🟩 মৃত্যু ও জীবন: এক ভিন্নধর্মী দৃষ্টিকোণ
❌ অনুগ্রহ করে যে যার মতো গবেষণা করবেন। এই লেখাটির কথা চূড়ান্ত ধরে নেবেন না, প্লীজ।
কুরআন আমাদেরকে এমন অনেক বিষয় উপলব্ধির সুযোগ দেয়, যা সাধারণভাবে আমরা খুব কম বা ভিন্নভাবে ভেবে থাকি। ৬৭:২ আয়াতের আলোকে আমি একটি ব্যক্তিগত ধারণা উপস্থাপন করতে চাই।
সুরা মুলক (৬৭:২)
"তিনি সেই, যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন — যাতে তোমরা নিজেদের পরীক্ষা করো এবং নিজের চরিত্র ও প্রকৃতি প্রকাশ করে জানতে পারো—তোমাদের মধ্যে কে উত্তম কর্মে সর্বোত্তম; আর তিনি পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
আমরা সাধারণভাবে মৃত্যু ও জীবনকে শুধুমাত্র জন্ম-মরণ বা শারীরিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু আয়াতটি একটু ভিন্নভাবে দেখলে একটি গভীর অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় কি?
মৃত্যু: এখানে মৃত্যু মানে মহাশূন্য বা “nothing” সৃষ্টি করা। একটি শূন্যতা বা ফাঁক যা কিছু নেই, কিন্তু যা কিছুকে ধারণ করার জন্য অপরিহার্য।
জীবন: জীবন মানে মহাবিশ্বের সমস্ত “things” বা সৃষ্টিকে প্রাণ দেওয়া। অর্থাৎ মহাশূন্যের মধ্যে আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকে স্থাপন করেন এবং সেই স্থাপনা দ্বারা মহাবিশ্বে জীবনের বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
🟩 প্রাথমিক মহাশূন্যের পরের ধাপ
সূরা আল-আনবিয়া (২১:৩০)
"অতীতকালেই যারা অবিশ্বাসী, তারা কি দেখেছে না যে আসমান ও জমিন একত্রিত ছিল এবং আমরা তা আলাদা করেছি? এবং আমরা জল থেকে সব কিছু জীবিত করেছি।"
▪️প্রাথমিক মহাশূন্যের পরের ধাপ হলো আসমান ও জমিনকে আলাদা করা, অর্থাৎ মহাশূন্যকে সৃষ্টির জন্য কাঠামোগতভাবে বিভক্ত করা।
▪️আসমানকে এমন একটি “ছাদ” বা সীমা হিসেবে ভাবা যেতে পারে যা মহাশূন্য এবং জমিনকে ধারণ করেছে।
▪️এই সীমার মধ্যে সময় এবং সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র, উপগ্রহ—অর্থাৎ পুরো মহাকাশের সৃষ্টিগুলো অন্তর্ভুক্ত।
সূরা ফুসসিলাত (৪১:৯-১২)
বল, ‘তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি দু’দিনে যমীন সৃষ্টি করেছেন? আর তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ বানাতে চাচ্ছ? তিনিই সৃষ্টিকুলের রব’।
আর তার উপরিভাগে তিনি দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, আর তাতে চারদিনে প্রার্থীদের জন্য সমভাবে খাদ্য নিরূপণ করে দিয়েছেন।
তারপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করেন। তা ছিল ধোঁয়া। তারপর তিনি আসমান ও যমীনকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় আস’। তারা উভয়ে বলল, ‘আমরা অনুগত হয়ে আসলাম’।
তারপর তিনি দু’দিনে আসমানসমূহকে সাত আসমানে পরিণত করলেন। আর প্রত্যেক আসমানে তার কার্যাবলী ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন। আর আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপমালার দ্বারা সুসজ্জিত করেছি আর সুরক্ষিত করেছি। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ।
সুরা আরাফ (৭:৫৪)
নিশ্চয় তোমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশে উঠেছেন। তিনি রাতকে দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। প্রত্যেকটি একে অপরকে দ্রুত অনুসরণ করে। আর সূর্য, চাঁদ ও তারকারাজী, যা তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। জেনে রাখ, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ মহান, যিনি সকল সৃষ্টির রব।
🧠 সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত মতামত:
▪️প্রাথমিক মহাশূন্য ও সৃষ্টি ধাপ
সূরা মুলক (৬৭:২)‑এ মৃত্যু ও জীবনের সৃষ্টি‑কথা এসেছে। এখানে “মৃত্যু” বোঝানো হতে পারে প্রাথমিক মহাশূন্য বা nothing — যা আদিতে কিছুই ছিল না কিন্তু পরবর্তী সমস্ত সৃষ্টির জন্য ভিত্তি স্থাপন করল।
▪️মহাশূন্যের পরের ধাপ – আসমান ও জমিন
৪১:৯‑১২‑এ বলা হয়েছে প্রথমে জমিনকে প্রতিস্পন্দনহীন অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে, পরবর্তীতে সেটির ওপর পর্বত, বরকত ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসম্পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ আসমানকে সেই মহাশূন্যের সংঘটিত অবস্থা থেকে ৭ স্তরের সৃষ্ট আকাশ হিসেবে পরিণত করেছেন, যার নিকটতম স্তরটি তারা, উপগ্রহ ও নক্ষত্র দিয়ে আলোকিত ও রক্ষিত হয়েছে।
▪️আসমানকে ছাদ বা বাউন্ডারি হিসেবে বোঝা
আপনার ধারণায় আসমানকে একটি ছাদ/সীমা হিসেবে দেখা হয়েছে — যা মহাশূন্য ও জমিনকে ভিতরে ধারণ করেছে এবং সেই সীমার ভেতরেই সময় ও সমস্ত গ্রহ‑নক্ষত্র‑উপগ্রহ অবস্থান করছে। এটি কুরআনিক বর্ণনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে পারে কারণ আয়াতে আসমান‑জমিনের একত্রিত অবস্থা থেকে আলাদা করা ও স্তরনির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
▪️সময় এবং সৃষ্টি‑প্রক্রিয়া
৪১:৯‑১২‑এ সময়কে “দিন” বলে বোঝানো হয়েছে, কিন্তু একে মানুষের দিনের হিসাব হিসেবে নয়, বরং সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ হিসেবে ধরা যেতে পারে। এতে দেখা যায় জমিনকে প্রস্তুত করা এবং আসমানকে স্তরবদ্ধ করা—এই ধাপ দুটি আলাদা হলেও পরস্পর সংযুক্ত। ৭:৫৪ আয়াতেও বলা হয়েছে।
☄️ এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি, যা আমি কেবল কুরআন প্রাধান্য দিয়ে ভাগ করছি। আমি চাই না এটি চূড়ান্ত ব্যাখ্যা হিসেবে ধরা হোক। কুরআন নিজেই আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয়:
সূরা মুহাম্মদ (৪৭:২৪)
"তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?"
⚫ অতএব, কেবল আয়াত পড়া নয়, তার গভীরে চিন্তা-ভাবনা করাটাই আসল লক্ষ্য।
NB: পূর্বে লিখিত নিবন্ধটি কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে। আমি প্রচলিত অনুবাদ গ্রহণ করেছি।
© আলম - ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ইং, সন্ধ্যে ৬টা ১৯মি.

