলকদ: 'কুদু' অর্থ বসে থাকা বা স্থির থাকা। এটি ছিল সেই সময় যখন উপজাতিরা ভ্রমণ বন্ধ রাখত এবং ঋতুজনিত প্রবল বাতাসের কারণে তাঁবু স্থাপনে অসুবিধা হতো।
১. তাবুকের যুদ্ধ (৯ম হিজরি)
কুরআনে তাবুকের যুদ্ধ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
"যারা পিছনে রয়ে গেল তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সফরে না গিয়ে নিজেদের অবস্থানেই আনন্দিত হল। তারা আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে জিহাদ করতে অপছন্দ করল এবং বলল, 'তোমরা এই গরমে বের হয়ো না।' বলুন, 'জাহান্নামের আগুন আরও বেশি গরম।' যদি তারা বুঝত।" (সূরা আত-তাওবা: ৮১)
তাফসির গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ আছে যে এই যুদ্ধটি ৭ম চান্দ্র মাস রজবে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান হিজরি-জুলিয়ান অনলাইন কনভার্টার অনুযায়ী ৯ম হিজরির রজব মাস পড়ে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে। অক্টোবর-নভেম্বর আরবের গরমের সময় নয়। এর অর্থ হলো, কনভার্টারটি ভুল নয় বরং এতে লিপ মাসের হিসাব নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে রজব মাস গ্রীষ্মের মাঝামাঝি (আগস্টের কাছাকাছি) সময়ে পড়ত।
২. ইয়ারমুকের যুদ্ধ (১৫তম হিজরি):
মুসলিম ও রোমান উভয় সভ্যতার দ্বারা লিপিবদ্ধ এই যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল ১৫তম হিজরির রজব মাসে। রোমানরা এই যুদ্ধের তারিখ জানুয়ারি/আগস্ট উল্লেখ করেছিল। ৬ বছর আগে রজব গ্রীষ্মে ছিল, ৬ বছর পরেও রজব গ্রীষ্মেই আছে। এটি প্রমাণ করে যে তখনও লিপ মাস যোগ করার প্রথা ছিল, যা মাসগুলোকে ঋতুর সাথে সংযুক্ত রাখত।
৩. বদরের যুদ্ধ (২য় হিজরি):
বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ২য় হিজরির ১৭ই রমজান। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই যুদ্ধটি মক্কার গ্রীষ্মকালীন বাণিজ্য কাফেলা (যা সিরিয়া থেকে ফিরছিল) ফেরার সময় সংঘটিত হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন কাফেলা শরৎকালে ফিরে আসে। বর্তমান কনভার্টার অনুযায়ী ২য় হিজরির ১৭ই রমজান পড়ে মার্চ মাসে, যা শরৎ নয়। এটি আরেকটি প্রমাণ যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে রমজান শরৎকালে পড়ত।
নাসি' (স্থগিতকরণ) আয়াতের ব্যাখ্যা:
অনেকে প্রশ্ন করেন, কেন মুসলমানরা এই লিপ মাস যোগ করা বন্ধ করে দিল? এ প্রসঙ্গে কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করা হয়:
"নিশ্চয়ই নাসি' (সময় স্থগিতকরণ) কুফরের বৃদ্ধি মাত্র, যা দ্বারা কাফেরদের পথভ্রষ্ট করা হয়। তারা একে এক বছর হালাল করে এবং অন্য বছর হারাম করে, যাতে তারা আল্লাহ যে মাস হারাম করেছেন তার সংখ্যা পূরণ করে।" (সূরা আত-তাওবা: ৩৭)
এই আয়াতে নাসি' বলতে কাফেরদের সেই প্রথাকে নির্দেশ করা হয়েছে যেখানে তারা সম্মানিত মাসগুলোর মর্যাদা পরিবর্তন করত। এটি ক্যালেন্ডার সংশোধন বা লিপ মাস যোগ করার নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং এটি ছিল সম্মানিত মাসগুলোর সাথে খেলার বিষয়।
গবেষণা থেকে জানা যায়, সম্ভবত ১৭তম হিজরিতে উমর (রা.)-এর সময় বা উমাইয়াদের শাসনামলে এই প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। এটি নাসি' আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা বা ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ ছিল কিনা, আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় লিপ মাস যোগ করার প্রথা সক্রিয় ছিল।
যদি আমরা লিপ মাস পুনঃপ্রবর্তন করি, তাহলে রমজানের চাঁদ হবে বিষুব (ইকুইনক্স) এর সময়, যখন সারা বিশ্বে দিন ও রাত প্রায় সমান হয় (১১-১৩ ঘন্টা)। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ উভয় ক্ষেত্রেই আবহাওয়া থাকবে মৃদু। এটি বর্তমান চরম অসুবিধাগুলো দূর করবে, যেমন যুক্তরাজ্যের মতো দেশে যেখানে সেহরি ও ইফতারের মধ্যে মাত্র ৪ ঘন্টা সময় থাকে, অথবা সূর্য না ডোবা দেশগুলোর সমস্যা।
গবেষক ও চিন্তাবিদ ওয়াসসাম আদ-দ্বীন ইশাক এই লিপ মাস পুনঃপ্রবর্তনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার তৈরি করেছেন, যা ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২১০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল জুড়ে রয়েছে। এই ক্যালেন্ডার অনুসারে, রমজানের চাঁদ হবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের দিকে, যখন বিষুব সংঘটিত হয়।
এটি স্মরণ রাখা জরুরি যে, আমরা চাঁদ দেখা বন্ধ করছি না, বরং আমরা কোন চাঁদটি দেখছি তা সঠিকভাবে জানতে পারছি। ক্যালেন্ডার সংশোধন সাধারণত একটি রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়েও আমরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে পারি।
উপস্থাপিত প্রমাণগুলো - কুরআনের আয়াত, মাসের নামের অর্থ, ঐতিহাসিক ঘটনা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ - সব মিলিয়ে একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে চান্দ্র মাসগুলো ঋতু জুড়ে স্থানান্তরিত হতো না; বরং লিপ মাস যোগ করে এগুলো ঋতুর সাথে সংযুক্ত রাখা হতো।
আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, রোজা সংক্রান্ত আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং কঠিন চান না" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। যখন আমরা ২০ ঘন্টা রোজা রাখি বা ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রোজা রাখি, তখন এটি আল্লাহর ইচ্ছা নয় বরং ক্যালেন্ডার সংশোধনের অভাবের ফল।
আমাদের উচিত এই বিষয়ে আরও গবেষণা করা, জানা-বোঝার চেষ্টা করা এবং সঠিক পথ অনুসন্ধান করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "প্রত্যেক আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল" (বুখারী, মুসলিম)। আমাদের নিয়ত থাকা উচিত সত্য জানার এবং সেই অনুযায়ী আমল করার।
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন।